অনেকের চরিত্র চিনিয়ে দিয়ে গেলো কোটা আন্দোলন

এখনো ঢাবিতে ফাহিমিদুল হক স্যারের মত শিক্ষক আছেন, জাবিতে রেহনুমা ম্যাডামরা আছেন, রেহনুমা ম্যাডাম তাঁর ছাত্রকে একা ছাড়তে চাননি বলে নিজেও তাঁর সাথে পুলিশের ভ্যানে উঠে পড়েছেন! রাবিতে ফরিদ খান স্যার আছেন। যিনি বলেছেন, 'আর একজন সাধারণ ছাত্রের রক্ত ঝরাবার আগে আমার রক্ত ঝরিয়ে যান'!

Read More

কেনো কোটার সংস্কার চাই, কেমন কোটার সংস্কার চাই

প্রথম প্রকাশ: প্রথম আলো

সারা পৃথিবীতে সরকারি চাকরিতে কোটা রাখা হয় বৈষম্যের প্রতিকার করার জন্য। অথচ এই দেশে কোটার ব্যবস্থাপনা বৈষম্যের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছিল। বর্তমান সরকারি চাকরিতে কোটা ও মেধার অনুপাত ৫৬ বনাম ৪৪ শতাংশ। কোটার বরাদ্দ যথাক্রমে মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পোষ্যদের ৩০ শতাংশ, নারী ১০ শতাংশ, জেলা কোটা ১০ শতাংশ, আদিবাসী ৫ শতাংশ এবং প্রতিবন্ধী ১ শতাংশ। ফলে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের সুযোগ পান মাত্র ৪৪ শতাংশ। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আকবর আলি খান বলেছেন, ‘পৃথিবীর এমন কোনো দেশ খুঁজে পাওয়া যাবে না, যেখানে কোটা মেধাকে ছাপিয়ে যেতে পারে। আমরা পারছি। অর্থাৎ উল্টো যাত্রায় আমরাই প্রথম।’ read more

Read More

টিনের বাস, অচল জীবন: জবাব দেবে কে?

একদিকে দেশ ভরে যাচ্ছে প্রাপ্তির সার্টিফিকেটে আর অন্যদিকে সাধারণেরা উন্নয়নের সোনার চামচে দুবেলা গিলছে চিরতার রস। প্রতিদিন নতুন নতুন পুরস্কার যোগ হচ্ছে শোকেসে। সেই সঙ্গে চলছে উদ্‌যাপন। সড়ক বন্ধ করে চলে উদ্‌যাপন, সাধারণেরা কাজের পথে আটকে গিয়ে চৌধুরীবাড়ির রাস উৎসবের মতো দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে উদ্‌যাপন দেখে। কিছু করার নেই যে! রাস্তা বন্ধ থাকলে গণপরিবহন বন্ধ, গণপরিবহন বন্ধ হলে ব্যক্তিগত গাড়ির মালিকানাবিহীনদের অফিস তো আর বন্ধ হয় না। যার কিছু নেই, তার পা আছে। কিন্তু ‘পা’-এর ভরসায় পথে নামলেই আবার পা ভরসা রাখে না। পড়ে যায় গর্তে, উন্নয়নের বড় বড় গর্তে। জীবনযুদ্ধের আরেক নাম রাজধানীর সড়ক ও যোগাযোগব্যবস্থা। হিসাবটা কেউ কি দেবে? যুদ্ধ তবু থামার নয়। এই যুদ্ধের নাম জীবনযুদ্ধ। শনি-রবি থেকে বৃহস্পতিবার রাস্তার দিকে তাকালেই চোখে পড়ে এই যুদ্ধ। একটা বাসে ওঠার জন্য যুদ্ধ, একটা সিটের জন্য যুদ্ধ, ৫ টাকা ভাংতির জন্য যুদ্ধ, বাস থেকে নামার জন্য যুদ্ধ, রাস্তা পারাপারের যুদ্ধ। এই যুদ্ধে জিতলে ঠিক সময়ে পৌঁছে যাওয়া যায় পরীক্ষার হলে, পাওয়া যায় এ প্লাস-গোল্ডেন। আর হেরে গেলে দুই হাজার টাকায় সরকারি চাকরির ফরম তুলে চট্টগ্রাম বা রাজশাহী থেকে পরীক্ষা দিতে আসা বেকার যুবককে এক ঘণ্টা দেরিতে আসায় ছলছল চোখে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় পরীক্ষার হলের গেটে। চাকরিটা এবারও হলো না! এই যুদ্ধে জিতে গেলে বসের গুডবুকে উঠে যায় নাম, বছর শেষে কয়টা টাকা বেশি বেতন বাড়লে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে কিছুটা তাল মেলানো যায়। হেরে গেলে সংসার-সন্তান, পরিবার নিয়ে পথে দাঁড়াতে হয়। এই যুদ্ধ তাই গুরুত্বপূর্ণ, একে এড়ানো যায় না। যুদ্ধ করতে তাই আলমারিতে ঠেসে ঠেসে কাপড় ঢোকানোর মতো ঢুকে পড়তে হয় বাসের ভেতর। মাথার ওপর লম্বা রড শক্ত করে ধরে ঝুলতে ঝুলতে, সকালে ইস্তিরি করে পরে আসা জামাটা ঘামে ভিজে হলদে হয়ে যায়। গাড়ি চললে তবু কিছুটা রেহাই, মাথার ওপর নষ্ট ফ্যান নিয়ে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য দাঁড়িয়ে থাকার কষ্ট কাউকে বোঝানো যায় না। এত যানজট, রাস্তায় এত এত গাড়ি, তবু বাদুড়-ঝোলাই নিয়তি! বিশ্বব্যাংকের তথ্য, যানজটের কারণে রাজধানী ঢাকায় প্রতিদিন ৩২ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। আর যানজটের কারণে বছরে যে আর্থিক ক্ষতি হয়, অঙ্কের হিসাবে তা প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা। ব্যক্তিগতভাবে একজন যাত্রীর জীবনের ক্ষতি, আয়ের ক্ষতি, আয়ুর ক্ষতির হিসাবটা কেউ কি দেবে? নারীর জন্য বিশেষ পুরস্কার! এ তো গেল সর্বজনীন ভোগান্তি। যাত্রীটি নারী হলে ভোগান্তির চিত্র অনেকখানি বদলে যায়। ‘ভিক্ষা হবে না’ বলে বড়লোকের বাড়ির দরজা বন্ধ হয়ে যায়, তেমনি ‘সিট নাই’ বলে বাসের দরজা বন্ধ হয়—নারী যাত্রীটি হয়তো তখন গাড়ির পাশে পাশে দৌড়াচ্ছে। যেন নারীদের অফিসে যাওয়ার তাড়া থাকতে পারে না, যেন নারী রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে পারে, কিন্তু বাসে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না! আবার কোনোমতে একবার বাসে উঠে গেলে এবং সিট না পেলে সোনায় সোহাগা। চালকের সহযোগী ভিড় ঠেলে ভাড়া তোলার সময় সচেতনভাবেই ছুঁয়ে যায় নারী শরীর। কম যান না কোনো কোনো সহযাত্রীও। ব্রেক থেকে ব্রেক শুধু একটু সুযোগের অপেক্ষা। একটা ব্রেক কষলেই গা ছেড়ে দেবে সহযাত্রী নারীটির গায়ের ওপর, বুঝুক নারী হয়ে পুরুষের মতো ঝুলে ঝুলে অফিসে যাওয়ার মজা! বাসের ভেতরের নির্দিষ্ট স্বভাবের পুরুষ যাত্রীরা দৃষ্টিসীমার মধ্যে থাকা নারীকে হয়রানি করতে লেগে পড়েন প্রতিযোগিতায়। কখনো সিট ছেড়ে দেন নারীটির জন্য। হয়রানি এড়াতে কৃতজ্ঞচিত্তে সিটে বসে পড়লে শুরু হয় পরবর্তী পর্বের হয়রানি। কাঁধের কাছে পুরুষ তাঁর শরীরের নিম্নাংশ ছুঁইয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন, ভয়ে-লজ্জায় কুঁকড়ে যান সহযাত্রী নারী। মুখ খোলা যাবে না, কিছুক্ষণ আগেই যে তাঁরই সিটে তিনি বসে পড়েছেন! পুরুষ যাত্রীটি নারীর এই অস্বস্তি টের পান আর মহাভারতের দুর্যোধনের মতো মনে মনে বলে ওঠেনম ‘বিনা যুদ্ধে নাহি দেব সূচ্যগ্র মেদিনী!’ প্রতিদিন খবর আসে অফিসের পিক টাইমে পিঁপড়ার সারির মতো যানবাহন একটু নড়তে নড়তে যখন যাত্রীকে গন্তব্যে নামিয়ে দেওয়ার কথা, তখন পেছনের গাড়িগুলোর ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায়। তারপর খবর আর গল্প লেখা হয়, রাজীব অথবা রোজিনা কিংবা হৃদয় শেখের নামে। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত সারা দেশে ১ হাজার ৭৭৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১ হাজার ৮৪১ জনের প্রাণহানি ও ৫ হাজার ৪৭৭ জন আহত হয়েছে। পঙ্গু হয়েছে ২৮৮ জন। এসব কম দামি জীবন ও দুর্ঘটনা বিষয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেছেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনার জন্য সড়ক ব্যবস্থাপনা নয়, দায়ী হচ্ছে পরিবহন ব্যবস্থাপনা।’ আবার একই সরকারের অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ‘সড়কের বেহাল দশার কারণে অনবরত দুর্ঘটনা ঘটে চলেছে।’ জিজ্ঞাসা করলে শোনা যায়, ‘কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়!’ এই হলো নারী যাত্রীদের অবস্থা শাস্তির নাম ‘জনসেবা’ রাজধানীর উন্নয়নে সাতটি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যুক্ত অন্তত ৫৬টি সেবা সংস্থা। ৫৬ রকম সেবা কতটা পাই, ৫৬ রকম ভোগান্তির আর বাকি নেই। কেউ খুঁড়ছে, তো কেউ বোজাচ্ছে, কেউ কাটছে, কেউ আটকাচ্ছে, কেউ উদাসীন। যুক্তরাজ্যভিত্তিক ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) জরিপ অনুযায়ী, বিশ্বে বসবাসের অযোগ্য শহরের ১৪০টি শহরের মধ্যে রাজধানী ঢাকার অবস্থান ১৩৭ তম। আর এর বড় কারণ, রাজধানীর বেহাল রাস্তাঘাট। নিউইয়র্কের গবেষণা সংস্থা মারসার কনসালটিং গ্রুপের জরিপ প্রতিবেদনে বলেছে, বিশ্বের ২২৩টি শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান ২০৮তম স্থানে। নিকৃষ্ট শহরের মধ্যে এশিয়ায় ঢাকার অবস্থান দ্বিতীয়। আর এই বসবাসের অযোগ্য শহরে প্রতিদিন যোগ হচ্ছে টাকা, স্বপ্ন, ক্যারিয়ার ধরতে আসা নতুন মাথা। পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যে গত বছর ঢাকায় প্রতিদিন যুক্ত হওয়া এই নতুন মাথার সংখ্যা ছিল প্রায় ১ হাজার ৭০০। বন্ধ দরজাটা খুলবে না? খবর আসছে, মেট্রোরেল নামের জনগণের নিত্যকার ভোগান্তির সূতিকাগার এই দুঃস্বপ্ন নির্মাণ সম্পন্ন হলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। রাস্তায় কোনো যানজট থাকবে না, ধুলোবালু থাকবে না, গণপরিবহনের সংকট থাকবে না, সময়ের অপচয় থাকবে না, গাদাগাদি-ভিড় থাকবে না। কিন্তু প্রতিদিন যে হারে নতুন মুখের সংখ্যা বাড়ছে, তাতে বাস্তব চিত্র ভিন্ন কথা বলে। মাথাপিছু ডলারের পরিমাণ বাড়তে বাড়তে আকাশ ছোঁবে আর যারা এই উন্নয়নের ঘানি টানে, তাদের ঘাড়ের জোয়াল আরও ভারী হবে। রাস্তায় লম্বা হবে স্বপ্ন ধরতে আসা অন্ধ মানুষের ভিড়, মৃতের মিছিল। বন্ধ দরজার সামনে অন্ধ ভরসা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা জীবনযুদ্ধে ক্লান্ত মানুষগুলো। তাদের জীবনেও একটা জাদুর দরজা খুলে যাক তবু। উন্নয়ন কেবল উন্নতদের গৃহবন্দী হয়ে না থেকে ছড়িয়ে পড়ুক এই শহরের কানাগলি, ঘুপচি রাস্তা আর ২৫-৩০ কিলোমিটার যানজটের মহাসড়কেও! বীথি সপ্তর্ষি: লেখক ও সাংবাদিক। [email protected] প্রথম প্রকাশঃ

প্রথম আলো read more

Read More

চট্টগ্রামে হেপাটাইটিস মহামারির দায় কার?

লিখেছেন জিয়া হাসান গত দিন একটা ভাইরাল হওয়া স্ট্যাটাস পড়লাম। Hussain Rifat হুসাইন রিফাত নামের একজন তরুনের লেখাটা প্রায় ১০ হাজার বার শেয়ার হয়েছে। সেখানে তিনি লিখেছেন,
“এটেনশন হালিশহরবাসী YOU ARE AT RISK ! 📷📷📷⚠
Sadia Zafor এর আম্মু ঈদের কিছুদিন আগে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে । ভর্তি করানোর পর পাওয়া যায় হেপাটাইটিস ই পজিটিভ । ICU তে নেয়ার তিনদিনের দিন আন্টি মারা যান। কারণ ছিল Cardio Respiratory Failure । সুস্থ একজন মানুষ তিনদিনের মধ্যে আর পৃথিবীতে নেই ব্যাপারটা ওর জন্যে আর ওর ফ্যামিলির জন্যে মেনে নেয়া টাফ ছিল । আমরাও এটাকে শুধুমাত্র এক্সিডেন্টাল ডেথ ধরে নিতে পারতাম ঠিক তখনই গতকাল Iftekhar Jitt ভাইয়ার সট্যাটাসে দেখলাম ইস্ট ডেল্টার Yeassir Arafat Babon ভাইয়ের মৃত্যুর খবর । এরপর আরো আরো এবং আরো আসতে লাগলো । – সবার মৃত্যুর ধরণ প্রায় একই। হেপাটাইটিস ই ধরা পড়ছে। আর কিছুদিনের মধ্যে লিভার ফেইলিউর হচ্ছে কার্ডিয়াক এরেস্ট হচ্ছে। – চট্টগ্রামের হালিশহর সহ এর আশপাশের এলাকাটা যেন এখন একটা সাইলেন্ট কিলিং মিশনে নেমেছে । ঠিক একমাস আগেই এই এলাকার মানুষ ওয়াসার পানি খেয়ে দলে দলে হস্পিটাল ছিল । একটা ফ্যামিলির দুই তিনজন হস্পিটাল । কে কাকে দেখবে তার যেন কোন ঠিক ঠিকানা নেই। মা, মেয়ে, বাবা সবাই একই রোগে হস্পিটাল । – আর এই এক মাস এটার একশন না নেয়ায় একমাস পর গিয়ে এটা এতোটাই প্রভাব বিস্তার করে ব্যাপারটা এমন হয়ে দাঁড়ালো যে আজ আপনার জন্ডিস ধরা পড়ছে আর দুই তিনদিনের মধ্যে কার্ডিয়াক এরেস্ট হচ্ছে । – অন্যান্য দেশে এমন হলে জরুরী অবস্থা ঘোষণা করা হয়। সব ধরণের স্টেপ নেয়া হয়। কিন্তু আমাদের দেশে সবাই সবার পিঠ বাঁচাতে ব্যাস্ত। – সবাই নেইমার আর মেসির গোল নিয়ে ব্যস্ত । সবাই সেভেন আপ আর থ্রি পিস নিয়ে স্ট্যাটাসে ব্যস্ত । আমরা দিন দিন মানুষ কম রোবট হচ্ছি। – যে মরবে মরুক আমি তো মরছি না। যার মরবে মরুক আমার তো কেউ মরছে না। ———- আমি এটাও জানিনা কেন এতো সিরিয়াস একটা ইস্যুকে চট্টগ্রামের মানুষেরা এখনো পর্যন্ত কেন অথরিটির এটেনশনে আনতে পারে নি বা নিজেরা এতোদিন ধরে সিরিয়াস ভাবে নেই নি । – আমি শুধু এটা জানি কাল ভিক্টিম আপনি হবেন কিংবা কাল ভিক্টিম আমি নিজেই হবো । – একজন দেশের নাগরিককে যদি ওয়াসা বিশুদ্ধ পানি দিতেই না পারবে তাহলে ঘোষনা দিয়ে দিক যে আজ থেকে ওয়াসার পানি খাওয়া বন্ধ করে দিন । – এভাবে একের পর এক কারো মা, কারো বাবা বা কারো ভাইকে সাইলেন্ট ভাবে মারার অধিকার কারো থাকতে পারে না। – আমার ফ্রেন্ডলিস্টের কেউ আপনারা যারা হালিশহর বা এর আশে পাশের এলাকায় থাকেন প্লিজ দয়া করে পানি খাবেন না । যদি একান্ত সম্ভব না হয় টেস্ট করিয়ে নিন। নিজের শরীর চেক আপ করিয়ে নিন। আপনার পরিচিত কেউ যদি এসব ইফেক্টেড এরিয়াতে থাকে তাকে জানিয়ে দিন । – -. আমি আন্টির কিছু ডকুমেন্টের ছবি আর ডেথ সার্টিফিকেট আপলোড করলাম ।”এই লেখাটা ভাইরাল হওয়ার পূর্ব থেকেই আমার চট্টগ্রামের বিভিন্ন বন্ধুর কাছ থেকে হালিশহরে পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাবের কথা পাচ্ছিলাম। গুগল সার্চ করে দেখলাম হালিশহরে বিগত কয়েক মাস ধরে হেপাটাইটিস ই রোগ মহামারীর মত ছড়িয়ে যাওয়ার সমস্যাটি নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে কিন্ত সমস্যাটির গোঁড়ায় সরকার হাত দেয়নি বরং ওয়াসা, সিভিল সারজেন্ট সহ বিভিন্ন এন্টিটি বিভিন্ন ভাবে সমস্যাটিকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে এবং দায়িত্ব নিতে হবে মূল প্রশ্নটিকে এখনো এড্রেস করেনি। হেপাটাইটিস ই রোগটা সম্পর্কে আমরা প্রথমে জেনে নেই। Hepatitis E is an enterically transmitted infection that is typically self-limited. [1, 2] It is caused by the hepatitis E virus (HEV) and is spread by fecally contaminated water within endemic areas or through the consumption of uncooked or undercooked meat. হেপাটাইটিস ই পরিপাকতন্ত্রবাহি একটি ভাইরাস মানুষের মধ্যেই আটকে থাকে। এইটা মূলত গু মিস্রিত পানি পান করলে বা কাচা মাংস বা অল্প কাচা মাংস খেলে হয়। তাই আমরা দেখতে পাচ্ছি হেপাটাইটিস ই সাধারণত আর কোন ভাবে সংক্রমিত হয়না। এইটা মূলত সংক্রমিত পানি মান গু মিশ্রিত পান করলেই ছড়ায়।
কিন্ত হালিশহরে যে হেপাটাইটিস ই এর প্রভাবে মহামারী হচ্ছে সেইটা প্রথম থেকেই চট্টগ্রামের সিভিল সারজেন্ট এবং সরকারী সংস্থা এবং চট্টগ্রাম ওয়াসা অস্বীকার করে গ্যাছে।
এই নিয়ে আমরা ইত্তেফাকের ৩ মে এর একটি রিপোর্ট থেকে কিছু তথ্য দেখি। http://www.ittefaq.com.bd/print-edition/first-page/2018/05/03/274569.htmlসীতাকুন্ডের ফৌজদারহাট এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকসাস ডিজিসেস (বিআইটিআইডি) হাসপাতালের সিভিল সার্জন জানান, গত এপ্রিল মাসে ৯০০ জন রোগী পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ৩০০ জন এসেছে হালিশহর এলাকা থেকে। এর মধ্যে হেপাটাইটিস-ই ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন ১২ জন রোগী। গত ১৫ দিনে ২২ জন আক্রান্ত হয়ে আমাদের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। স্যুয়ারেজ সিস্টেমের সমস্যায় এলাকায় এই রোগে প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে বলে মনে হচ্ছে।’ এই প্রাদুর্ভাবের কারণে, শুধু মাত্র বিআইটীডিতে হালিশহর এলাকার ৩০০ জন লোক চিকিৎসা নিলেও, অবস্থা ছিল আরো ভয়াবহ। ২০ মে এর জুগান্তরের রিপোর্ট আমরা দেখি, “ হালিশহর এলাকায় অবস্থিত বেসরকারি ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের দেয়া তথ্য মতে, গত এক মাস ধরে হালিশহরে জন্ডিস ও ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দেয়ার পর থেকে কোনো কোনো পরিবারে তিন থেকে পাঁচজন সদস্য হেপাটাইটিস ‘ই’ ভাইরাসে আক্রান্ত রয়েছে। এরা সবুজবাগ, কালীবাড়ি, আবদুরপাড়া, নয়াবাজার, এ-ব্লক, বি-ব্লক, আই-ব্লক ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দা।”চট্টগ্রাম শহরের বুকে একদম শহরের বাসিন্দাদের মধ্যে মহামারী আকারে এই রোগ ছড়িয়ে পড়ার নিউজ রিপোর্ট সিভিল সার্জনের টনক নরড়ে এবং এই নিয়ে ঢাকার রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পাঁচ সদস্যের গবেষক দল হালিশহরের সবুজবাগ এবং এর আশেপাশের এলাকায় জন্ডিস আক্রান্ত রোগীদের রক্ত এবং ওইসব এলাকার পানির নমুনা সংগ্রহ করেন। এবং ১১ মের বিভিন্ন পত্রিকা রিপোর্ট থেকে দেখা যায়,

আইইডিসিআর সহকারি অধ্যাপক ডা. মনজুর হোসাইন খাঁন বলেন, আমরা কিছুদিন আগে হালিশহরের ৩১জন বাসিন্দার রক্ত ও সেখানকার পানি সংগ্রহ করি। সেগুলো পরীক্ষা করে বাসিন্দাদের রক্তে হেপাটাইসিস-ই ভাইরাস পাওয়া গেছে। আমরা রিপোর্টগুলো পাঠিয়েছি। read more

Read More

একরাম হত্যাকান্ড নিয়ে কিছু হারিয়ে যাওয়া প্রশ্ন

একতরফা গুলি! ধর ধর– খোসাগুলা দে রিলোড… গুলি (একই বন্দুক) হইসে আর লাগবে না খোসাগুলা দে। কয় রাউন্ড? দশ রাউন্ড। বাইকে আরেকটু দিতে হবে। বাইকে আরেকটু মারতে হবে। এতো দূরে না। আশেপাশে তিনটা ফালায় রাখ! হাতে তো পিস্তল… পকেটে দিয়া দে… ওইপাশে দুইটা দে… কোন সিনেমার চিত্রনাট্য নয়, বরং বাস্তব জীবনে ঘটে যাওয়া কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যাকান্ডের পর তার পরিবারের কাছ থেকে পাওয়া অডিও ক্লিপ থেকে শোনা কিছু কথা। প্রথম গুলিগুলো চলার পরবর্তী সময়ে এই অংশটি অধিকাংশ মানুষই মনোযোগ দিয়ে শোনেননি অথবা মনের ভারে শুনতে পারেননি। তবে একটু কষ্ট উপেক্ষা করে এই অংশটুকু শুনলেই বুঝতে পারা যাবে ঠিক নাটকের সেট ডিজাইনের মতন করে একরামুল হককে হত্যার পরে সেই ক্রাইম সিনটিকে বন্দুকযুদ্ধ হিসেবে দেখানোর জন্যে একের পর এক উপকরণ দিয়ে সাজানো হয়েছিলো। র‍্যাবের ভাষ্যমতে তারা ঘটনাস্থল থেকে পরবর্তীতে দশ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট, একটি পিস্তল, একটি শটগান, কিছু খরচ হওয়া গুলি ও খোসা উদ্ধার করেছেন। কে জানে এই গুলিগুলোর মোট সংখ্যা দশ রাউন্ড কিনা? কে জানে ওই দশ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেটের মধ্যে কতোগুলো একরাম সাহেবের পকেটে পাওয়া গিয়েছিলো আর কতোগুলো পাওয়া গিয়েছিলো তার আশেপাশে ছড়ানো? আমরা জানিনা, কারণ আমরা ভিন্ন একটি বিষয়ে বিতর্কে মত্ত আছি। আমাদের বিতর্কের বিষয় হলো একরামুল হকের নির্দোষিতা বা দোষিতা। এ সপ্তাহেও কক্সবাজার যুবলীগের দুইজন নেতা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের সাথে দেখা করেছেন এবং বলেছেন যে একরাম সাহেবকে তাদের কোনদিন মাদক সেবায় জড়িত মনে হয়নি। মাননীয় মন্ত্রী মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং তারপর বলেছেন যে আকরাম নির্দোষ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। যুবলীগের নেতারাও চেয়ে এসেছেন আকরামের নামে কুৎসা রটানো লোকেদের জন্যে শাস্তি। কিন্তু কেউ কি দেখছেনা যে অডিও রেকর্ডিংটিতে সবচেয়ে তীব্র যে প্রমাণটি রয়েছে সেটি হলো পুলিশ আর র‍্যাবের শঠতার? তাতে কি বোঝা যায়না যে “বন্দুকযুদ্ধ” বিষয়টি সম্পূর্ণ বানোয়াট এবং একপেশে গুলি করে মাদক ছড়িয়ে রেখে মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে? কেউ দোষী বা নির্দোষ হোক না কেন, তাকে মধ্যরাতে তার পরিবারের কাছে থেকে আলাদা করে এভাবে গুলি করে ফেলে দেয়ার অধিকার কি বাংলাদেশের সংবিধান তার আইন প্রণয়নকারী সংস্থাকে দেয়? এই রাষ্ট্রে কি তবে হত্যা শেষ হবার পরে মৃত ব্যক্তি দোষী প্রমাণিত হলে তার হত্যাকারীদের দায়মুক্তি দেবার নতুন বিধান জারি হয়েছে? নাটক সাজানোর জন্যে কি র‍্যাবের কারো বিচার হবে? সেই মেজরের কি বিচার হবে, একরামুলকে তার ভাষ্যমতে যিনি ডেকে নিয়ে গিয়েছিলেন? সেই মেজর কি প্রমাণ দিতে পারবেন যে তার সাথে দেখা করতে আসার সময় একরাম একহাতে শটগান, আরেকহাতে পিস্তল আর পকেটভর্তি ইয়াবা নিয়ে হেঁটে এসেছিলেন? আর যদি একরাম মেজরের কথা, বা টিএনও অফিসের কথা বা লীলায় জরুরি কাজে যাবার কথা সবই বানিয়ে বলে থাকেন-তাহলে র‍্যাব কি প্রমাণ দিতে পারবে যে পুলিশের সাইরেনের আওয়াজ ছাপিয়ে যারা অস্ত্র আর ইয়াবা ছড়ানোর সম্ভাব্য নির্দেশ দিচ্ছেন তারা তাদের কোন লোক নয়? আর যদি না পারেন, তাহলে কেন এই হত্যাকান্ডে জড়িত র‍্যাবের সদস্যদের ফৌজদারী আইনে বিচার হবেনা? যদি ঘটনাস্থল সাজানোর নির্দেশ কোন উপর মহল থেকে এসে থাকে তাহলে তাদেরও বা কেন বিচার হবেনা? যদি এই হত্যাটি সাজানো হত্যা হয়ে থাকে, তাহলে আর কোন কোন হত্যা সাজানো হত্যা হতে পারে সেটা নিয়ে কেনো কোন স্বাধীন তদন্ত হবেনা? এতোদিন সকলের ধারণা ছিলো যে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনাগুলোতে যুদ্ধ কিছুই হয়না বরং কেবল একপেশে গুলি করে তার দায় এড়ানোর জন্যে নাটক সাজানো হয়। এখন যখন তার একটি অত্যন্ত শক্তিশালী প্রমাণ আমাদের হাতে এসে পৌঁছেছে-তখন আমরা এই মিথ্যাচার এবং সম্ভাব্য ফৌজদারী অপরাধের জন্যে আমাদের আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকে জবাবদিহীতার সম্মুখীন করছি না? নাকি আমরা জাতি হিসেবে মেনেই নিয়েছি যে আমাদের বাহিনীগুলো একেকটা কিলিং স্কোয়াড হয়ে উঠেছে? যদি একটা টিভি রিপোর্ট আর দুইটা উড়োকথায় কাউন্সিলর একরামকে অপরাধী মনে করে কারো কারো রাগ দূঃখ উবে যায়, তাহলে ওই কুখ্যাত রেকর্ডিং শুনে তারা ভুল কারণে ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। ক্ষুব্ধ হবার কারণ কেবলমাত্র এটা নয় যে র‍্যাব একজন নিরপরাধ মানুষকে ক্রসফায়ারে দিলো (কেননা আইনত প্রমাণের আগ পর্যন্ত যে কোন ব্যক্তি নির্দোষ)। ক্ষুব্ধ হবার আরো একটা বড়ো কারণ হলো বাংলাদেশের আইনশৃংখলা বাহিনী স্পষ্টতই একজন মানুষকে হত্যা করলো। নিজেদের জীবন বাচাতে তারা গুলি ছুঁড়েছে বা অভিযুক্তের সাথে বন্দুকযুদ্ধে সে পারা পড়েছে এমন কিছু নয়, বরং ঠান্ডা মাথায় একই বন্দুক দিয়ে বারবার গুলি ছোঁড়া হয়েছে কোন পালটা গুলি ছাড়াই। রেকর্ডিং-এর শেষে যেমন করে একতরফা গুলি এবং খোসা ছড়ানোর কথা শোনা যায়, তাতেই পরিষ্কার প্রমাণ পাওয়া যায় যে বন্দুকযুদ্ধের নাম দিয়ে র‍্যাব-পুলিশ আসলে মানুষ হত্যা করে বেড়াচ্ছে। তার মানে প্রমাণসহ র‍্যাব পুলিশ মিছে কথা বলছে, ক্ষমতার অপব্যবহার করছে, যে পুলিশের দিকে গুলি ছোড়েনি তাকে গুলি ছোড়ার অপবাদ দিচ্ছে। সরকার বারবার বলছেন যে একরাম যদি নিরপরাধী হয় তবে সংশ্লিষ্ট লোকেদের বিচার হবে। আমার প্রশ্ন হলো, একরাম যদি অপরাধীও হয়-তাহলেও তাকে আরো মিথ্যে অপরাধে জড়ানোর সুস্পষ্ট আইন লংঘন আর সহজ হত্যার দায়ে গুলি ছোঁড়া মানুষগুলোর বিচার হবে কিনা? নাকি বাংলাদেশের আইনে এখন একতরফাভাবে গুলি ছুঁড়ে খোসা ছড়িয়ে রাখতে বলাও জায়েজ হয়ে গেছে?

অনুপম দেবাশীষ রায়: যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও অর্থনীতির ছাত্র। read more

Read More

একরামুল হক হত্যাকাণ্ডঃ নেপথ্যে কিছু কথা

কয়েক দফা গুলির শব্দ শুনে যখন স্বামীর মৃত্যু প্রায় নিশ্চিত তখনও মেয়েদের শেষ আশাটুকু বাচিয়ে রাখার চেষ্টা করছিলেন মা। অডিওর শেষদিকে শোনা যায় তিনি শান্ত হয়ে বুঝাচ্ছিলেন “তোমার আব্বুর কিছুই হয়নি”। read more

Read More