আমি একজন রোহিঙ্গা শরণার্থী বলছি: আমরা ফিরে যেতে চাই

[শুরুর কথা: এই লেখাটা বাংলাদেশে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় গ্রহণ করা এক রোহিঙ্গার জবানবন্দী। তাঁর নাম নূর ইলিয়াস। তাঁর লেখা থেকে জানা যাচ্ছে যে তিনি শিক্ষকতা পেশার সাথে জড়িত ছিলেন। বর্তমানে আছেন জামতলা ক্যাম্পে। তাঁর কথাগুলো ২৭ আগস্ট গার্ডিয়ান পত্রিকা প্রকাশ করে ‘I am a Rohingya refugee: we will become like animals if we stay in these camps’ শিরোনামে। জবানবন্দীমূলক এই লেখা-জুড়ে আছে তাদের অতীত পরিস্থিতির সংক্ষিপ্ত বিবরণ, বর্তমান অবস্থা, তাদের কষ্টের কথা, তাদের আশার কথা, তাদের আশঙ্কার কথা। তিনি বলছেন, তারা যে কোন মূল্যে মায়ানমারে ফিরতে চান, কিন্তু অবশ্যই সেটা নাগরিকত্ব ও সকল অধিকার সহ। read more

Read More

মুক্তিফোরামে লিখবেন কেন?

“যদি তুমি ভয় পাও, তবে তুমি শেষ / যদি তুমি রুখে দাঁড়াও, তবে তুমিই বাংলাদেশ।”

এই অসাধারণ পংক্তিগুচ্ছ যিনি লিখেছেন তাকে আমরা চিনিনা। কোন একজনের মগজ থেকে সময়ের প্রয়োজনে উৎসারিত এই বাক্য দুইটি উঠে দাঁড়িয়েছে মুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্নের দাস্তান হিসেবে। এর আগেও নানান মুক্তির স্বপ্ন নানান সময়ে উঠে এসেছে জনতার ভেতর থেকে। সুবোধের ছবি ভেসে উঠেছে শহরের রাস্তায়, জয় বাংলা ধ্বনিতে গমগম করে উঠেছে দেশ, মুক্তির মতন পবিত্র নামে ঘটে গিয়েছে যুদ্ধের মতন ভয়াল ঘটনা। সেইসব ইতিহাসের নিরিখে বলতে গেলে দেখা যায় যে বাংলাদেশের ইতিহাস লিখিত হয় সময়ের প্রয়োজনে, মুহুর্তের আবেগে, উচ্চকিত কন্ঠে। মুক্তি বলতে আমরা কি বুঝি, স্বাধীনতা বলতে আমরা কি বুঝি, এমনকি স্বৈরাচার বলতে আমরা কি বুঝি তা কোন বইয়ের পাতা পড়ে জানা যায়না এই দেশে। তা বুঝতে গেলে কান পাততে হয় সড়কে, চায়ের দোকানে, মহল্লার কিনারে কিনারে। সেইসব মনোযোগী আড়িপাতার থেকেই হয়তো আমরা বুঝতে পারি বাংলাদেশ কোথায় যাচ্ছে, কোথায় যাবে। বড়ো দালানে বসে থাকা বাবু-বিবিরা যতই মনে করুক না কেন যে ইতিহাস তাদের কব্জায়, ইতিহাস থাকে সময়ের দখলে। এই বাংলার বুকে সেই সময়কে কোন বড়োকর্তা কোনদিন দখল করতে পারেনাই, কোনদিন পারবেও না। read more

Read More

শিক্ষার্থী আন্দোলন বনাম সামাজিক বিচ্ছিন্নতা

গত কিছুদিনের মধ্যে আমরা দুইটা আন্দোলন প্রত্যক্ষ করলাম। দুইটার ধরণ দুই রকম, অংশগ্রহণকারীদের বয়সও দুইরকম, তবে, একটা বিষয়ে মিল হচ্ছে তারা সকলেই শিক্ষার্থী। একেবারে নতুন নতুন কিছু বিষয় এই আন্দোলনদ্বয় আমাদের দেখিয়েছে। এতদিন ধরে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যেভাবে ‘ফার্মের মুরগী’ বলে তাচ্ছিল্য করা হয়েছিল সেটা একেবারে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়েছে এই দুইটা আন্দোলনই। কোটা আন্দোলনের সময়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের উপর যখন হামলা করা হলো, তাদের মুখ বন্ধ করে দেয়ার পায়তারা চললো, তখন এর হাল ধরল বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। স্বতঃস্ফুর্তভাবেই তারা রাস্তায় নেমে আসলো। শুধুমাত্র উচ্চবিত্তরাই বেসরকারীতে পড়ে, এই ধারণা ধীরে ধীরে পাল্টে যাচ্ছে। বেসরকারীতে এখন মধ্যবিত্ত বা নিম্ন মধ্যবিত্তের অংশগ্রহণ বাড়ছে, এটা যত বাড়তে থাকবে, দাবি-দাওয়ার জন্যে রাস্তায় নামার হারও বাড়বে। নো ভ্যাট আন্দোলন দিয়েই এর শুরু হয়েছিল বলা যায়। এইজন্যে তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের ক্ষোভও বাড়বে, সেটা নিরাপদ দাবি আন্দোলনের সময় রাষ্ট্রের নগ্ন আক্রমণ প্রমাণও দেয়। read more

Read More

বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ঋণ: দাসত্বের নতুন হাতিয়ার

বিশ্বব্যাংক, আইএমএফের মত প্রতিষ্ঠানগুলো দাবী করে থাকে, তারা স্বল্প উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর উন্নয়নের জন্য সাহায্য করে থাকে। তারা এটাও দাবী করে যদি কোন রাষ্ট্র সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও লক্ষ্য নিয়ে তাদের কাছে আসে তাহলে তারা সাহায্য করতে প্রস্তুত।
শুনে বেশ সাদামাটা মনে হলেও, এই প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকান্ডে কখনই তা প্রকাশ পায় না। তাদের কাজ সুগভীর ভাবে পর্যবেক্ষন ও পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে তাদের কর্মকান্ডে কতিপয় গোষ্ঠী ব্যাপক লাভ অর্জন করছে এবং কিছু মানুষ, গোষ্ঠী গরীব থেকে গরীবতর হচ্ছে। যা কিনা তাদের কথার সম্পূর্ন বিপরীত।
এই প্রতিষ্ঠানপগুলো বিভিন্ন রাষ্ট্রকে ঋণ দিয়ে থাকে নানাবিধ শর্ত, লক্ষমাত্রা পূরণ সাপেক্ষে। বেশ কিছু ঘটনা পর্যালোচনা করলে দেখা যায় তাদের দেয়া শর্ত বা লক্ষমাত্রা আপাত দৃষ্টিতে লাভজনক বা উন্নয়নের হাতিয়ার হলেও তার একটি ধ্বসাত্মক প্রভাব পড়ে সেই দেশের অর্থনীতি ও রাজনীতিতে।
উদাহরণ হিসাবে আলোচনা করা যায় হাইতির ঘটনা। ১৯৮৬ সালে আইএমএফ হাইতিকে শর্ত সাপেক্ষে ২৪.৬ মিলিয়ন ডলার লোন দিতে রাজি হয়। শর্তের মধ্যে ছিল হাইতিকে তাদের আমদানী বাজার উন্মুক্ত করে দিতে হবে, চাষীদের ভর্তুকি দেয়া বন্ধ করতে হবে, নানান সরকারি খাতে ব্যয় কমিয়ে আনতে হবে এবং অলাভজনক রাষ্ট্রত্ত্ব প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে দিতে হবে।
আমদানী নিষেধাজ্ঞা তুলে দেয়ায় হাইতির বাজার আমেরিকান চালে ছেয়ে যায়। আইএমএফ হাইতির চাষীদের ভর্তুকির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও, হাইতির বাজার ভরে যায় বিপুলভাবে ভর্তুকি দেয়া আমেরিকান চালে। হাইতিতে প্রতি বছর আমেরিকান চালের আমদানী শূণ্য থেকে ২০০,০০০ টনে উঠে আসে। আমেরিকা প্রতি বছর প্রায় এক বিলিয়ন ডলার ভর্তুকি দিয়ে থাকে তাদের চাষীদের। দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত হাইতির অধিবাসীরা সস্তায় আমেরিকান চাল কেনায় আগ্রহী হয়ে ওঠে। ফল স্বরূপ হাইতির চাষীদের অন্ন সংস্থান একেবারে বন্ধ হয়ে যায়। একে ভর্তুকি বন্ধ, তার উপর সস্তা আমেরিকান চাল ফলে প্রতিযোগীতা করার কোন সক্ষমতাই ছিল না হাইতিয়ান চাষীদের। ফলে অনেকেই কৃষিকাজ ছেড়ে দিয়ে জীবিকার সন্ধানে অন্যান্য কাজে জড়িয়ে পরে। অথচ হাইতি ছিল চাল উৎপাদনে স্বয়ং সম্পূর্ন। স্বয়ংসম্পুর্ন হাইতি চালের জন্য সম্পূর্নভাবে আমেরিকার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।  হাইতি ইনকাম পার ক্যাপিটা ৬০০ ডলার থেকে ৩৪৯ ডলারে নেমে আসে।
আইএমএফ হাইতির এই দুরবস্থার জন্য সরাসরি দায়ী না হলেও তাদের অর্থনৈতিক অবনতির পথ আইএমএফই তৈরি করে দিয়েছে। তাদের দেয়া শর্ত মেনে নিয়েই হাইতির অর্থনীতি নিম্নমুখী। আইএমএফ এর দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে, তারা হাইতির এই অবস্থার জন্য হাইতির রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাকে দায়ী করেন।
১৯৯০ সালে বিশ্বব্যাংক হাইতি সরকারকে বৈদেশিক সাহায্যের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু এর জন্য হাইতি সরকারকে “Structural Adjustment Programs” বাস্তবায়ন করার বলে। যার মধ্যে ছিল রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর বেসরকারিকরণ(Privatization)। দাতব্য সংস্থা যুক্তি ছিল এই পলিসির বাস্তবায়ন হলে তা বিদেশী বিনিয়োগকারীদের আগ্রহী করে তুলবে। ঐ বছরই সামরিক সামরিক অভ্যুথানে ক্ষমতা হারান হাইতির নির্বাচিত সরকার। আমেরিকার সহায়তায়(সামরিক) ১৯৯৫ সালে পুনরায় ক্ষমতা ফিরে পায় সরকার। তারপর থেকে সরকারের ওপর SAP বাস্তবায়ন করার জন্য নানামুখী চাপ আসতে থাকে। হাইতির জনগণ এর বিরুদ্ধে থাকলে সরকার নানাভাবে SAP এর বাস্তবায়নের ফলে কি কি উপকার হতে পারে সে বিষয়ে প্রচারণা চালায় কিন্তু তা ব্যর্থ হয়। আরো চাপ প্রয়োগ করার জন্য AID(Agency of International Development) ৪.৫ মিলিয়ন ডলারের ব্যালান্স-অফ-পেমেন্ট আটকে দেয়। ফলে প্রায় সাথে সাথেই হাইতির মুদ্রার মান ২০ শতাংশ কমে যায়। খাদ্যশস্য ও জ্বালানী তেলের আমদানী প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। হাইতির জনগণ রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি বেরসকারিকরণের বিরিদ্ধে থাকলেও সরকার নানা চাপের মুখে পড়ে ১৯৯৬ সালে বিশ্বব্যাংকের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করে। [বিস্তারিতঃ https://fpif.org/haiti/ ] । এই বেসরকারীকরণের ফলে রাষ্ট্রয়ত্ত্ব এই প্রতিষ্ঠানগুলো চলে যায় ব্যাক্তিমালিকানায়। বিশেষত আমেরিকার। এর ফলে জনগন খুব কমই লাভবান হয়। লাভের বেশীর ভাগ হাইতির বাইরে চলে যায় এবং অবশিষ্ট অংশ হাইতির নানা ঋণ শোধে ব্যয় করা হয়।  বিশ্ব ব্যাংকের দেয়া পলিসির বাস্তবায়নের ফলে লাভবান হচ্ছে ঋণ প্রদানকারী ব্যাংক, বিভিন্ন বিদেশী কোম্পানীর, একমাত্র লাভের খাতা শুন্য সাধারণ জনগণের। তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে নেয়া ঋণের বোঝা বইতে হচ্ছে তাদেরই। ঋণ শোধের জন্য জাতীয় বাজেটে স্ব্যাস্থ, শিক্ষা খাতে বরাদ্দ কমে যাচ্ছে। নেমে যাচ্ছে তাদের জীবনযাত্রার মান, বেড়ে যাচ্ছে ট্যাক্সের বোঝা। তারা বঞ্চিত হচ্ছে তাদের মৌলিক অধিকার থেকে।
এছাড়াও ফিলিপাইনের কিছু প্রকল্পে দূর্নীতি ও বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ এর সম্পৃতাও আলোচনা করা যায়।
বিশ্ব ব্যাংক ফিলিপাইনকে প্রায় দশটি ঋণ দিয়ে থাকে তাদের দেয়া “Structural Adjustment Plan” বাস্তবায়ন করার জন্য। এই প্ল্যানের অন্তর্গত ছিল শিল্প কারখানা বৃদ্ধি, রপ্তানি বৃদ্ধি, বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি। এছাড়া বিশ্বব্যাংক ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে লোন দেয় ফিলিপাইনের স্থানীয় ব্যাংকগুলোতে মুদ্রা সরবরাহ করার জন্য। কিন্তু একনায়ক মার্কোসের শাসন ব্যাবস্থার সীমাহীন দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতির কারণে তা ব্যার্থ হয়। দেওলিয়া হয়ে যায় ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক   বিশ্বব্যাংকের দেয়া “Structural Adjustment Plan” বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে ফিলিপাইনের কৃষি জমি ধংস্ব করে গড়ে তোলা হয় কারখানা। বলা হয়, কারখান তৈরি করলে তা বিদেশী বিনিয়োগকারীদের আগ্রহী করে তুলবে এবং এই কারখানার ফলে বহু লোকের কর্মসংস্থা হবে। কারখানা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ঋণ আসে বৈদেশিক ব্যাংকগুলো থেকে চড়া সুদের বিনিময়ে। ঐ কারখানাগুলোতে যে পণ্য উৎপন হয় তার সবই রপ্তানী হয় দেশের বাইরে। কৃষি জমি ধংস্বের ফলে দেখা দিচ্ছে খাদ্য সংকট আর বহু কৃষক, মানুষ যাদের জীবিকা কৃষিকে ঘিরে তারা হয়ে যাচ্ছে বেকার। এর উদাহরণ হিসাবে বলা যায় ফিলিপাইনের কালাবার্যান প্রকল্পের কথা। জাপানি অর্থায়নে তৈরি একটি কারখানা যেখানে শুধুমাত্র রপ্তানি যোগ্য পণ্য উৎপাদন করা হয়ে থাকে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে প্রায় আট মিলিয়ন লোক (যারা কৃষি কাজে জড়িত ছিল) হারায় তাদের কর্মসংস্থান। বিনিময়ে তারা সরকারের পক্ষ থেকে পায়নি কোন ক্ষতিপূরণ। এই মানুষগুলোর পূনর্বাসের জন্য ফিলিপাইনের সরকারও নেয়নি কোন উদ্যোগ। উন্নয়ন প্রকল্পের ফলে এই লোকগুলো হল বেকার এবং তাদের উপর চেপে বসল বিপুল ট্যাক্সের বোঝা। ট্যাক্স, সেই ঋণ শোধের জন্য যে ঋণ তারা কখন চায় নি।
ফিলিপাইনের এই বিপুল ঋণ শোধ করার জন্য তাদের বৈদেশিক মুদ্রার পরিমান বাড়াতে হবে আর তার জন্য বাড়াতে হবে রপ্তানি। আর এই উদ্দেশ্য পূরণের জন্য ফিলিপাইনে গড়ে উঠেছে বনভিত্তিক শিল্প। গড়ে উঠছে কাঠ প্রক্রিয়াজাত করণ কারখানা এবং ধ্বংস হচ্ছে বিপুল পরিমান বনভূমি। যার ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে ফিলিপাইনের সাধারণ জনগণের উপর। ১৯৯১ সালে টাইফুন যার প্রমাণ।
১৯৯১ সালের টাইফুন ইয়ানায় মারা যায় প্রায় ৬০০০ মানুষ, গৃহহীন হয় প্রায় ৪৩০০০ মানুষ। অথচ বনভূমি’ই আগে ওই এলাকার মানুষকে বন্যা, ভূমি ধসের মত দূর্যোগ থেকে রক্ষা করত।
বিপুল বৈদেশিক ঋণ শোধ করার জন্য সরকারকে মারাত্মক ভাবে কমিয়ে আনতে হয় শিক্ষা, চিকিৎসা সহ আরো নানান খাতের খরচ। ফলে জনগণ বঞ্চিত হয় তাদের মৌলিক অধিকার থেকে, নেমে যায় তাদের জীবনযাত্রার মান।
বিশ্বব্যাংকের উন্নয়ন পরিকল্পনার বিষাক্ত নিঃশ্বাস পড়ছে আমাদের উপরও। ১৯৯৯ সালে যানযট নিরসণের জন্য মহাখালী ও যাত্রাবাড়ি দুটি ফ্লাইওভার নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। এই জন্য প্রয়োজনীয় সমীক্ষা চালানো হয় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে। পরে এই সংস্থার অর্থায়নেই তৈরি হয় মহাখালী ফ্লাইওভার। এটির নির্মান সম্পন্ন হওয়ার পরপরই ২০০৭ সালের বিশ্বব্যাংকের একটি রিপোর্টে উঠে আসে এর ব্যার্থতার কথা। ইকোনমিক রেট অব রিটার্ন এক্ষেত্রে মাত্র ১৭%। বিশ্বব্যাংকের দেয়া প্রেসকিপশপন মেনেই ঢাকায় গড়ে উঠছে একের পর এক ফ্লাইওভার। যার ফলাফল বিগত এক দশকে ঢাকায় যানবাহনের গড় গতিবেগ ঘন্টায় ২১ কি.মি থেকে কমে ৬ কি.মি তে নেমে এসেছে।
সম্প্রতি বিশ্বব্যাংক “Toward Great Dhaka”-ঢাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা বিষয়ক একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে। যেটা আমাদের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাড়াতে পারে। পূর্ববর্তী দুইটি দেশের ঘটনা বিস্তারিত আলোচনার পর বিশ্বব্যাংক বা আইএমএফ বা অন্য কোন দাতব্য সংস্থা থেকে সাহায্য বা উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহন করার পূর্বে আমাদের সতর্ক হতে হবে। কোন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার পূর্বে আমাদের অগ্রপশ্চাৎ বিবেচনা করতে হবে। নতুবা আমাদের দেশ, অর্থনীতি, রাজনীতি আটকে যেতে পারে নতুন কোন দীর্ঘ মেয়াদী ঋণের ফাঁদে।
বিখ্যাত তথ্যচিত্র নির্মাতা জন পিলজারের  মতে, এখন যে যুদ্ধ চলে তাতে বুলেট খরচ হয় না তবুও মানুষ মরে। এ যুদ্ধ সাম্রাজ্য দখলের যুদ্ধ নয় এটা অর্থনীতির যুদ্ধ। ঋণ হল এই যুদ্ধের অস্ত্র। বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ তাদের নানা লোভনীয় প্রস্তাব আর পলিসি দিয়ে আমাদের মত তথা তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোকে আটকে ফেলছে ঋণের ফাঁদে। সাহায্যের নামে তারা যা দেয় তার দশগুন তুলে নেয় সুদের মাধ্যমে। এই ঋণের মাধ্যমে আমরা পরিণত হই অন্যশ্রেণির এক দাসে। read more

Read More

From Quota Reform to Kishor Bidroho for Road Safety: Social Movements for Justice and Rule of Law

Both political executives and employees in public service must be held accountable for each and every action. That’s the hallmark of democracy. There are formal institutions and stipulated guidelines to make the state actors accountable. For a country like Bangladesh, the effectiveness of formal institutions such as, parliament, judiciary, Office of Controller and Auditor General, Independent Anti-Corruption Commission and so forth entrusted with the vital role of disciplining the actors in the executive branch has waned. Accountability through periodic elections has lost its significance as non-participatory and rigged elections have reappeared on the political landscape. The majority of the civic forums have also been encapsulated by the executive state. What we find in Bangladesh is nothing more than executive despotism. In fact, all kinds of channels through which citizens can ventilate their disapproval of executive actions have been shut down. Under this kind of pathetic situation, spontaneous social movements concerning pressing demands as perceived by citizenry can play an effective role. The glaring examples are Phulbari and Kanshat movements. Of course, there is no guarantee that such social movements generate positive outcomes all the time. But at least, these can expose the ugly face of despotic governments. read more

Read More

রাস্তার পাঠশালায় চলে ‘এসো নিজে করি’ ক্লাস; বড়রা অংশ নেবে কি?

স্কুল কলেজের ছেলে-মেয়েদের পাঠ্যবইয়ে এসো নিজে করি টাইপের অংশ থাকে। প্র্যাকটিক্যাল। সেটা তারা করে থাকে। না কি করে না, জানি না। এখন রাস্তায় নেমে সেই টাইপের একটা এসো নিজে করি জিনিসই স্কুলেজের শিক্ষার্থীরা করছে বলে মনে হচ্ছে। দেশ নামের একটা ক্লাস তারা নিজেরাই খুলে নিয়েছে। হাতেকলমে সব কিছু করার এই ব্যবহারিক ক্লাসের সময়সূচি নির্ধারণ করছে তারা। কোন দিন হবে, কয়টা থেকে কয়টা পর্যন্ত- সেটা তারাই ঠিক করছে। এই জিনিস অভূতপূর্ব। কোথাও দেখা যায়নি এখনো দুনিয়াতে। কেন হঠাৎ বিদ্যালয়ের ক্লাসরুম ছেড়ে এই রাস্তার ক্লাস চালু করতে হলো শিক্ষার্থীদের? কারণ যাদের হাতে রাস্তা চালানোর, দেশ চালানোর, সমাজ চালানোর দায়িত্ব তারা দিয়ে রেখেছিল, ভেবেছিল যে, এরাই তো আমাদের গুরুজন- সম্মানিয়—সেই বড়-বুড়ো মানুষরা তাদেরকে বারবার শুধু যন্ত্রণায় বিদ্ধ করেছে। শৈশব কেড়ে নিয়েছে, কৈশরের অ্যাডভেঞ্চার ভুলিয়ে দিয়েছে। খেলার মাঠ নাই, জিরোনোর সময় নাই, মনে শান্তি নাই। তারা ত্যক্ত-বিরক্ত। ছোটবেলা থেকে তাদের ওপর যে জুলুম চাপায়ে দেওয়া হয়, চারদিকে তারা যে অন্যায়-অনিয়মগুলো দেখে, একের পর এক ইস্যু আসছে-যাচ্ছে আর সেগুলো নিয়েরাজনীতিবিদদের উদ্ভট সব মন্তব্য, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি, বানোয়াট কথাবার্তা – ইত্যাদি রাবিশ শুনতে শুনতে, দেখতে দেখতে তারা ত্যক্ত-বিরক্ত হয়ে গেছে। সেই সাথে তাদের নিজেদের বঞ্চনাগুলো তো আছেই। তাদের খেলার মাঠ নাই। সব সময় একটা প্রতিযোগিতা- পাল্লাপাল্লির মধ্যে তাদের থাকতে হয়। তাদের শিক্ষা নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে। তাদের বিকাশ নিয়ে কারো কোনো মাথাব্যথা নেই। এই সব জীবনযুদ্ধের মধ্যে শেষপর্যন্ত নিজের জান বাঁচানোটাও কঠিন হয়ে পড়ছে এই কিশোর-কিশোরীদের। চোখের সামনে তারা দেখছে সহপাঠীরা পিষে-থেঁতলে যাচ্ছে ঘাতক বাসের পাল্লাপাল্লির রেষারেষিতে। এই দৃশ্য তারা মেনে নিতে পারেনি। তাদের মনে শঙ্কা জেগেছে, ‘আগামীকাল আমি-ই সুস্থভাবে ঘরেফিরতে পারব তো?’ আমাকেই লাশ হয়ে যেতে হবে না তো? একেবারে প্রাণের তাগিদে এই স্কুলেজ (স্কুল+কলেজ) পড়ুয়া ছেলেমেয়েগুলো ঘটিয়ে দিয়েছে অভূতপূর্ব এই ক্লাস কর্মসূচির ঘটনা। তারা বলছে, থামো। অনেক হয়েছে। অনেক দেশ চালিয়েছ তোমরা। এমন দেশ চালাইছ যে, আমাদের বেঁচে থাকাটাই দায় হয়ে গেছে। আমাদের প্রাণের মূল্য শুধু কয়েক লাখ টাকা বানিয়ে দিয়েছ তোমরা। বন্ধ করো এগুলো। আমরাই এখন ক্লাস করে তোমাদের দেখায়ে দিচ্ছি দেশ কিভাবে চালাইতে হয়।
তারা শুরু করেছে রাস্তায় লাইসেন্স চেকিং। ‘বাদ যাবে না একটি শিশু’ নীতিতে বিশ্বাসী মনে হয় তারা। কাউকেই বাদ দিচ্ছে না। মন্ত্রী-প্রধানমন্ত্রী-আমলা-পুলিশ-র্যাব-সেনাবাহিনী-আমলা-উকিল-মোক্তার-সাংবাদিক-চিকিৎসক-শিক্ষক, এমনকি বাপমা পর্যন্ত বাদ যাচ্ছে না। সবার চলছে লাইসেন্স চেকিং। “আছে? লাইসেন্স আছে?” বলে ঢাকার রাজপথ কাঁপিয়ে তুলেছে কিশোর বিদ্রোহীরা। এই ক্লাসে তারা শিক্ষক হিসেবেও গ্রহণ করছে অনেককে। একটা ভিডিওতে দেখা গেল, এক পুলিশ কর্মকর্তা কিভাবে লাইসেন্স চেক করতে হয় শিখিয়ে দিচ্ছেন। এক জায়গায় এক পুলিশ সদস্য বলছেন কিভাবে দেশ গড়তে হবে। কথা পছন্দ হওয়াতে হ্যা, স্যার, ঠিক স্যার বলে হাততালি দিয়ে মেনে নিচ্ছে এই শিক্ষার্থীরা। এমন কত কত মানুষকে যে তারা শিক্ষক হিসেবে মেনে নিচ্ছে— হিসেব নেই। আবার যে শিক্ষক পছন্দ হচ্ছে না, তাকে বলে দিচ্ছে রাস্তা মাপো। বিদেয় হয়ে যাও। অনেক ফেসবুক সেলিব্রেটি, তারকারা পড়েছেন এই তালিকায়— দেখা গেল। আর নিজেরা এই ‘এসো নিজে করি’ ক্লাসটা করার মধ্য দিয়ে যে অন্যদের, বড়দের কত কিছু শেখাচ্ছে- তা ভাবনার বাইরে। অকল্পনীয় সব কাজ করছে তারা। কমবেশি দেখেছি আমরা সবাই। নতুন করে বলতে গিয়ে সময় নষ্ট করার প্রয়োজন দেখছি না। ক্লাসটা নির্বিঘ্নে চলতে পারলে মনে হয় মন্দ হতো না— এমন কথা বলার মুখ মনে হয় কম নাই। কিন্তু আফসোসের বিষয় নজির সৃষ্টিকারী এই রাস্তার পাঠশালা বন্ধ হয়ে যেতে বসেছে। হীরক রাজারা কেঁপে কেঁপে উঠছেন। ধামাধারীদের ঘাম ছুটে যাচ্ছে— কিভাবে বাগে আনা যায় বিচ্ছুগুলাকে? চিন্তায় অস্থির হয়ে যাচ্ছেন। নানাবিধ ষড়যন্ত্রতত্ত্ব ফাঁদছেন। বিভ্রান্তির জাল বিছাচ্ছেন। কিন্তু বাগে আনা যাচ্ছে না যে এখনো। তাহলে? সর্বশেষ উপায় হিসেবে তারা সবসময়ই যেটা করেন— সেটাই করছেন। সিপাহী-প্রহরী পাঠাচ্ছেন। সরকারী-বেসরকারী সব ধরণেরই। রাষ্ট্রীয় গুণ্ডাবাহিনীর যৌথ ফোর্স পাঠাচ্ছেন তারা ক্লাস ভেঙে দেওয়ার জন্য। পাঠশালা বন্ধ করে দেওয়ার জন্য। ধামাধামীরা বলে বেড়াচ্ছেন, ‘জানার কোনো শেষ নাই, জানার চেষ্টা বৃথা তাই’। সবাই ছেলেমেয়েগুলোদের পারফরম্যান্সও কিন্তু দেখছে। ব্যবহার-শান্তি-শৃঙ্খলায়? হু, মোটামুটি। ভাষায়? ওরে বাবা! ফাটাফাটি! – ইত্যাদি প্রভৃতি জিনিস এভাবে কিন্তু টুকছে বড়রা-অভিভাবকরা। কিন্তু তাদের কাছ থেকে কিছুটা শিক্ষা নিয়ে এই এসো নিজে করি ক্লাসে যোগদান করছে কী? ছোটরা যেভাবে রাস্তায় লাইসেন্স চেক করছে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য, সবাইকে লাইনে আনার জন্য; সেভাবে বড়টাও কী পারে না এভাবে নিজেদের, বাচ্চাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বটা নিজেদের হাতে নিয়ে নিতে? রাস্তার এই পাঠশালায় শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি যা শিখিয়েছে, তা হলো ভালোবাসা। বন্ধুর রক্ত দেখে টগবগে মাথায় শ্লোগান দিয়েছে প্রবল পরাক্রমশালী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে। পরম যত্নে তারা অসুস্থ-দুর্বলদের সেবা দিয়েছে। অসুস্থ হয়ে পড়া রিকশাচালককে নিজেরা রিকশা চালিয়ে নিয়ে গেছে। রাস্তায় কাগজ টুকিয়ে বেড়ানো পাগলটাকে ধরে এনে জামা-কাপড় পড়িয়েছে। তারপর তাকে একটা গাড়ির উপর তুলে দিয়ে বলছে, ‘এটা তোমার, তোমার’। সত্যি, কান্না চলে আসে এদের ভালোবাসা বিলানোর তরিকা দেখলে। তো, বড়দের হৃদয় কী একটুও গলছে না এগুলো দেখে? জানি যে, ‘বড়দের বুড়ো দুনিয়া’টা বড়ই নির্দয়-নিষ্ঠুর। কিন্তু তাই বলে কী এতই পাষাণ হয়ে গেছি আমরা? নিজেদের শিশুদের স্বার্থে বাসযোগ্য একটা পৃথিবী বানানোর জন্য আমরা কিছুই করতে পারি না? তারা এতো কিছু শিখিয়ে দিচ্ছে— তারপরও না? না চাইলে আর আলাপ নাই। আর যদি চাই, তাহলে আসেন পথ খুঁজি। কী করা যায় ভাবি। আমার ভাবনা হলো: শিক্ষার্থীরা যেভাবে সব কিছু নিজেরা করা শুরু করেছে, তেমনি বড়রাও কিছু কিছু জিনিস নিজেরা করতে শুরু করি। ট্রাফিক পুলিশের ওপর ভরসা রাখতে পারেনি বলে ছোটরা নিজেরাই লাইসেন্স চেক করতে শুরু করেছে। আমরা বড়রাও তো আমাদের নিরাপত্তা নিয়ে ভরসা রাখতে পারছি না। আমরা কেন তাহলে পুলিশ-র্যাবের দায়িত্বটা নেব না? প্যারালাল একটা নিরাপত্তা সিস্টেম গড়ে তুলব না? এটা করার উপায়ও খুব সহজ। পাড়ায় পাড়ায়, ওয়ার্ড ধরে ধরে অভিভাবক-নাগরিকদের কমিটি গঠন করা যায়। নিরাপত্তা কমিটি। সবার কথাবার্তা-মতামতের ভিত্তিতে যেগুলো পরিচালিত হবে। পুলিশের যেরকম মোড়ে মোড়ে বক্স থাকে, সেরকম অভিভাবকরাও নিরাপত্তা চৌকি গড়ে তুলতে পারে। এলাকার নানাবিধ সমস্যা-সংকটগুলো কিভাবে দ্রুত সমাধান করা যায়, মিমাংসা করা যায়— সে বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করতে পারে। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করতে পারে। মানুষের আসলে বাঁচার পথ এটাই। এতে করে একটা সামাজিক বন্ধনও গড়ে উঠবে। রাষ্ট্রের নির্মম নিষ্পেষণে যে বন্ধন ছিঁড়ে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। দুই তলার মানুষ, তিন তলারে চেনে না। রাস্তার একটা মানুষের কথা তো বাদই দিলাম। এমনটা হলে ষড়যন্ত্রের যাতনাও অনেকখানি কমে আসবে। মানুষ যখন বিচ্ছিন্ন থাকে— তখনই সেই ঘোলাজলে মাছ শিকার করতে পারে ষড়যন্ত্রকারীরা। চক্রান্তকারীরা। সেই সুযোগ আমরা দিনের পর দিন দিয়ে এসেছি রাজনীতিবিদদের। ফলে এখন অবস্থা এমন দাঁড়িয়ে গেছে যে, যে কোনো কিছুতেই তারা একটা না একটা ষড়যন্ত্র খুঁজে পান। এবং জল ঘোলা করে দিয়ে মাছ শিকার করতে থাকেন আরামসে। দেখা হয়নি এখনো এই জিনিস? নাকি আরও বাকি আছে? বাকি থাকলে আরও ভাগান্তিও আছে। আর যদি বাকি না থাকে, স্কুলেজের পোলাপাইনগুলার মতো আপনিও বুঝে থাকেন যে, মাথার ওপর ডাণ্ডা হাতে দাঁড়ানো কর্তৃপক্ষের হাতে সব কিছু ছেড়ে দিলে এমনটাই হতে থাকবে; সোনা-কয়লা গায়েব, কোটি কোটি টাকা পাচার-লুট-খুন-ধর্ষণ-লুটপাট-স্বেচ্ছাচার-স্বৈরাচার চলতেই থাকবে; তাহলে আসেন, আমরাও যোগ দেই এই এসো নিজে করি ক্লাসে। আমরা এবার একটু খতিয়ে দেখি থানা-পুলিশ-অফিস-আদালতগুলোর কী অবস্থা। কেন আমাদের শিক্ষার্থীরা বারবার মাইর খাচ্ছে রাস্তায়। ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থায় এতো অব্যবস্থাপনা কেন? খোদ ঢাকা শহরটাকেই আরও বাসযোগ্য করা যায় কিভাবে? আমরা তো টাকা দিচ্ছি দেশ চালানোর জন্য। তাহলে এরকম হজবরল অবস্থা কেন? কিভাবে? এগুলো সব কিছু একদম নিজেদের দেখতে হবে। শিক্ষার্থীরা যেভাবে রাস্তায় গাড়ির লাইসেন্স দেখছে, সেভাবে। এগুলো একবার করতে শুরু করলে প্রশাসন এমনিতেই হালকা হয়ে যাবে। সরকার গদিতে আছে না নাই— সেটার দিকে তাকানোরই দরকার পড়বে না। এক বিচ্ছু দেখলাম পুলিশের গাড়ির সঙ্গে কাগজে লিখে রেখেছে, ‘প্রশাসন তুই দূরে সর, হালকা মুতে শুয়ে পড়’! দেশের মানুষ পাবলিকই যদি এগুলো দেখতে শুরু করে, তাহলে প্রশাসনের সত্যিই এটা ছাড়া আর কিছু করার থাকবে না।
বাংলাদেশ ভাষা আন্দোলনের দেশ। ৫২ সালের সেই গৌরবজ্জল ঘটনা এখন পুরো বিশ্বের গর্ব। পুরো দুনিয়ার মানুষ পালন করে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। এই ২০১৮ সালের কিশোর বিদ্রোহের জন্যও বাংলাদেশের নাম একদিন গৌরবের সঙ্গে উচ্চারিত হতে পারে বিশ্বজুড়ে। বাংলাদেশের এই কিশোররা তাই এই এসো নিজে করি ক্লাসটা চালু করে দুর্দান্ত একটা কাজ করে দিয়েছে। এটাই হতে পারে না? মুক্তির পথ। ভেবে দেখা দরকার কিন্তু খুব ভালোমতো। এভাবে আমরা সত্যিই প্রকৃত অর্থে দেশের মালিক হয়ে উঠতে পারব। বিশ্ববাসীও হয়তো এমন একটা মডেলের দিকেই চেয়ে আছে? হয়তো! এগুলো সব কিছু ভাবতে আমরাও অংশ নেই না কেন রাজপথের পাঠশালায়? ব্যক্তিগতভাবে অনেকেই হয়তো এখান থেকে শিখছেন। তবে মাঝেমধ্যে পড়া ভালোমতো করার জন্য গ্রুপ স্টাডি খুবই জরুরি। শিক্ষার্থীদের, ছোট ভাই-বোন, ছেলে-মেয়েদের বলি যে, তোমরা আমাদের একটু জায়গা করে দাও না! আমরা একটু গ্রুপ স্টাডি করি?

Read More

নেটিজেন প্রজন্মের অবাক বিদ্রোহ

ইন্টারযুগের বিশ্বনাগরিক প্রজন্ম একটি সভ্য সমাজে বসবাস করার জন্য আকুল। চোখের সামনে বন্ধুর মৃত্যু দেখেও তারা চুপ করে থাকবে; স্থানীয় ভিলেজ পলিটিক্সের সেই বহু ব্যবহারে জীর্ণ “ধামাচাপা” কৌশলকে তারা নিঃশব্দে মেনে নেবে; এ এক আউটডেটেড বা অচল চিন্তা। read more

Read More

আসাম থেকে রাখাইন: শরণার্থী সংকট নাকি সম্ভাবনা?

প্রারম্ভিকাঃ মানুষ একটি মোহাজের প্রাণী। বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষের কাছে এখনো তাদের দেশ হলো বরিশাল, নোয়াখালি, বিক্রমপুর ইত্যাদি। বাংলাদেশের মধ্যেই তারা জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে নিজ দেশ থেকে পরদেশে ক্রমাগত হিজরত করে। বাংলাদেশের বাইরেও করে। মিয়ানমার ও আসামে বহুকাল আগে থেকেই করে আসছে। মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের মতোই আসামের বাংলাভাষী মুসলমানরা এই মুহুর্তে ‘অবৈধ বাংলাদেশী অভিবাসী’তে পরিণত হওয়ার আশংকায় আছে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় বিশ লাখের মতো বাংলাভাষী মুসলমান নাগরিকত্ব হারিয়ে নতুন ‘রোহিঙ্গা’য় পরিণত হতে পারে। ভারতে ‘বাংলাদেশী খেদাও’ একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বুলিতে পরিণত হয়েছে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বিজেপির নির্বাচনী প্রচারণার সময় থেকেই। কিন্তু মোদির ভারতে এখন নাগরিকত্বের তালিকা তৈরি করার নামে যা করা হচ্ছে তা হলো কিছু মানুষকে ভারতের নাগরিকত্ব  বঞ্চিত করার কর্মযজ্ঞ। উদ্দেশ্য এইখানে ভারত রাষ্ট্রের জমিতে বসবাসকারী সকল মানুষের রাজনৈতিক তথা নাগরিক অধিকার রক্ষা করা নয়, বরং কিছু মানুষের রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নেয়া। তালিকা করে মানুষের নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়ার এই রাজনীতির সাথে নাজি জার্মানির তুলনা চলে। অবশ্য কারো কারো, যেমন ইতালিয় দার্শনিক জর্জিও আগামবেনের মতে, সমাজের সার্বভৌম ইচ্ছার বলি হিসাবে কিছু মানুষের নাগরিকত্ব অথবা রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নেয়াটা ‘দেশের সকল জনগণের রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করার নামে তৈরি হওয়া আধুনিক বায়োপলিটিকাল জাতি রাষ্ট্রের’ স্বভাবজাত বৈশিষ্ট। নাজি জার্মানি আধুনিক বায়োপলিটিকাল রাষ্ট্রের সবচাইতে কদর্য রূপের উদাহরণ মাত্র, কিন্তু আর দশটা আধুনিক রাষ্ট্রের সাথে তার পার্থক্য অন্তর্গত চরিত্রের দিক থেকে নয়, বরং সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগ ও সহিংসতা সংগঠনের মাত্রাগত পার্থক্যের দিক থেকে। এই দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে বিচার করার দরকার আছে।- রোহিঙ্গা সংকট না সম্ভাবনা? রিফিউজি ও মানবাধিকার বিষয়ে আগামবেনের চিন্তার পর্যালোচনা। (সর্বজনকথা, বর্ষ ৪, সংখ্যা ২)এই লেখাটি যখন লিখেছি তখন বিশ লাখ বাংলাভাষী আসামে নাগরিকত্ব হারানোর সম্ভাবনার মধ্যে ছিল। সর্বশেষ খবরে প্রকাশ তার দিগুন সংখ্যক, প্রায় চল্লিশ লাখ মানুষের নাগরিকত্ব কেড়ে নিয়ে তাদেরকে ‘বেয়ার লাইফে’ পরিণত করেছে ভারতের আসাম সরকার।  একাত্তরের পর এতো বিপুল সংখ্যক রাষ্ট্রহীন বাঙলাভাষী মানুষের অস্তিত্ব আর কখনো ছিল না। এই পরিস্থিতি আমাদের সামনে যে সংকট এবং একইসাথে সম্ভাবনা হাজির করে তা নিয়েই লেখাটি প্রথম লিখেছিলাম সর্বজনকথায় । read more

Read More

আলমগীর-একরামুল-জাকির- রাকিব এবং আরো শতেক: A summary of State-Sponsored Killings in Bangladesh (Video)

মাদকবিরোধী অভিযানের নামে একের পরে এক মানুষকে বিনা বিচারে হত্যা করছে বাংলাদেশের আইন শৃংখলা বাহিনী। হত্যার আওতায় পড়ছেন শিশুশিল্পী রাকিব, বিএনপির কর্মী জাকির হোকেন, ছাত্রদল নেতা আলমগীর হোসেন বাদশা থেকে শুরু করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কর্মী একরামুল হক। অনেক ক্ষেত্রে নামের ভুলে মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে, অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে বিপাকে ফেলা হচ্ছে, অনেক ক্ষেত্রে হত্যা করবার পরে কাহিনী সাজানো হচ্ছে। তবে যে যুক্তিই সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া হোক না কেন, বিচার পাবার অধিকার এবং আইনের বাইরে বেখেয়ালে মারা না পড়ার অধিকার সব নাগরিকের থাকবার কথা, তারা যদি অপরাধী হয়েও থাকেন তার পরেও। একটি দেশে আইন-আদালত থাকবার পরেও যখন এভাবে একের পর এক মানুষকে গুলি করে হত্যা করে সেদেশের পুলিশ, তখন সেখানে আমরা চুপ করে থাকতে পারিনা। আইনশৃংখলা বাহিনীর এই সীমাহীন দৌরাত্ম্য যাকে কেউ লুকিয়ে ফেলতে না পারে এবং আমরা যাতে তার প্রতিরোধ করতে পারি–সেই লক্ষ্যে আমাদের কাজ করে যেতে হবে অবিরাম।
আপনাদের জানা শোনা কেউ এধরনের হত্যাকান্ডের শিকার এবং মামলা করতে বাধাগ্রস্থ হয়েছে কিনা সেটা এখানে লিখে তুলে ধরতে পারেন।পরাবর্তীতে আলোচনা করবো সেসব বিষয় নিয়ে। ধন্যবাদ।
read more

Read More

স্বরের রাজনীতি, ইতিহাস ও সর্বজনতন্ত্র নির্মাণ

১: স্বরের রাজনীতি

আমাদের আশে পাশে অনেকের কথা শোনা যায়, আবার অনেকের কথা শোনা যায় না। এই যে শোনা যাওয়া এবং না যাওয়ার সমস্যা, এটা রাজনীতির দিক থেকে অসম্ভব তাৎপর্যপূর্ণ। কথা শোনা যাবে কোথায়? রাজনৈতিক পরিসরে। অর্থাৎ বলা ও অপরকে শোনানোর মধ্য দিয়েই রাজনৈতিক পরিসর গড়ে ওঠে। অন্যদিকে রাজনীতির পরিসরে যিনি কথা বলতে পারেন না, তিনি তার রাজনৈতিক অস্তিত্ব নিয়েও অবস্থান করতে পারেন না। তিনি রাজনীতিতে অনুপস্থিত হয়ে যান। ফলে তার অস্তিত্বহীনতাই একমাত্র তার স্বর শুনা বা শুনা না যাওয়ার কারণ। যখন আপনি আপনার স্বর নিয়ে উপস্থিতি জানান দিতে পারেন না এবং আপনার কথা কেউ শোনে না, আপনি সমাজে উপস্থিত থেকেও অনুপস্থিত আপনি তখন ‘সাবঅলটার্ন হয়ে যান। ‘সাবঅলটার্ন মানে হল আপনি পলিটিকাল স্ফেয়ারের মধ্যে হাজির নাই, আপনার কন্ঠস্বর ধর্তব্য নয়, আমল অযোগ্য । গায়ত্রী স্পিভাকের একটা লেখার কথা আপনারা অনেকেই জানেন, ‘ক্যান দ্যা সাবঅলটার্ন স্পিক?’ মানে নিম্নবর্গ কি কথা বলতেপারেন? এখানে ফিজিক্যালি কথা বলতে পারেন কিনা এমন প্রশ্ন না। রাজনৈতিক পরিসরে আপনার কথা আপনি বলতে ও শোনাতে পারেন কিনা,সেটাই প্রশ্ন। read more

Read More