Blog

নির্বাচনী গণতন্ত্রের অরিয়েন্টালিস্ট ইউটোপিয়া

বখতিয়ার আহমেদ গত ৩০ ডিসেম্বর শুধু বাংলাদেশে না, উপনিবেশিক আফ্রিকার ‘হার্ট অফ ডার্কনেস’, কঙ্গো’তেও সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশে নির্বাচনের ‘ফলাফল’ প্রায় ‘রাতারাতি’ জানা গেলেও, সেখানে ফলাফল ঘোষণা হয়েছে গতকাল ৯ জানুয়ারি। নির্বাচন কমিশন প্রেসিডেন্ট জোসেফ কাবিলার বিরোধী নেতা ফেলিক্স চিশেকেদি’কে বিজয়ী ঘোষণা করেছে। সংবিধান অনুযায়ী দ্বিতীয় মেয়াদও শেষ হয়ে যাওয়ায় নির্বাচনে প্রার্থী হতে না পারা প্রেসিডেন্ট কাবিলা ক্ষমতা হস্তান্তরের ঘোষণা দিয়েছেন যার ফলে দেশটিতে তার দেড় যুগ শাসনের অবসানসহ ১৯৬০ সালের পরে প্রথমবারের মতন রক্তপাতহীন সরকার বদলের সম্ভবনা দেখা দিয়েছে। জোসেফ কাবিলা ক্ষমতায় আসেন ২০০১ সালে এক ব্যর্থ অভ্যূত্থানে বাবা লরেন্ট কাবিলা নিহত হওয়ার পরে। লরেন্ট ক্ষমতায় এসেছিলেন ১৯৯৭ সালে এক সফল অভ্যূত্থানে কঙ্গোর ৩১ বছরের স্বৈরশাসক মবুতু সেসে সেকো’কে ক্ষমতাচ্যূত করে। ছেলে জোসেফ ‘যদি’ ক্ষমতা হস্তান্তর করেন, আজকের ‘ডেমক্রেটিক রিপাব্লিক অফ কঙ্গো’ স্বাধীনতার ছয় দশকের মধ্যে পঞ্চম রাষ্ট্র প্রধান পাবে। যদিও এর মধ্যে নির্বাচন হয়েছে ১১টি, ১৯৬০ সালে স্বাধীনতার বছরের প্রথম নির্বাচনে জয়ী প্যাট্রিক লুমুম্বার বছর চারেকের সরকার ছাড়া কঙ্গোতে আসলে আর কখনো কোন নির্বাচিত সরকার আসেনি। ১৯৬১ সালে মবুতু সরকার লুমুম্বাকে গাছে বেঁধে গুলি করবার পর থেকে কঙ্গোতে কেউ আর নির্বাচনের সাথে গণতন্ত্রের কোন সম্পর্ক আছে বলে ভাবেনা। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের প্রাক্কালে সরকার ইন্টারনেট বন্ধ রেখেছিল, গণমাধ্যমগুলোকে কড়া নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল। বাংলাদেশ নয়, কঙ্গোর কথা বলছি। ২০ ডিসেম্বর ২০১৬ সালে জোসেফ কাবিলার মেয়াদ শেষ হলেও নানা অজুহাতে পেছাতে পেছাতে, নানা আন্তর্জাতিক চাপে সর্বশেষ ২০১৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর নির্বাচনের তারিখ ঠিক হয়েছিল। কিন্তু ২০ ডিসেম্বর রাতে নির্বাচন কমিশনের গুদামে এক রহস্যময় আগুনে ৮০০০ ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন পুড়ে গেলে আরো এক সপ্তাহ পিছিয়ে দেয়া হয় নির্বাচন। নির্বাচনের পরে ৬ জানুয়ারি প্রাথমিক আর ১৫ জানুয়ারি চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করে ১৮ জানুয়ারি ক্ষমতা হস্তান্তরের দিন ঠিক হয়। কিন্তু ৫ জানুয়ারি আবার ঘোষণা আসে যে অর্ধেকেরও কম ভোট পড়ায় ফলাফল ঘোষণা আরো দেরি হবে। এর মধ্যেই ৭ জানুয়ারি প্রতিবেশি তেল-সমৃদ্ধ দেশ গ্যাবনে প্রেসিডেন্ট আলী বঙ্গ’র বিরুদ্ধে এক ব্যর্থ অভ্যূত্থান ঘটায় সে দেশের সেনাবাহিনীর একাংশ, বঙ্গ পরিবারের পঞ্চাশ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে গণতন্ত্র পূণঃপ্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়ে। যদিও ১৯৬১ সাল থেকে নির্বাচনী ব্যবস্থার শুরু হয়ে, ১৯৬৭ সাল থেকে বাবার ৪১ বছর আর ছেলের ৯ বছর শাসনের এই দেশটিতেও প্রায় নিয়মিতই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আলী বঙ্গ’ও ২০০৯ ও ২০১৬ সালে দুই দফা নির্বাচন করেছেন এবং তার দলের নাম ‘গ্যাবনিজ ডেমক্রেটিক পার্টি’, যা মাঝখানে ২২ বছর গ্যাবনের একমাত্র বৈধ রাজনৈতিক দল ছিল এবং সেসময়েও নির্বাচন হয়েছে। যা হোক, গ্যাবনের অভ্যূত্থান কঙ্গোর নির্বাচনের হিসেবও সম্ভবত পাল্টে দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের গ্যাবনে সেনা মোতায়েনের পাশাপাশি, কঙ্গোতে অবস্থানরত মার্কিনীদের দেশত্যাগের পরামর্শও দেয়া হয় দূতাবাসের বরাতে। এর মধ্যে প্রধান নির্বাচনী পর্যবেক্ষক ‘ক্যাথলিক চার্চ’ পশ্চিমা কূটনীতিক মহলে জানায় যে তাদের হিসেবে বিজয়ী হয়েছে মার্টিন ফায়ুলু। কিন্তু ৮ জানুয়ারিতে জোসেফ কাবিলার সাথে মিটিং শেষে তারা সেটা অস্বীকার করে ক্ষমতা হস্তান্তরে প্রেসিডেন্টের সদিচ্ছার উপর আস্থা প্রকাশ করে। একই দিনে কাবিলা সরকার আর ফেলিক্স চিশেকেদি’র মধ্যে গোপন আলোচনার কথা অস্বীকার করেন কাবিলার একজন উপদেষ্টা। পরের দিন নির্বাচন কমিশন চিশেকেদিকে বিজয়ী ঘোষণা করে, জুনের এক প্রাক-নির্বাচন জরিপে যার বিরোধী ভোট পাওয়ার সম্ভবনা ছিল ৫%। একই জরিপে ৫৪% ভোট পাওয়ার সম্ভবনা থাকা মইসে কাটুম্বিকে আগেই নির্বাচন কমিশন অযোগ্য ঘোষণা করেছিল। ‘অন্ধকার মহাদেশ’ আফ্রিকার দেশগুলোর নির্বাচনী গণতন্ত্রের সাথে বাংলাদেশ কিম্বা অপরাপর ‘উন্নয়নকামী’ অপাশ্চাত্য দেশগুলোর মিল বা অমিল খোঁজা যেতে পারে, কিম্বা অপ্রাসঙ্গিক হিসেবে খারিজও করা যেতে পারে। কিন্তু তারপরেও উত্তর-উপনিবেশিক বিশ্ব-ব্যবস্থার একাডেমিক বিশ্লেষণে ‘কঙ্গো’ দেশটির একটা প্রতীকি তাৎপর্য আছে। ইংরেজী সাহিত্যের পোলিশ লেখক জোসেফ কনরাড ১৮৯৯ সালের উপন্যাসিকা ‘হার্ট অফ ডার্কনেস’-এ রহস্যময় কঙ্গো নদীর উজান বেয়ে এক রহস্যময় চরিত্র ‘কুর্জ’ এর মধ্য দিয়ে উপনিবেশিক শাসনের যে রক্তাক্ত ইতিহাস লিখেছিলেন, সেটা বোধহয় এখনো অপ্রাসঙ্গিক না। কনরাডের ‘কুর্জ’, খুব অল্প কথায় বললে, উপনিবেশিক কঙ্গোতে হাতির দাঁত হাতানো এক বেলজিয়ান কোম্পানীর দারুণ চৌকষ ও সফল কর্মকর্তা, যে পাশাপাশি কালো মানুষদের সভ্য করতে গিয়ে তাদের অবতারসম এক মানুষ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এই ‘অবতার’ তারপরেও কালাদের প্রতি ভীতি, বিদ্বেষ আর বিবমিষা নিয়েই শেষমেশ মরে যান উপন্যাসের কথক চরিত্র মার্লো তাকে উদ্ধার করে আনবার পথে। বোদ্ধাদের মতে, কনরাড আফ্রিকা নিয়ে সে সময়ের ইউরোপীয়ানদের মনভঙ্গীকেই আঁকতে চেয়েছেন এই চরিত্রটিতে। পশ্চিমা চোখ দিয়ে প্রাচ্য সমাজ বিচারের মনোভঙ্গী, যাকে পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যপ্রাচ্য নীতির সবচে কঠোর সমালোচক নাম দিয়েছিলেন ‘অরিয়েন্টালিজম’, সেই এডোয়ার্ড সাইদেরও গোড়ার কাজ ছিল জোসেফ কনরাডের সাহিত্য নিয়ে যা তাঁর চিন্তার গড়নকেও গড়ে দিয়েছিল বলে আমার বিশ্বাস। ‘গড ফাদার’ খ্যাত পরিচালক ফ্রান্সিস ফোর্ড কপোলাও ভিয়েতনাম যুদ্ধে সাম্রাজ্যবাদী ক্ষমতার প্রতিকৃতি আঁকতে গিয়ে তার ‘এপোকাইলিপ্স নাউ’ চলচ্চিত্রের আদল হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন কনরাডের এই উপন্যাসটি, কর্নেল ‘কুর্জ’ চরিত্রটিসহ। সাইদের মতন উত্তর-উপনিবেশিক ইতিহাসবোধের জায়গা থেকে তাকালে, ‘নির্বাচনী গণতন্ত্র’কে আজকের কর্পোরেট শাসিত সমরতান্ত্রিক বিশ্ব-ব্যবস্থায় মক্কেল রাষ্ট্রগুলোতে মহাজন রাষ্ট্রগুলোর পৌরহিত্যে অনুষ্ঠিত স্রেফ একটা রাজনৈতিক ‘আচার-অনুষ্ঠান’ মনে হয় যেখানে জনগণ আদতে পশ্চিমা পৌরধর্মে ধর্মান্তরিত পুজারি মাত্র। রাজনীতিকদের মন্ডপে প্রসাদ আর পূণ্য লাভের আশায় যারা মাঝে মাঝে এসে লাইনে দাঁড়ায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মধ্যদিয়ে ইউরোপ-কেন্দ্রিক সনাতন উপনিবেশিক বিশ্ব-ব্যবস্থা ভেঙ্গে উদয় হওয়া নতুন জাতিরাষ্ট্রগুলোর সামনে দুই পরাশক্তির কোন একটির বলয়ে যাওয়ার চাপ ছিল। কম্যুনিস্ট বলয়ের একদলীয়-একনায়কী শাসন ব্যবস্থার বিপরীতে পুঁজিবাদী ইউরো-মার্কিন আদলের দ্বিদলীয় নির্বাচনী গণতন্ত্রকে মহিমান্বিত করবার শুরু সেসময় থেকেই। ষাট-সত্তুরের দশকে আফ্রিকা-এশিয়া-দক্ষিণ আমেরিকার ছোট দেশগুলোর সমাজতন্ত্রঘেঁষা জাতীয় মুক্তি-সংগ্রামগুলোর নিজস্ব গণতান্ত্রিক সম্ভবনা একে একে মারা পড়তে থাকে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মার্কিন মদদপুষ্ট সামরিক অভ্যুত্থানের হাতে। আশির দশক থেকে এই সামরিক একনায়কেরাই মূলত দেশগুলোতে পরের দ্বি-দলীয় গণতন্ত্র দাঁড় করানোর কারিগর, সেটা স্বেচ্ছায় হোক কিম্বা আন্তর্জাতিক পৃষ্ঠপোষকদের চাপেই হোক। নব্বই দশকের সোভিয়েত বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে নিরঙ্কূশ হওয়া এককেন্দ্রিক কর্পোরেট বিশ্ব-ব্যবস্থায় এই দ্বিদলীয় নির্বাচনী ব্যবস্থাই গণতন্ত্রের একমাত্র সূচক বা শর্ত হিসেবে উদযাপিত হতে থাকে। কর্পোরেট মিডিয়া আর জাতিবাদী ভাবাদর্শের উচ্চকিত বোলচালে চাপা পড়ে এই সত্য যে এই ‘নির্বাচনী গণতন্ত্রে’র সাথে প্রকৃত গণতন্ত্র তথা জনগণের ক্ষমতায়নের তেমন কোন সম্পর্ক নেই। নির্বাচন আসলে এই ইউরো-আটলান্টিক বেনিয়া ক্ষমতাতন্ত্রের বিশ্ব-ইতিহাস থেকে ভেসে এসে আমাদের মনে গেড়ে বসা একটা ইউটোপিয়া যা তাদের মক্কেল ক্ষমতাতন্ত্রকে যেমন একদিকে টিকিয়ে রাখে, অন্যদিকে এর দখল নিয়ে বিবাদমান পক্ষগুলোর সংঘাতকে সহনীয় মাত্রায় রাখবার উপায় হিসেবে কাজ করে, যাকে আমরা সাধারণত ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ ধরনের কথাবার্তা হিসেবে শুনতে পাই। এই ইউটোপিয়ার স্বরূপ চিনতে হলে এইসব বোলচালের বিভ্রম সরিয়ে আমাদের কয়েকটা জিনিস স্পষ্টতই খেয়াল করতে পারতে হবে। প্রথম; নির্বাচন মানে গণতন্ত্র না, গণতন্ত্রের কোন মৌলিক উপাদান না। কোন কোন ক্ষেত্রে এইটা গণতন্ত্রহীন পরিস্থিতির সাময়িক প্রতিকার মাত্র। চিকিৎসা মানে যেমন স্বাস্থ্য না, স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের প্রতিকার মাত্র। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এইটা গণতন্ত্র বিনাশী একটা প্রক্রিয়া যা প্রকৃত গণতন্ত্রকে শুকিয়ে মারার কাজে লাগে। কারণ সবচেয়ে আদর্শ কল্পনাতেও নির্বাচন মূলত সংখ্যাগুরুর শাসক পছন্দ করবার উপায়মাত্র। কিন্তু প্রকৃত গণতন্ত্র মানে সংখ্যাগুরুর শাসন না, তাদের পছন্দের সংসদ, সরকার কিম্বা সংবিধান না। প্রকৃত গণতন্ত্র মানে সর্বজন-বিরচিত, সর্বজন-বিদিত, সাধারণ্যের সর্বসম্মত সোশাল কন্ট্রাক্ট। সমাজে সেইটা ক্রিয়াশীল থাকলে সাংসদ কিম্বা সরকারের আর দরকারই পড়ে না মানুষের। দ্বিতীয়ত; নির্বাচন গণতন্ত্রকে ‘প্রতিনিধিত্বে’র নামে প্রতি পাঁচ-বছরের জন্য ফাঁস পড়িয়ে রাখে। নির্বাচনী ব্যবস্থায় পাঁচ বছরে একবার ভোট দেয়া ছাড়া নাগরিক বা সমাজের সরকার বা রাষ্ট্রের উপরে আর কোন নিয়ন্ত্রনই থাকেনা। এই পাঁচ বছর নাগরিকদের জন্য রাষ্ট্র মানে স্রেফ আমলাতন্ত্র আর তার অলি-গলি-সন্ধির গোলক ধাঁধাঁয় ঘুরপাক খাওয়া। তৃতীয়ত; সংখ্যাগুরুত্বের দোহাই দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেও নির্বাচন আসলে তিনশ থেকে পাঁচশ লোকের খুব ছোট একটা দলকে কোটি কোটি মানুষের জীবন-জীবিকার নিয়ন্তা বানিয়ে রাখে। সেজন্যই উনারা সন্ত্রাস আর সংখ্যাগুরুত্বের দোহাই দিয়ে নির্বাচন নামের একটা ফানুশ বানিয়ে রাখেন, সমাজকে বিভক্ত করে রাখবার নানা কায়দা-কানুন তৈরী করতে থাকেন। প্রায়শই আবার সেইটা ঝুলিয়ে রেখে তামাশা দেখেন।রাজনীতির নামে সোশাল কন্ট্রাক্টের বদলে সহিংসতার শাসন জারি রাখেন। চতুর্থ; রাষ্ট্রীয় শাসন প্রণালী যেহেতু বল-প্রয়োগ নির্ভর, সংখ্যাগুরুত্বের গণতন্ত্র আদতে সামরিক শাসনেরই নামান্তর। এইটা ভোট দিয়ে দুই ভোটের মাঝের বছরগুলোতে কারা আপনাকে বৈধ এবং অবৈধভাবে ঠ্যাঙাবে সেইটা চুজ করবার ব্যাপার। সে বিচারে নির্বাচন আসলে সাংসদ নামের নির্বাচিত স্বেচ্ছাচারীদের শাসন কায়েম করে- যারা আইন বলতে শাসন বোঝেন, শাসন বলতে সন্ত্রাস বোঝেন, সরকার বলতে দল বোঝেন, দল বলতে দলনেতা বোঝেন। যারা উন্নয়ন বলতে প্রকল্প বোঝেন, প্রকল্প বলতে টেন্ডার বোঝেন, টেন্ডার বলতে টাকা বোঝেন; নাগরিক বলতে ভোটার বোঝেন, আর ভোটার বলতে ভোদাই বোঝেন। পঞ্চমত; আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পৃষ্ঠপোষক না থাকলে, তাদের আস্থা অর্জনের প্রতিযোগিতায় না থাকলে, কর্পোরেট বিশ্ব-ব্যবস্থার অনুকুলে জনবিরোধী অর্থনৈতিক নীতি ও সংস্কারের প্রতিশ্রুতি না দিলে, বল্গাহীন বাজার ব্যবস্থায় উম্মত্ত মুনাফার ম্যানেজারি না করতে পারলে, এসবের ফলে বাড়তে থাকা আর্থ-সামাজিক বৈষম্য ও নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে মাথা ঘামালে; এবং এগুলো টিকিয়ে রাখা গণবিরোধী শাসন-প্রণালী কায়েম করতে না জানলে কোন দলই এই নির্বাচনী বৈতরনী পেরুতে পারে না। ষষ্ঠত; ফলে একটু খেয়াল করলেই দেখা যায় যে এই দ্বিদলীয় নির্বাচনী দোসরদের মধ্যে দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক বা প্রশাসনিক নীতির মধ্যে তেমন কোন পার্থ্যক্য থাকেনা। জাতিবাদ, ইতিহাস, ধর্ম, কিম্বা অন্য ভাবাদর্শ নিয়ে মারামারি যদিও চলতে থাকে। সপ্তমত; এইরকম পরিস্থিতিতে নির্বাচনে নাগরিকদের হাতে ‘মন্দের ভাল’ ছাড়া বেছে নেয়ার মতন আর কিছু থাকেনা।এইটা খানিকটা আমাদের শিক্ষা-ব্যবস্থায় পশ্চিম থেকেই আসা ‘এমসিকিউ’ পদ্ধতির প্রশ্নের মতন, শুধু প্রদত্ত উত্তর চারটার বদলে দুইটা থাকে। গোল্লা পূরণের বদলে, ভাগ্য ভাল হলে, সীল মেরে আসতে হয়। অষ্টমত; কর্পোরেট মিডিয়ার প্রবল আবির্ভাব ‘জনমত’কেও নানা ভাবাদর্শিক বোলচালে বিপনন-কৌশলের আওতায় এনে কোন একটি পক্ষে নিয়ন্ত্রণ করবার মতন ব্যাপার বানিয়ে ফেলেছে। ফলে প্রচারণার জোরে, নানা জিগির তুলে, এই জনমতকে যে কোন দিকে খেদিয়ে নেয়া যায়। ২০০১ সালের পরে, ‘ওয়ার অন টেররে’র বিশ্ব-রাজনীতি কায়েম হওয়ার পরে নির্বাচনী রাজনীতিতে দূর্বোধ্য সব সূচক আর বিরাট বিরাট নির্মাণ যজ্ঞে মাপা ‘উন্নয়ন’, আর ‘সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলা’র প্রশ্নটি আর সবকিছুকে ছাপিয়ে গিয়েছে। ফলে এই কমপক্ষে দ্বিদলীয় কোন গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বৈধতা অর্জন করাটা আর কূট-কৌশলী কোন সরকারের জন্য খুব জরুরী কিছু থাকছে না। তারচেয়ে বৈশ্বিক ও স্থানীয় কর্পোরেট মহাজনদের দক্ষ ম্যানেজারি, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মোড়লদের বিশ্বস্ত মক্কেলি, আর বিরোধী দল কিম্বা বিক্ষুব্ধ পাবলিক দাবড়ানোর কলা-কৌশল জানা থাকলে এখন জনমত কিম্বা ভোটের তোয়াক্কা না করলেও চলে। সেই দাবড়ানি দেখে সবচেয়ে সরল মনের প্রাচ্যবাদী দেশি কিম্বা বিদেশী ইংরেজটিও হয়তো শেষমেষ এখন দীর্ঘশ্বাস ফেলে ভাবেন — নাহ এরা এখনো গণতন্ত্রের যোগ্য হয়ে উঠতে পারেনি। কঙ্গোর ঘটনা বুঝতে গিয়ে মনে হল এই নির্বাচনী গণতন্ত্রের ইউটোপিয়া যারা আমাদের গিলিয়েছিলেন, তারাই তো এটাকে স্রেফ একটা পাঁচশালা পরব বানিয়ে ফেলেছেন, এমনকি নিজেদের দেশেও। আর আমার ‘নব্বইয়ের মহান গণ-অভ্যূত্থানে’র ইল্যূশন কাটাতেই বয়সের প্রায় অর্ধেক কেটে গেল, সমস্যাকেই সমাধান ভেবে ভেবে কেটে গেল এতগুলান বছর, এই ইউটোপিয়া চিনতে আজকে কঙ্গো-বঙ্গ ঘুরে আসতে হল! আফসোস !

Facebook Comments read more

Please follow and like us:
Read More

সুবর্ণচরের এক জোড়া চোখ এবং ধর্ষকের দলীয় পরিচয় আড়াল করার রাজনীতি

|মাহতাব উদ্দীন আহমেদ, লেখক ও একটিভিস্ট | নোয়াখালির সুবর্ণচরের ঘটনা এখন সবার জানা। নির্বাচনের পর পরই নৌকায় ভোট না দেয়ার কারণে আওয়ামী লীগের ১০-১৫ জন কর্মী মিলে দলগত ধর্ষণ করে চার সন্তানের জননী পারুল বেগমকে। পত্রিকা মারফত খবরটা জেনে পরিস্থিতি সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে ও বুঝতে গত ৩রা জানুয়ারি নৃবিজ্ঞানী নাসরিন সিরাজ ও আমি ঘটনাস্থলে যাই। আমি সেখানে যা যা দেখেছি এবং শুনেছি তার বিস্তারিত বিবরণ দিতে চাই। কারণ এই বিবরণ আমাদের সাহায্য করবে পরিস্থিতি বুঝতে। যে হাসপাতালে এখন পারুল বেগমকে রাখা হয়েছে সেখানে গিয়ে আমাদের সাথে পারুল বেগমের স্বামী, সন্তান ও প্রতিবেশীদের সাথে দেখা হয়। তার পর তাঁর সন্তান ও প্রতিবেশীদেরকে সাথে নিয়ে আমরা যাই পারুল বেগমের সুবর্ণচরে বাড়িতে। আমরা গ্রামবাসী ও প্রতিবেশীদের সাথে কথা বলে জানতে পারি পারুল বেগম এলাকাতে বেশ সরব কন্ঠ ছিলেন। তবে তিনি বা তার দরিদ্র সিএনজি চালক স্বামী কেউই বিএনপির কর্মী নন। তারা কেবল সমর্থক। শুধু এই জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই নয় বরং বহু আগে থেকেই স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমিন ও তার লোকজন পারুল বেগমের পেছনে লেগে ছিলেন। কারণ বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের (তাঁদের ভাষায় মেম্বার নির্বাচন) সময় পারুল বেগম রুহুল আমিনের বিপক্ষে কাজ করেছিলেন। তখন থেকেই রুহুল আমিন ও তার দলবলের পারুল বেগমের উপর আক্রোশ। নানাভাবে তারা পারুল বেগমকে উত্যক্ত করতেন। কিন্তু সাহসী নারী পারুল বেগম চলতে ফিরতে রাস্তাঘাটে সেসবের উত্তরও দিতেন। গত ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনের দিনও পারুল বেগমকে তারা নৌকায় ভোট দিতে চাপাচাপি করে ও হুমকি দেয়। কিন্তু তিনি ধানের শীষে ভোট দিয়ে আসেন। এতে ক্ষিপ্ত হয় তারা। পরে নির্বাচনের পর গভীর রাতে পারুল বেগমরা যখন ঘুমাতে যাচ্ছিলেন তখন প্রথমে তার টিনের ঘরের বাইরের রুমে যেখানে টিন লাগোয়া খাটে তার বড় ছেলে শুয়েছিল সেই টিন ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ দিয়ে কেটে ফেলে আওয়ামী লীগের কর্মীরা এবং দরজায় কোপ দিতে থাকে। পারুলের অসুস্থ স্বামী এসময় ভেতরের ঘরে শুয়ে ছিলেন। পারুলরা যখন আতংকিত হয়ে জিজ্ঞেস করে যে কে তখন তারা উত্তর দেয় যে তারা আইনের লোক। এতে সন্দেহ হলে পারুলরা দরজা না খুলে ভেতর থেকে প্রশ্ন করতে থাকলে এক পর্যায়ে তারা হুমকি দেয় যে দরজা না খোলা হলে দরজা ভেঙ্গে ভেতরে ঢোকা হবে। এরপর দরজা খুলতে বাধ্য হলে তারা সবাই একযোগে পারুলদের ঘরে ঢুকে পড়েন। এসময় ঘরের লাইটের আলোয় তারা দেখতে পান যে স্থানীয় আওয়ামী লীগের কর্মীরাই, যারা রুহুল আমিনের চ্যালাচামুন্ডা হিসেবে পরিচিত, যারা পারুলকে নিয়মিত উত্যক্ত করতেন তারা বড় বড় মোটা মোটা লাঠি, রামদা, চাপাতি, শাবলসহ ধারালো অস্ত্র হাতে তৈরি হয়ে এসেছে। ঘরে ঢোকার সাথে সাথেই তারা ঘরের লাইট বাড়ি মেরে ভেঙ্গে ফেলে। এরপর তারা প্রথমে পারুলের ১৪ বছর বয়সী মেয়েকে ধর্ষণ করতে উদ্যত হয়। এসময় পারুল তাদের গিয়ে বলেন যে তাদের যাবতীয় আক্রোশ তো তার উপরে। তাই তাদের যা করার সেটা যেন তার সাথে করে। তার মেয়েকে যেন ছেড়ে দেয়া হয়। তখন এক পর্যায়ে আক্রমণকারী আওয়ামী লীগের কর্মীরা পারুলের অসুস্থ স্বামী সিরাজুল ইসলামকে তিনি যেখানে শুয়ে ছিলেন সেই খাটের সাথে বেঁধে ফেলে আর পারুলের চার ছেলেমেয়েকে বেঁধে ফেলে আরেক ঘরে। পারুলের স্বামী ও তাঁর সন্তানদের সবারই মুখ বেঁধে ফেলা হয়। এসময় লুঠ করা হয় পারুলদের বহু কষ্টে সঞ্চিত ৪০ হাজার টাকা এবং কিছু স্বর্ণালংকার। এরপর দুই ঘরেই পাহারায় লোক বসিয়ে বাকিরা পারুলকে টেনে হিচড়ে নিয়ে ছুঁড়ে ফেলে তারই উঠানে। এসময় তারা পারুলকে হুমকি দেয় যে যদি পারুল চিৎকার করে তাহলে তার সন্তানদের মেরে ফেলা হবে।

ধারালো অস্ত্রের আঘাতে কেটে ফেলা পারুলদের টিনের ঘরের টিন

এই খাটের হাতলের সাথে বেঁধে রাখা হয়েছিল পারুলের স্বামী সিরাজুল ইসলামকে

পারুলের দুই সন্তানকে বেঁধে রাখা হয়েছিল এই ঘরের খুটিটার সাথে।

পারুলের বাকি দুই সন্তানকে বেঁধে রাখা হয়েছিল এই খুটিটার সাথে

স্বর্ণালংকার ও ৪০ হাজার টাকা লুট করা হয় এখান থেকে
এর পর পারুল বেগমের উপর রাতভর নির্যাতন চলে তাঁর নিজেরই বাড়ির উঠানে। উঠানের পাশে একটি পুকুর ছিল, যেই পুকুরপাড়ে হয়তো পারুল বেগম বসতেন শীতের রোদ পোহাতে। একপর্যায়ে সেই পুকুরপাড়ে কাঁঠালগাছের নিচে চলে এই অকথ্য নির্যাতন। আওয়ামী লীগের কর্মীরা তাকে কেবল দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করেই ক্ষান্ত হয় নি। কোদালের কিংবা কুঠারের পেছনে যেরকম মোটা লাঠি থাকে সে মোটা লাঠি দিয়ে তাকে ভয়াবহভাবে পিটিয়েছে। এক পর্যায়ে তার এক হাত ভেঙ্গে যায়। শুধু তাই নয় ধর্ষণ করে ফেলে রেখে যাওয়ার সময় তারা পারুল বেগমের গায়ে মূত্রত্যাগ করে দিয়ে যায়। পরে আমরা হাসপাতালে গিয়ে জানতে পারি তাঁর সারা শরীরে কালশিটে পড়েছে এবং শরীরে ৫২টি কামড়ের দাগ ছিল। এইসব বিবরণ শুনতে শুনতে আমার মনে হচ্ছিল যে আমি কোন স্বাধীন দেশের নয়, আমি একাত্তর সালের পাকবাহিনীর কোন কনসেনট্রেশন ক্যাম্পের কাহিনী শুনছি। আপনাদেরও কি তাই মনে হচ্ছে না? পারুল বেগম এখন হাসপাতালে। হয়তো একসময় তিনি শারিরীকভাবে সেরেও উঠবেন। হয়তো জনরোষের চাপে পড়ে এই ঘটনায় জড়িতদের শাস্তিও দেয়া হবে। কিন্তু যে আঘাত তাঁর মনের গভীরে গেঁথে রইবে, যে অপমানের দুঃসহ স্মৃতি তাঁকে তাড়া করে ফিরবে তার ঘরের প্রতিটি কোনায় কোনায়, তাঁর উঠানে, তাঁর রান্নাঘরের সামনে, তাঁর উঠানের গাছগুলোর নিচে, তাঁর পুকুরঘাটে — সেই আঘাত, সেই অপমান তিনি কি করে ভুলবেন? আওয়ামীপন্থী বুদ্ধিজীবী, আওয়ামীপন্থী নারীবাদীরা কোন উন্নয়নের গল্প শুনিয়ে তাঁকে ভোলাবেন? পারবেন কি? কিংবা পারুলের যে সন্তান ধর্ষকেরা চলে যাওয়ার পরে পারুলকে অজ্ঞান, রক্তাক্ত ও উলঙ্গ দেখে লজ্জা পেয়ে আবার ঘরে ঢুকে পড়তে বাধ্য হয়েছিল সেই সন্তানের কাছে আপনারা কোন চেতনার গালগল্প শোনাবেন? কি দিয়ে তাকে ভোলাবেন? পারুল বেগমের কথা বাদই দেই, পারুল বেগমদের পালিত যে কুকুরটিকে ধর্ষকেরা গাছের সাথে বেঁধে রেখেছিল পারুলকে ধর্ষণ করার আগে সেই কুকুরটির কাছেও কি কোনদিন এই আপনারা মুখ তুলে তাকাতে পারবেন?

পারুলদের দরজার সামনের উঠান যেখানে হয়তো তাঁর পরদিন শীতের মধ্যে রোদ পোহানোর কথা ছিল

পুকুরপাড়ের এই বোবা গাছগুলো নীরব সাক্ষী এই ঘটনার

আরো কিছু বোবা গাছ। ঘটনার নীরব সাক্ষী

এই রান্নাঘর ও সাথের গাছগুলোও ঘটনার নীরব সাক্ষী

ঘটনার নীরব সাক্ষী আরো কতগুলো বোবা গাছ। এরা কি জানতো কোনদিন যে তাদের পদতলেই ঘটবে এমন ভয়াবহ জুলুম?

পারুলদের পালা কুকুর যাকে ঘটনার আগে দিয়ে বেঁধে ফেলেছিল ধর্ষকেরা
আমরা গ্রামের মানুষের কাছ থেকে আরো জানতে পারি যে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা রুহুল আমিন ও তার চ্যালাচামুন্ডারা এমন কাজ যে এই প্রথম করলো তা নয়। এমন কাজ তারা আগেও বহুবার করেছে। গত ১০ বছর ধরে চলছে তাদের অত্যাচার। ধর্ষণ ছাড়াও গাছ কেটে নেয়াসহ তাদের নানবিধ অত্যাচারের কথাও তাঁরা আমাদের জানালেন। গ্রামের মানুষ আমাদের এমনটাও বলেছেন যে রুহুল আমিন গংদের কাজই হচ্ছে ঘরে ঘরে এভাবে মেয়েদের উপর হামলা করা। আমরা মাত্র ঘন্টাখানেকের কথাবার্তাতেই এরকম তিনটি ঘটনার কথা জানতে পারলাম যেখানে মহিলারা নিজেরা এসে এসে আমাদের বলেছেন যে তাদের পরিবারের মেয়েদেরও ধর্ষণ করা হয়েছিল এবং কোনটারই কোন বিচার হয়নি। শুধু তাই নয়, অবস্থা এতটাই ভয়াবহ যে এদের অত্যাচারে যেসব পরিবারে মেয়েরা বড় হয়েছে সেসব পরিবার সুযোগ থাকলে মেয়েদের এলাকা থেকে বাইরে পাঠিয়ে দিচ্ছে ধর্ষণের হাত থেকে রক্ষা করতে। কারণ এলাকায় থাকলেই এদের হাতে ধর্ষণের শিকার হতে হবে এ ব্যাপারে তারা প্রায় নিশ্চিত। একজন মহিলা আমাদের জানালেন ধর্ষণের আশংকায় তাঁর মেয়েকে তিনি ঢাকায় পাঠিয়ে দেয়ার পর যেদিন মেয়ে ঈদের বন্ধে বাড়ি আসে তখন বাজারে গিয়ে কানাঘুষা শুনতে পান যে রুহুল আমিনের লোকেরা ওইদিন রাতে তাঁর বাড়িতে আক্রমণ করার পরিকল্পনা আঁটছে। তখন তিনি আর বিলম্ব না করে সাথে সাথেই মেয়েকে বাসা থেকে বের করে ব্লেড হাতে বের হন এবং মেয়েকে সুবর্ণচর থেকে চৌমুহনীতে নিয়ে এসে ঢাকার গাড়িতে উঠিয়ে দিয়ে তারপর বাড়িতে ফিরেন। বাংলাদেশ সরকার কিংবা আওয়ামী লীগের নেতা ও বুদ্ধিজীবীরা তো বাংলাদেশ মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে এটা নিয়ে কৃতিত্ব নিতে কোন কার্পন্য করেনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তো মাদার অব হিউম্যানিটি খেতাবও দিয়ে দেয়া হল। কিন্তু এইভাবে নিজের এলাকা থেকে সুবর্ণচরের মেয়েদের বিতাড়িত হতে বাধ্য হওয়ার সাথে মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমি থেকে বিতাড়িত হওয়ার ঘটনার কি খুব বেশি পার্থক্য আছে? স্থানীয় মানুষ আমাদের কাছে আরও অভিযোগ জানান যে নির্বাচনের দিন রাতে রুহুল আমিন ও তার দলবল ধানের শীষে ভোট দেয়া আরো কতগুলো পরিবারের মেয়েদের উপর হামলার পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু মানুষের পাহারার কারণে সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। পারুলের স্বামীর সাথে কথা বলে আমরা জানতে পারি যে পুলিশ প্রথমে যে এফআইআর লিখেছিল সেটাতে তিনি মূল হুকুমদাতা রুহুল আমিনসহ মোট ১৩ জনের নাম দিয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশ রুহুল আমিন সহ আরো চারজনের নাম সেটিতে অন্তর্ভুক্ত করেনি। ফলে তিনি সেই এইআইআর প্রত্যাখান করেন। কিন্তু সাহসী পারুল বারবারই মিডিয়ার সামনে রুহুল আমিনের নাম নেন এবং ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে জনরোষ ও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়তে থাকে। এক পর্যায়ে পুলিশ রুহুল আমিনকে গ্রেপ্তার করলেও এখন পর্যন্ত এফআইআরে পারুলদের অভিযোগ অনুসারে মূল হুকুমদাতা রুহুল আমিনের নাম নেই। এখন চাপে পড়ে রুহুল আমিনকে গ্রেপ্তার করা হলেও পরে যে সে এই আইনী ফাঁকটাকে কাজে লাগিয়ে বের হয়ে যাবে না তার নিশ্চয়তা কে দিতে পারে? পারুলকে যারা ধর্ষণ করেছিলেন তারা বেশিরভাগই ইটভাটায় কাজ করে বলে গ্রামের মানুষ আমাদের জানান। রাজনৈতিক প্রশ্রয় ও মদত ছাড়া এদের কি কখনো এতটা সাহস পাওয়া সম্ভব যে একজনের বাড়িতে গিয়ে তার উঠানে তাকে ধর্ষণ করে আসবে?

FIR এর কপি

এজাহার এর কপি
পারুলদের বাড়িতে স্থানীয়দের সাথে কথা বলার সময়ই কয়েকজন স্থানীয় বৃদ্ধ আমাদের সাথে যোগ দেন। তাঁদের একজন আমাকে তাঁর হাত বাড়িয়ে দেখান যে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কিভাবে তাকে প্রহার করেছে তার ছেলের থেকেও বয়সে ছোট আওয়ামী লীগের কর্মীরা। তার লুঙ্গিতে রক্তের দাগও আমাকে তিনি দেখান। তবে সচরাচর যেমনটা হয় এসব ধর্ষণের ক্ষেত্রে যে মেয়েটাই বেশি বাড়াবাড়ি করেছে এজাতীয় কথাবার্তা বলা – এমন কোন কথা আমরা একজনের মুখ থেকেও শুনিনি। বরং তারা সবাই একই সুরে কথা বলেছেন যে কি পরিমাণ জুলুম করা হয়েছে পারুলের উপর এবং তারা সবাই এর বিচার চান। আমি তখন একপর্যায়ে এক বৃদ্ধকে জিজ্ঞেস করি যে এত এত ক্ষোভ যেখানে জমে আছে, এত বড় জুলুম যেখানে করা হল সেখানে এলাকায় কেন প্রতিবাদ হচ্ছে না? তিনি তখন অস্ফুটে শুধু বললেন যে “প্রতিবাদ…”। বলে থেমে গেলেন। তখন আমি তাঁর যে চোখদুটো দেখলাম সেই চোখের কথা হয়ত আমি কখনোই ভুলব না। কোনায় চিক চিক করা সেই চোখে ছিল এক অসহ্য ব্যাথা, যেটা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। সেই চোখে ছিল অসংগঠিত জনগণের তীব্র আকুতি, তীব্র অসহায়ত্ব। সেই চোখ আমাকে মর্মে মর্মে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছিল এতক্ষণ যে ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা শুনছিলাম তার কথা, ধর্ষকদের প্রবল প্রতাপশালী রাজনৈতিক পরিচয়ের কথা, প্রশাসনের নির্বিকারচিত্ততা-অসংবেদনশীলতার কথা, ধর্ষকদের রক্ষা করার চেষ্টার কথা, এলাকার এ জাতীয় একটা ঘটনারও যে বিচার হয়নি তার কথা। সেই চোখে যারা এই ব্যবস্থার জন্য দায়ী তাদের প্রতি এক তীব্র অভিশাপও আমি দেখেছিলাম। ধর্ষিতার প্রতি প্রশাসনের অসংবেদনশীলতার আরেক নমুনা আমরা পাই পরে যখন পারুলদের বাড়ি থেকে আবার নোয়াখালি জেনারেল হাসপাতালে যাই পারুলকে দেখতে। সেখানে নৃবিজ্ঞানী নাসরিন সিরাজ পারুলের কেবিনে ঢুকে দেখতে পান রুমে দুইটি বেড। একটিতে পারুল চাদর গায়ে শুয়ে আছেন। ঘরে মহিলা পুলিশ দাঁড়িয়ে আছে। তার পাশের বেডে এক পুরুষ পুলিশ হেলান দিয়ে শুয়ে শুয়ে তার মোবাইল টিপছেন! তবে আমরা একটু অবাক হয়েই আবিষ্কার করলাম যে গ্রামের মানুষ আমরা ওখানে যাওয়ার দিন পর্যন্ত ঢাকাসহ দেশের নানান জায়গায় পারুলের ধর্ষণ নিয়ে যতগুলো বিক্ষোভ হয়েছে তার প্রতিটির খবরই তারা রাখেন। মিডিয়া সেসব খবর সবগুলো না দিলেও ফেসবুক মারফত তারা এসব জেনেছেন বলে জানান। শুধু তাই নয়। এসব বিক্ষোভে তারা নিজেরাও বেশ উদ্দীপ্ত বলে মনে হয়েছে। উল্লেখ্য আমরা চলে আসার একদিন পরে সেখানেও বিক্ষোভ হয় বলে আমি জানতে পারি। বছরের প্রথম দিন থেকেই পারুল বেগমের ধর্ষণের ঘটনায় সারা দেশের বিভিন্ন জায়গায় একের পর এক বিক্ষোভ চলছেই। নানাবিধ গ্রুপ থেকে হচ্ছে এই বিক্ষোভ যেটা চলমান থাকা খুবই জরুরী। কিন্তু এই বিক্ষোভ চলমান অবস্থাতেই আওয়ামী বুদ্ধিজীবী মহল থেকে একটি “অরাজনৈতিক” বক্তব্যকে সামনে আনার চেষ্টা করতে দেখা যাচ্ছে। আর তা হল “ধর্ষকের কোন দল নাই”। এক্ষেত্রে আরো যেটা প্রকটভাবে লক্ষনীয়, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর পর ২০০১ সালে যখন পূর্ণিমাকে একই কারণে দলগত ধর্ষণ করে বিএনপির কর্মীরা তখন কিন্তু এদের কাউকেই “ধর্ষকের কোন দল নাই” জাতীয় কথাবার্তা বলতে দেখা যায়নি এবং তখন তারা ব্যাপক মাত্রায় সরব ছিলেন। তাহলে আজকে ২০১৮ সালে এসে যখন একই কাজ আওয়ামী লীগের কর্মীরা করল তখন তাদের প্রায় সকলেই চুপ কেন? তাহলে তাদের কাছে কি আওয়ামী লীগের কর্মীদের দ্বারা ধর্ষণ করা জায়েজ? আর দেশজোড়া ব্যাপক সমালোচনার পর সম্ভবত চাপে পড়ে তাদের মধ্যে গুটিকয় যারা কথা বলেছেন তারাই বা কেন হঠাৎ করে ইনিয়ে বিনিয়ে এই বক্তব্যকে সামনে আনতে চাইছেন যে “ধর্ষকের কোন দল নাই”? একটি মাত্র শব্দেই তাদের এই আচরণের ব্যাখ্যা হয়। আর তা হল অসততা। এই অসততা তারা গত ১০ বছর ধরেই উত্তরোত্তর দেখিয়ে চলেছেন। আর এর মাধ্যমে তারা বুদ্ধিজীবী থেকে পরিণত হয়েছেন আওয়ামীজীবীতে এবং তাদের এই ধর্ষকের কোন দল নাই জাতীয় কথাবার্তার পরে এখন আওয়ামী লীগ থেকে বলা হচ্ছে যে ধর্ষণের কোন দায়ভার আওয়ামী লীগ নেবে না কারণ “একটি অপরাধকে রাজনৈতিক আবরণ দেয়ার কোন সুযোগ নেই”। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সদস্যদের দ্বারা ধর্ষণের দায়ভার যদি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর উপরই বর্তায়, পূর্ণিমাকে ধর্ষণের দায়ভার যেখানে বিএনপির উপরই বর্তাবে, সেখানে আওয়ামী লীগ কর্মীদের দ্বারা ধর্ষণের দায়ভার কেন আওয়ামী লীগ নিবে না? কোন যুক্তিতে?

যে রাস্তা ধরে টানা হচ্ছে ‍উন্নয়নের বিদ্যুতের তার সেই রাস্তা দিয়েই এসেছিল ধর্ষকেরা।
তাই বিচারের দাবীতে বিক্ষোভরত কারো কারো কাছেও আপাতদৃষ্টিতে ধর্ষকের কোন দল নাই কথাটা একটি “শুভবোধসম্পন্ন” ও “অরাজনৈতিক” কথা বলে মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে এই কথা প্রচার করার পেছনে আওয়ামীপন্থী বুদ্ধিজীবীদের মাথায় যেটা খেলা করছে সেটি হল এক নোংরা রাজনীতি। আর সেই রাজনীতি হল ধর্ষকের দলীয় পরিচয় আড়াল করার রাজনীতি, নিজেদের যাবতীয় দায়ভার অস্বীকার করার রাজনীতি, যে রাষ্ট্র ও সমাজব্যবস্থা এই ধর্ষণকে এভাবে বেপরোয়া করেছে সেই রাষ্ট্র ও সমাজব্যবস্থার গায়ে আঁচড় লাগতে না দেয়ার রাজনীতি এবং সর্বোপরি, যারা গত ১০ দশ বছর ধরে পরিস্থিতিকে আরো খারাপ করেছে তাদের দিকে তোলা আঙুলকে অন্যদিকে সরিয়ে দেয়ার রাজনীতি। তাই যারা পারুলের ধর্ষণের বিচারের দাবীতে বিক্ষোভ করছেন, তাকে নানাভাবে সহায়তা দিচ্ছেন, তার পাশে দাঁড়াচ্ছেন তাদের এই নোংরা রাজনীতিটি সম্পর্কে সতর্ক হওয়া জরুরী। সুবর্ণচরের ওই বৃদ্ধের চোখ দুটোতে আমি জুলুমের রাজনীতির বিরুদ্ধে সংগঠিত হওয়ার তীব্র আকুতিটাই দেখেছি। আমাদের নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার স্বার্থেই এই আকুতিতে আমরা কে কিভাবে সাড়া দেব তার উত্তর আমাদেরকেই ঠিক করতে হবে। কিন্তু সাড়া আমাদের দিতেই হবে। পারুল বেগম খুবই সাহসী একজন মহিলা। নয়তো ওই ভয়াবহ নির্যাতনের পর, যার উদ্দেশ্য ছিল তাকে সম্পূর্ণরূপে গুঁড়িয়ে দেয়া, যেখানে তার পরিবারকে ধর্ষকেরা হুমকি দিয়ে গিয়েছিল যে মুখ খুললে বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়া হবে, মেরে ফেলা হবে, সেখানে এত ভয়ের মধ্যেও তিনি মুখ খুলেছেন। সাহসের সাথে সকল ধর্ষকের ব্যক্তিগত ও দলীয় পরিচয় ফাঁস করেছেন। কিন্তু সেই সাহসী পারুল বেগমের মনেও এই প্রশ্ন ঘুরছে – যেটা তিনি নৃবিজ্ঞানী নাসরিন সিরাজকে করেছেন যে “দশ বছর হোক কি বারো বছর হোক ওরা তো এর প্রতিশোধ নেবেই, তখন আমি কি করবো?” পারুল বেগমের এই প্রশ্নের উত্তর আমরা জনগণ কিভাবে দেই তার উপর শুধু পারুল বেগমই নয়, আমাদের সবার ভবিষ্যতই নির্ভর করছে। ৭ জানুয়ারি, ২০১৯।

Facebook Comments
Please follow and like us:
Read More

মিম জেনারেশন এবং সিসিফাসের মিথ

~ তৌকির হোসেন

[এই আলোচনা ‘ব্যক্তি’ কোন মিমকে ঘিরে নয় (কেননা একজন ব্যক্তিকে ঘিরেও পুরো একটি জেনারেশন আবর্তিত হতে পারে) বরং এই মিম হচ্ছে স্যাটায়ারের নতুন ফর্ম, যা প্রজ্বলিত, প্রচারিত ও প্রসারিত একবিংশ শতাব্দীতে। ইংরেজিতে বলে (Meme), বিভিন্ন গবেষক অনেকসময় একে উল্লেখ করেছেন সাংষ্কৃতিক একক হিসেবে। লিমর শিফম্যান একে সংজ্ঞায়িত করেছেন ডিজিটাল উপাদানের সমষ্টি হিসেবে যার বিষয়বস্তু একই থাকে। তাঁর মতে মিম হচ্ছে একধরণের পোস্টমর্ডান ফোকলোর যা জনগণের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে (শিফম্যান ২০১৪)। আমাদের আলোচনা ঠিক এই জায়গাটিতে। এমনিতেই মিম নিয়ে গবেষণার পরিমাণ স্বল্প। কিন্তু যেটুকু হয়েছে তার উপর ভিত্তি করে কিছু প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার চেষ্টা করা যেতে পারে। যেমন, মিম কারা এবং কেন বানায়? মিম রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কোন ভূমিকা রাখতে পারে কিনা? মূলত বিভিন্ন আন্দোলন, বিভিন্ন রাজনৈতিক ঘটনায় তরুণ প্রজন্ম সোশ্যাল মিডিয়াতে যে নতুন হিউমোরাস ফর্মে প্রতিটি বিষয়কে আঘাত করে মিম তৈরী করছে, আদানপ্রদান করছে এর আদৌ কোন সামাজিক গুরুত্ব রয়েছে কিনা তা নির্ণয় করা জরুরী। এই আলোচনায় আমাদের প্রশ্ন ঘুরেফিরে চলে যাবে কেন-র দিকে। আমরা সেই কেনরই উত্তর খুঁজব তবে তা বর্তমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের মধ্য দিয়ে।] read more

Please follow and like us:
Read More

ভোট নিয়ে হতাশা ছড়ানো: কার লাভ কার ক্ষতি

মাহতাব উদ্দীন আহমেদ

ভোটকেন্দ্রে ভোটারের ঢল নামা বনাম হামলার আশংকা ছড়িয়ে কিংবা ফ্যাসিবাদ তো দূর হবে না কথাবার্তা ছড়িয়ে ভোট দিতে ডিমরালাইজ করার খেলা: কার লাভ, কার ক্ষতি
————————————–
একটা প্রশ্ন দেখছি ইদানিং কিছু শিক্ষিত মানুষের মধ্যে। ভোট দিলেই কি ফ্যাসিবাদ দূর হবে? হ্যা এই ভোট দিলেই যে দেশের ফ্যাসিবাদ দূর হয়ে যাবে তেমনটা কখনই নয়। কিন্তু দেশের জনগণ যদি চলমান ফ্যাসিবাদের ত্রাসের রাজত্ব উপেক্ষা করে, প্রতিহত করে ভোটের দিন দলে দলে নেমে আসেন কেন্দ্রগুলোতে এবং নিজের পছন্দমতো ভোটটা দিতে পারেন তাহলে সেটা হবে ফ্যাসিবাদের গালে এক ভয়ংকর চড়। এবং এই চড় একদিকে যেমন ভবিষ্যতের শাসকদের গলার কাঁটা হবে অন্যদিকে সেটা জনগণকে জোগাবে সাহস আরো বড় আন্দোলনে অংশ নেয়ার জন্য। আর ঠিক একারণেই, এই ফ্যাসিবাদী পরিস্থিতিতে যখন ফ্যাসিবাদ মানুষের সকল গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের পর এখন বাকি থাকা ভোট প্রদানের অধিকারটাকেও খেয়ে দিতে চাচ্ছে, সেই বিশেষ প্রেক্ষাপটে ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রে দলে দলে ভোট দিতে যাওয়া দরকার সকল ভোটারের। নিজের ভোট নিজের হাতে দিতে হবে। প্রতিহত করতে হবে ভোট ডাকাতি। মানুষ যদি এই চরম ভয়ভীতি উপেক্ষা করে ভোটটা দিয়েই ফেলেন তাহলে এই পরিস্থিতিতে সেটা হবে এক বিশাল গণতান্ত্রিক অর্জন বাংলাদেশের জনগণের জন্য। কারণ এর মানে হল নিজেদের শক্তিমত্তা সম্পর্কে জনগণের আস্থা ফিরে আসা। এর মানে হল এটা প্রমাণ করা যে জনগণের শক্তির সামনে প্রবল অত্যাচারী শাসকেরাও কিশোর বিদ্রোহীদের ভাষায় ‘চ্যাটের বাল’ ছাড়া আর কোন কিছুই নয়। জনগণের রাজনীতিতে এর প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী। এটা যে বোঝে না সে আহাম্মক। read more

Please follow and like us:
Read More

রাজনৈতিক সমর্থন পরিবর্তনশীলতাঃ সংখ্যালঘু ক্ষমতায়ন

মাসকাওয়াথ আহসান

একজন উপায়হীন মানুষ যদি একজন প্রভাবশালী ব্যক্তির কাছে শর্তহীন আত্মসমর্পণ করে বসে থাকে; তাহলে উপায়হীন মানুষের উপায়হীনতা থেকে কখনোই মুক্তি ঘটে না। read more

Please follow and like us:
Read More

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও জনগণের ভোটাধিকার

মাসকাওয়াথ আহসান

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার জন্য শান্তিপূর্ণ পরিবেশে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন এবং জনগণের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার প্রয়োজন। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ (রেমিট্যান্স) এবং পশ্চিমের দেশগুলোতে বস্ত্র রপ্তানী করে পাওয়া অর্থ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। read more

Please follow and like us:
Read More

নির্বাচনের বাতাবরণে রাজনৈতিক পরিস্থিতি

মাসকাওয়াথ আহসান

আসন্ন বাংলাদেশ নির্বাচন নিয়ে প্রধান প্রশ্ন হচ্ছে, এই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের নিহত ভোটাধিকারের পুনর্জন্ম ঘটবে নাকি জনগণকে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত করা হবে! read more

Please follow and like us:
Read More

বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির সুলুকসন্ধান

মাসকাওয়াথ আহসান

কেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিকৃষ্ট; সে প্রশ্নের উত্তর আসন্ন নির্বাচনে মারণঘাতি ইয়াবা ব্যবসার অভিযোগে ইমেজ সংকটের কারণে বদির বদলে বদির স্ত্রী আওয়ামী লীগের মনোনয়ন লাভ; আর একুশে অগাস্ট গ্রেনেড হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বাবরের বদলে বাবরের স্ত্রী বিএনপির মনোনয়ন পাবার সাম্প্রতিকতম দৃষ্টান্তে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পরিবারতন্ত্রের এই মিনিয়েচার উদাহরণে বদির স্ত্রী ও বাবরের স্ত্রী বাংলাদেশ রাজনীতির উপায়হীনতার প্রতীক। read more

Please follow and like us:
Read More

মানসম্পন্ন পর্যবেক্ষক হীন, ভয় ও বলপ্রয়োগের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রিত নির্বাচন!

ফাইজ তাইয়েব আহমেদ  

মাত্র ৩৩ দিন পরে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। কোন দল নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা প্রয়োজন মনে করেনি। ক্ষমতায় এলে একটি রাজনৈতিক দল কি কাজ করবে, কিভাবে করবে তা এই দেশে নিতান্তই গুরুত্বহীন। নাগরিক চাহিদাকে সমীক্ষার মাধ্যমে প্রতিশ্রুতি হিসেবে দলীয় ইশতেহারে ঠাই দেয়ার কোন বাধ্যবাধকতা নেই। দেখা যায় প্রতিবছরই সন্ত্রাস দমন, দুর্নীতি প্রতিরোধ, কম টাকায় চাল, ঘরে ঘরে চাকুরির আশ্বাস। এই মিথ্যায় ভরা এবং বারংবার পুনরাবৃত্ত আশ্বাস গুলো বাস্তবায়িত হোল কিনা তা যাচাই করার কোন সিস্টেম দলে নেই, সংসদে নেই, নেই নির্বাচন কমিশনেও। একদিকে দলীয় প্রার্থীর এলাকা ভিত্তিক প্রতিশ্রুতি রেজিস্টার করার কোন সিস্টেম নাই, অন্যদিকে দলীয় ইশতেহার বাস্তবায়ন না হলেও সংসদে কিংবা নির্বাচন কমিশনে কোন শাস্তির বিধান নেই। এই দায়বদ্ধতা হীন সিস্টেম বাংলাদেশের বহু নৈরাজ্যের উৎস। এখানে নির্বাচন মানেই কালো টাকার শো-ডাউন। কেউ নিজের টাকা ইনভেস্ট করেন, কেউ পরের টাকায় নির্বাচন করে তা পরে সুদে আসলে বহুগুণে অর্থ ও প্রভাবে ফিরিয়ে দেন। এটা রাষ্ট্রের টাকা মেরে খাওয়ার এক মহাসিস্টেম। তারপরেও এখানে নাগরিকের রায় দিবার একটা ক্ষীণ সুযোগ আছে বলা যায়, যেখানে ভোট দিয়ে নাগরিক অন্তত ৫ বছরের জন্য কাউকে প্রত্যক্ষ ভাবে না বলতে পারে, বলতে গেলে এটাই বর্তমান সিস্টেমের একমাত্র সৌন্দর্য। যদিও সেই টাকার খেলায় পরোক্ষ দরজা দুর্বিত্তদের জন্য ঠিকই খোলা থাকে। read more

Please follow and like us:
Read More

হুমকির মুখে জাতীয় বিদ্যুৎ নিরাপত্তাঃ কৌশলগত “বিদ্যুৎ” অবকাঠামো রাষ্ট্রীয় খাতে থাকা বাধ্যতামূলক!

ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

কুইক রেন্টাল ও আইপিপি মডেলে বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনের যাত্রা শুরুর পর থেকে অস্বাভাবিক উচ্চ মূল্যে এই বিদ্যুৎ ক্রয়, ক্যাপাসিটি চার্জ এবং ওভার হোলিং চার্জ দিতে বাধ্যবাধক থাকায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পিডীবি বিগত ২০০৯ থেকে দেনা ও লোকসানের ভারে নূয্য। ২০১৩-১৪ থেকে ২০১৭-১৮ পর্যন্ত পাঁচ বছরে পিডিবিকে বেসরকারি খাতে পরিশোধ করতে হয় ৭৪ হাজার ৫৬৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা যার মধ্যে ক্যাপাসিটি চার্জ ছিল ২৬ হাজার ৭৬১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। এই পাঁচ অর্থবছরে পিডিবি লোকসান গুনেছে ৩১ হাজার ৭১১ কোটি চার লাখ টাকা। উল্লেখ্য যে, দেশে মোট উৎপাদন সক্ষম ক্যাপাসিটি হচ্ছে আনুমানিক ১১.৬ গিগা ওয়াট, বিপিডীবি’র নিজিস্ব উৎপাদন ৪.৮ গিগা ওয়াট। পিডিবির নিয়ন্ত্রিত বা অন্যান্য স্বাসত্বশাসিত বিদ্যুৎ কোম্পানীর আছে ৫.৭ গিগা বাকি মাত্র আইপিপি’র ১.৫৪ গিগা বেসরকারি। এই বেসরকারি ১৫৪০ মেগা ওয়াট প্রকৃত উৎপাদনের বিপরীতে এর দ্বিগুণের বেশি ইন্সটল্ড ক্যাপাসিটি দেখানো হচ্ছে। অবাক করা বিষয়ে যে, আই পি পি’র এই ১০ শতাংশ বেসরকারি বিদ্যুৎই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বেপারোয়া লোকসানের (লুটের) খনি হয়ে দাঁড়িয়েছে। read more

Please follow and like us:
Read More