ভোট নিয়ে হতাশা ছড়ানো: কার লাভ কার ক্ষতি

মাহতাব উদ্দীন আহমেদ

ভোটকেন্দ্রে ভোটারের ঢল নামা বনাম হামলার আশংকা ছড়িয়ে কিংবা ফ্যাসিবাদ তো দূর হবে না কথাবার্তা ছড়িয়ে ভোট দিতে ডিমরালাইজ করার খেলা: কার লাভ, কার ক্ষতি
————————————–
একটা প্রশ্ন দেখছি ইদানিং কিছু শিক্ষিত মানুষের মধ্যে। ভোট দিলেই কি ফ্যাসিবাদ দূর হবে? হ্যা এই ভোট দিলেই যে দেশের ফ্যাসিবাদ দূর হয়ে যাবে তেমনটা কখনই নয়। কিন্তু দেশের জনগণ যদি চলমান ফ্যাসিবাদের ত্রাসের রাজত্ব উপেক্ষা করে, প্রতিহত করে ভোটের দিন দলে দলে নেমে আসেন কেন্দ্রগুলোতে এবং নিজের পছন্দমতো ভোটটা দিতে পারেন তাহলে সেটা হবে ফ্যাসিবাদের গালে এক ভয়ংকর চড়। এবং এই চড় একদিকে যেমন ভবিষ্যতের শাসকদের গলার কাঁটা হবে অন্যদিকে সেটা জনগণকে জোগাবে সাহস আরো বড় আন্দোলনে অংশ নেয়ার জন্য। আর ঠিক একারণেই, এই ফ্যাসিবাদী পরিস্থিতিতে যখন ফ্যাসিবাদ মানুষের সকল গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের পর এখন বাকি থাকা ভোট প্রদানের অধিকারটাকেও খেয়ে দিতে চাচ্ছে, সেই বিশেষ প্রেক্ষাপটে ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রে দলে দলে ভোট দিতে যাওয়া দরকার সকল ভোটারের। নিজের ভোট নিজের হাতে দিতে হবে। প্রতিহত করতে হবে ভোট ডাকাতি। মানুষ যদি এই চরম ভয়ভীতি উপেক্ষা করে ভোটটা দিয়েই ফেলেন তাহলে এই পরিস্থিতিতে সেটা হবে এক বিশাল গণতান্ত্রিক অর্জন বাংলাদেশের জনগণের জন্য। কারণ এর মানে হল নিজেদের শক্তিমত্তা সম্পর্কে জনগণের আস্থা ফিরে আসা। এর মানে হল এটা প্রমাণ করা যে জনগণের শক্তির সামনে প্রবল অত্যাচারী শাসকেরাও কিশোর বিদ্রোহীদের ভাষায় ‘চ্যাটের বাল’ ছাড়া আর কোন কিছুই নয়। জনগণের রাজনীতিতে এর প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী। এটা যে বোঝে না সে আহাম্মক।

জনগণ যদি দলে দলে ভোট দিতে না যায় তাতে একমাত্র লাভ হল বিদ্যমান ফ্যাসিবাদের। আর ঠিক একারণেই সে সারাদেশে নজিরবিহীন হামলা-ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছে। বিদ্যমান ফ্যাসিবাদ জনগণকে এই বার্তাই দিতে চাচ্ছে যে “তোমার কোন বেইল নাই। আমি আমার যা খুশি তাই করবো। তুমি খালি চাইয়া চাইয়া দেখবা।” এই ডকট্রিনের আলোকেই সারা দেশ জুড়ে হামলার পাশাপাশি বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়ানো হচ্ছে ভীতি, হতাশা। যেমন: “ভীষণ গন্ডগোল হবে ভাই!”, “কি লাভ গিয়া দেখমু আমার ভোটটা তো অন্যেই দিয়া দিছে”, “সব কেন্দ্র তো ওরাই দখল কইরা রাখবে”। একটু হিসেব করে চিন্তা করলেই কিন্তু ধরা পড়ে যায় যে মানুষ দলে দলে ভোট দিতে নামলে এগুলোর কোনটাই করা বিদ্যমান ফ্যাসিবাদের পক্ষে সম্ভব নয়। সকল কেন্দ্র দখল করাটা তাদের পক্ষে বাস্তবতই অসম্ভব। এলাকার পাড়া প্রতিবেশী মিলে ভোটকেন্দ্রে নামলে কারো পক্ষেই গন্ডগোল করা এত সহজ না। আর যদি দেখা যায় যে কারো ভোট অন্য কেউ দিয়েছে তাহলে সবাই মিলে নামলে সেখানে তুলকালাম বাধিয়ে দেয়াটা কোন ব্যাপার না। সুতরাং একটু হিসেব করলেই দেখা যায় এসব আশংকা যতটা না বাস্তব তার চেয়ে বেশি প্রপ্রাগান্ডা। এগুলোর উদ্দেশ্য একটাই মানুষ যাতে ভোট দিতে দলে দলে ভোটকেন্দ্রে না যায়। সুতরাং স্রেফ একটা কাজ করলেই এই সমস্ত আংশকাকে উড়িয়ে দিয়ে বিদ্যমান ফ্যাসিবাদের যাবতীয় খেল খতম করে দেয়া যায় আর তা হল দলে দলে ভোট দিতে যাওয়া।

আর তাই বলি ৩০ তারিখের আগ পর্যন্ত হামলা যতই হোক, তার প্রেক্ষিতে ভীতি আর হতাশা ছড়িয়ে কিংবা প্রেক্ষাপট বিবর্জিতভাবে বইয়ের থিউরিটিক্যাল কথা মুখস্ত আউরে ত্যানা প্যাচানো প্রশ্ন করে মানুষকে ভোট দিতে ডিমরালাইজ করবেন না। এসব কাজ আপনি করছেন মানেই হল আপনি বিদ্যমান ফ্যাসিবাদের ইচ্ছাপূরণ করছেন। বিদ্যমান ফ্যাসিবাদের পাতা ফাঁদে দয়া করে পাড়া দিবেন না। আমি সবসময়ই জনগণের উপর আস্থা রাখি। জনগণ তার শক্তিকে চিনুক আরেকবার ৩০ তারিখ।

Facebook Comments
Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *