মানসম্পন্ন পর্যবেক্ষক হীন, ভয় ও বলপ্রয়োগের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রিত নির্বাচন!

ফাইজ তাইয়েব আহমেদ
 
মাত্র ৩৩ দিন পরে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। কোন দল নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা প্রয়োজন মনে করেনি। ক্ষমতায় এলে একটি রাজনৈতিক দল কি কাজ করবে, কিভাবে করবে তা এই দেশে নিতান্তই গুরুত্বহীন। নাগরিক চাহিদাকে সমীক্ষার মাধ্যমে প্রতিশ্রুতি হিসেবে দলীয় ইশতেহারে ঠাই দেয়ার কোন বাধ্যবাধকতা নেই। দেখা যায় প্রতিবছরই সন্ত্রাস দমন, দুর্নীতি প্রতিরোধ, কম টাকায় চাল, ঘরে ঘরে চাকুরির আশ্বাস। এই মিথ্যায় ভরা এবং বারংবার পুনরাবৃত্ত আশ্বাস গুলো বাস্তবায়িত হোল কিনা তা যাচাই করার কোন সিস্টেম দলে নেই, সংসদে নেই, নেই নির্বাচন কমিশনেও। একদিকে দলীয় প্রার্থীর এলাকা ভিত্তিক প্রতিশ্রুতি রেজিস্টার করার কোন সিস্টেম নাই, অন্যদিকে দলীয় ইশতেহার বাস্তবায়ন না হলেও সংসদে কিংবা নির্বাচন কমিশনে কোন শাস্তির বিধান নেই। এই দায়বদ্ধতা হীন সিস্টেম বাংলাদেশের বহু নৈরাজ্যের উৎস। এখানে নির্বাচন মানেই কালো টাকার শো-ডাউন। কেউ নিজের টাকা ইনভেস্ট করেন, কেউ পরের টাকায় নির্বাচন করে তা পরে সুদে আসলে বহুগুণে অর্থ ও প্রভাবে ফিরিয়ে দেন। এটা রাষ্ট্রের টাকা মেরে খাওয়ার এক মহাসিস্টেম। তারপরেও এখানে নাগরিকের রায় দিবার একটা ক্ষীণ সুযোগ আছে বলা যায়, যেখানে ভোট দিয়ে নাগরিক অন্তত ৫ বছরের জন্য কাউকে প্রত্যক্ষ ভাবে না বলতে পারে, বলতে গেলে এটাই বর্তমান সিস্টেমের একমাত্র সৌন্দর্য। যদিও সেই টাকার খেলায় পরোক্ষ দরজা দুর্বিত্তদের জন্য ঠিকই খোলা থাকে।
তো চলুন দেখে নেই, কেমন হতে যাচ্ছে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন!
 
১। দেশীয় পর্যবেক্ষক হীনতা
বাংলাদেশের সবচাইতে গ্রহণযোগ্য এবং মানসম্পন্ন দেশীয় তিনটি পর্যবেক্ষক সংস্থা হোল ফেমা, অধিকার ও ব্রতী। নির্বাচন পর্যবেক্ষণকে নিবন্ধন নিতে হবে নিয়ম করে অংশীজনকে না জানিয়ে এবং সাংবাদিক সম্মেলন না করে নিরবে বিজ্ঞাপণ দিয়ে দুটি প্রধান সংস্থাকে বাইরে রাখা হয়েছে কৌশলে। নির্বাচন কমিশনে নির্ধারিত সময়ে নিবন্ধন আবেদন করতে ব্যর্থ হওয়ায় পর্যবেক্ষকের তালিকায় নাম ওঠেনি দেশের সবচাইতে প্রতিষ্ঠিত এই তিনটি সংস্থার।
১৯৯টি আবেদন পর্যালোচনা করে নাম সর্বস্ব ৮০টি সংস্থার কথা বলে নির্বাচন কমিশন ১১৯টি পর্যবেক্ষক সংস্থাকে এ বছরের জুন থেকে পরবর্তী ৫ বছরের জন্য নিবন্ধন দিয়েছে, অভিযোগ আছে এই ১১৯টি সংস্থা মূলত আওয়ামীলীগের নেতা ও শুভানুধ্যায়ীদের চালিত এনজিও, এদের প্রায় সবাই নাম ও প্যাড সর্বস্ব।
ভোট পর্যবেক্ষকের তালিকায় নেই ফেমা, ব্রতী ও অধিকার।
দেশী পর্যবেক্ষণ হীন জাতীয় নির্বাচনের এক ষড়যন্ত্রের মহা আয়োজন সম্পন্ন করা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, “উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সংস্থা ভোট পর্যবেক্ষণে যায় না। কিন্তু ভোটের কাজে থাকা অন্যতম সংস্থাই বাদ পড়ে গেছে।”
নিবন্ধন না দেওয়ায় বিস্মিত ব্রতীর প্রধান নির্বাহী শারমিন মুর্শিদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমার অফিস ইসির বিজ্ঞপ্তিটি খেয়াল করেনি; একটু দেরি হয়ে গেল তাই। সিইসির আশ্বাসে পরে সব কিছু মেনে কাগজপত্রসহ আবেদন জমা দিয়েছি” “আমি অবাক হয়েছি; কী করে ব্রতীকে বাদ দেওয়া হল!” শারমিন মুর্শিদ বলেন, “দীর্ঘ ১৮ বছর বা তার বেশি সময় ধরে আমরা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করে আসছি। সংসদ-স্থানীয় সরকারের সবগুলো ভোট নিয়ে নিয়মিত প্রতিবেদন জমা দিই ইসিতে। আর আমরাই আগামী সংসদ নির্বাচনে নেই। বিস্মিত হচ্ছি- ১১৯টি সংস্থার তালিকায় ব্রতী নেই।”
দেশের সব থেকে পুরনো পর্যবেক্ষক সংস্থা ফেমা। ১৯৮৫-৮৬ সাল থেকে নিয়মিত সব ধরনের নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ছিলেন তারা। সংস্থার সভাপতি মুনিরা খান, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা ইসির বিজ্ঞপ্তিটি খেয়াল করিনি; তাই নির্ধারিত সময়ে নিবন্ধন আবেদন করতে পারিনি। সিইসি ও একজন নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে আমি কথা বলেছি; তারাও আশ্বস্ত করেছেন আমাকে। পরে আবেদন পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে আবেদন জমা দিয়েছি।“এরপরও আমাদের নিবন্ধন না দেওয়া বিস্ময়কর! আমাদেরকে নিবন্ধন দিল না?”
একদিকে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের সবচাইতে গ্রহণযোগ্য এবং সক্রিয় মানবাধিকার সংস্থা “অধিকার” এর নির্বাচন কমিশন নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে, ঠিক নির্বাচন তফসিল ঘোষণার দু দিন আগে, ৬ নভেম্বর।
ফেমা, ব্রতী ও অধিকার বাদে এবার নির্বাচন পর্যবেক্ষণে থাকবে ১১৮ দেশীয় প্যাড সর্বস্ব সংস্থা। অথচ নির্বাচন কমিশন চাইলেই মাত্র ৩-৫ কার্যদিবসের মধ্যেই পেপার ওয়ার্ক রেডি করার সময় দিয়ে দেশ সেরা প্রতিষ্ঠান তিনটিকে নিবন্ধন ফিরিয়ে দিতে পারে।
 
২। বিদেশী পর্যবেক্ষক হীনতা
কৌশলে ইংরেজী নববর্ষ ও বড়দিনের ছুটিতে নির্বাচনের তারিখ করে বিদেশী পর্যবেক্ষকদের বাইরে রাখার চূড়ান্ত ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই সময়টিতে সাধারণ বিদেশীরা বাৎসরিক ছুটিতে থাকেন। ফলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের দিক থেকেও থেকেই ক্রিসমাস ও নিউ ইয়ার ছুটিতে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন অগ্রহণযোগ্য।
এদিকে ভারত ও চায়নার একচেটিয়া চাপে বাংলদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ্য একেবারেই সংকুচিত হয়ে পড়েছে। ফলে বাংলদেশের নির্বাচনীন নিয়ে একবারেই চিন্তিত নন মার্কিনী ও ইউরোপীয়রা। নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন কোন ফান্ড বরাদ্দ করেনি। সংস্থাটি বরং বাংলাদেশে আওয়ামীলীগ কেন্দ্রিক রাজনৈতিক স্থিতাবস্থা দেখতে চায়, মাঠের জোরে বিএনপি বা ঐক্যফ্রন্ট এসে গেলও তাদের সাথে তারা কাজ করবে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টারি প্রতিনিধিদল বর্তমানে বাংলদেশ সফর করছে, ‘নির্বাচন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, সামাজিক, নারীর ক্ষমতায়ন, সংখ্যালঘুসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের লক্ষ্যে।’ সফররত ইউরোপীয় পার্লামেন্টারি প্রতিনিধিদল নিশ্চিত করেছে যে , “একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে আয়োজনে সক্ষম বাংলাদেশ সরকার। এ কারণে এ নির্বাচনে ইইউ পার্লামেন্ট কোনো পর্যবেক্ষক পাঠাবে না।”
এমতাবস্থায়, মন্ত্রী নাসিম সাফাই গাইছেন!
নির্বাচনে বিদেশী পর্যবেক্ষক নয়, এ দেশের জনগণই বড় পর্যবেক্ষক!!!
 
৩। ওয়াশিংটন ডিসি ভিত্তিক একটি সুত্র অভিযোগ করছে যে, বিদেশী পর্যবেক্ষকদের নির্বাচনের সময়কালীন নতুন ভিসা আবেদন গ্রহণের প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করতে, ইচ্ছাকৃত কালক্ষেপণ করতে সরকারের সবচাইতে উচ্চ মহল থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
 
৪। মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে পর্যবেক্ষকদের!!!!
 
‘পর্যবেক্ষকরা মোবাইল নিতে পারেবেন না। কোন চিত্র ধারণ করতে পারবেন না। কোনো মন্তব্য করতে পারবেন না। কেবল মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে পর্যবেক্ষণ করবেন। কেন্দ্রে যত সমস্যা হোক, তিনি কেবল পর্যবেক্ষণ করবেন, পর্যবেক্ষণ শেষে প্রতিবেদন দেবেন।’- নির্বাচন কমিশন সচিব।
 সব মিলে দেখা যাচ্ছে, ৩০ ডিসেম্বর ভোটে মানসম্পন্ন কোন দেশী বেদেশী পর্যবেক্ষক থাকছে না। এই ধরনের নির্বাচনী কর্মকান্ড আরেকটি বড়সড় ভোট ডাকাতির বিশাল মহড়া।
 
৫। ভোট আদায়ের নব নব কৌশল-
২০১৪ তে বিরোধী দল আসেনি, সেখানেও জাল ভোটের মহামারি দেখা গেছে। প্রথম আলো হেডিং দিয়েছিল “জাল ভোটে কলঙ্কিত নির্বাচন”। এর ঠিক কিছু সময় পরই ২০১৫ তে ঢাকা সিটি নির্বাচনে ভোট কেন্দ্র দখল ও প্রকাশ্য ব্যালট দেয়েকে সর্বগ্রাসী ব্যালট সন্ত্রাসের রূপ দিয়ে দেশী বিদেশী পর্যবেক্ষকদের স্তভীত করে দেয়া হয়। সাম্প্রতিক সময়ে খুলনা ও গাজীপুরে দেখা গেছে আরেক অভিনব কৌশল। এখানে নির্দেশ দেয়া হয়েছে- ‘আওয়ামী লীগের বদনাম হয় এমন কোনো কাজ করা যাবে না। কেন্দ্রের নির্দেশ সবাইকে মেনে চলতে হবে।’ গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তিনদিন আগে সরকারের পক্ষ থেকে এমন নির্দেশনা দেওয়া হলেও কেউ মানলেন না সেই নির্দেশ। প্রকাশ্যেই কেন্দ্র দখল করে ব্যালট পেপারে সিল মারার ‘মহাকর্মযজ্ঞ’ দেখালেন সরকার দলীয় গাজীপুরের স্থানীয় নেতাকর্মীরা। এরই ঠিক আগের মাসে খুলনায় অনুষ্ঠিত বর্তমান নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অধীন সবচেয়ে বিতর্কিত নির্বাচনকেও হার মানিয়েছে বলে কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন, সবাই বলেছেন, নির্বাচনের নতুন স্টাইল দেখালো গাজীপুর।
এমন নির্বাচন কেউ আগে কল্পনাও করতে পারেননি। নৌকায় আগের রাতেই সিল মারা ব্যালট পেপারই ভোটারদের সরবরাহ করা হয়। আবার মেয়রপ্রার্থীর ব্যালট পেপার না দিয়ে শুধু কাউন্সিল প্রার্থীদের ব্যালট পেপার সরবরাহের ঘটনাও ঘটেছে গাজীপুরে। আগের রাতেই বিরোধী এজেন্টদের ক্রসফায়ারের পুলিশি ভয় দেখিয়ে কেন্দ্রে আসতে কড়াভাবে বারণ করা হয়েছিল। এছাড়া জালভোটের অভিনব সব কৌশল প্রয়োগ হয়েছে গাজীপুর সিটি নির্বাচনে। ফলে দেশবাসীর কাছে এখন নতুন আলোচনার নাম হয়েছে “ভোটের গাজীপুর মডেল”।”
এরই মধ্যে ঢাকা ক্লাবে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং এর মিটিং এর অভিযোগ উঠলো, যদিও সেটাকে বানোয়াট বলে অস্বীকার করা হয়েছে নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে। ভোট জালিয়াতির এক একটি নিত্য নতুন কৌশল মঞ্চস্থ হবার পরে, পরিবর্তী সাধারণ নির্বাচনে ঠিক কোন স্তরের ভোট সন্ত্রাস হয় সেটাই দেখার অপেক্ষা। শীর্ষ দেশীয় পর্যবেক্ষণ সংস্থার নিবন্ধিত হবার সুযোগ না দেয়া ও বাতিল করা, বড়দিন ও ইংরেজী নববর্ষের ছুটিতে নির্বাচনের তারিখ দেয়া, বিদেশী নির্বাচনী পর্যবেক্ষকদের ভিসা না দিয়ে যে নির্বাচনটি হতে যাচ্ছে তা সঙ্ঘাতিক ভীতি জাগানিয়া। সেনা মোতায়েনের কথা চলছে, সেটাও সিভিল এডমিনিস্ট্রেশ্নের আন্ডারে, ফলে প্রিজাইডিং অফিসার ও পুলিশের অনুমতি ব্যতীত সেনাদের ভোট সন্ত্রাস দেখে সময় পার করা ছাড়া কিছুই করা সম্ভব হবে না।
সময়ের দাবী ছিল সব ভোট কেন্দ্রে সিসি টিভি মোতায়েন করা, যা নির্বাচনী সন্ত্রাস প্রতিহত করণে সহায়ক হতে কার্যকরী ভূমিকা রাখতো। সেটা মানা হয়নি। বিপরীতে রাষ্ট্রের ৩৮২৫ কোটি টাকার অপচয় করে, ভারত থেকে ১১ গুণ বেশি দামে ইভিএম মেশিন কেনা হয়েছে।
 
বাংলাদেশে ভোট জালিয়াতির ইতিহাস বহু পুরানো। এখানে দলীয় সরকারের অধীনে ক্ষমতাসীন দলের হারার কোন রেকর্ড আজও পর্যন্ত সৃজিত হয়নি। যে দলই ক্ষমতায় ছিল তারাই ভোট চুরি করেছে। তবে ২০১৪ সালের একদলীয় ভোটারবিহীন নির্বাচনের পর ভোট হীনতা এবং নির্বাচনের দিন সকালে বা পুর্ব রাতেই ব্যালট সীলের উৎসবকে প্রাতিষ্ঠানিক ও আনুষ্ঠানিক করে ফেলা হয়েছে।
দলীয় সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচনে ভোটাধীকার হীনতার এই চক্র থেকে বাংলাদেশ কিভাবে বেরিয়ে আসবে তার কোন সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। পর্যবেক্ষণ হীন, ম্যাজিস্ট্রেসী সহ সেনা মোতায়ন না করে আবারো নির্বাচনকে চর দখলের স্থানীয় লড়াইয়ে ঠেলে দেয়া হল। ফলে আমরা আন্তঃ দল এবং অন্তঃ দলীয় দ্বিমূখী ও ত্রিমুখী সংঘাতের ভয় করছি। এই ভয়ের পরিবেশের মধ্যেই আগাচ্ছে সর্বোচ্চ ভাবে নিয়ন্ত্রিত একটি জাতীয় নির্বাচন।
 
এ যেন ভয়ের ভোট, বিবাদের ভোট, বিষাদের ভোট।

Facebook Comments
Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *