বাংলাদেশ থিওরি

বাংলাদেশ রাষ্ট্র এখন কিভাবে আছে, কোথায় যাচ্ছে এবং আমাদের নিকট ভবিষ্যৎ নিয়ে আমার একটা হাইপথেসিস আছে। এইটাকে আমি বলি বাংলাদেশ থিওরি। কারো নিজের থিওরির সাথে মিলে কিনা মিলায় দেখেন।

আমার থিওরিতে তিনটা জিনিষ আছে।
১। হইলো সসিয়াল কন্ট্রাক্ট।
২। গেম থিওরি।
৩। জিন শার্পের থিওরি অফ পাওয়ার। যদিও টেকনিকালি জিন শার্পের থিওরি অফ পাওয়ার টা সসিয়াল কন্ট্রাক্ট থেকেই আসছে।

যাক অনেক টেকনিকাল মনে হইতে পারে, কিন্ত, এইটা টেকনিকাল কিছু না। দেখবেন,আমি আপনি একই চিন্তাই করছি। আমি জাস্ট কিছু থিওরি দিয়া, এইটার একটা বেজ দাড় করানোর চেষ্টা করছি । কথা একই।

সসিয়াল কন্ট্রাক্ট মুলত রাষ্ট্রের সাথে ব্যক্তি এবং সমাজের একটা চুক্তি- যার ভিত্তিতে, ব্যক্তি বা সমাজ রাষ্ট্রকে তার উপরে শাসন করার অধিকার দেয়।
মুলত রাষ্ট্রযে আপনের উপরে ছড়ি ঘোরায়, জেলে ঢুকায়, ট্যাক্স নেয় সেইটা এই সোশাল কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে আপনার নিজের দেয়া অধিকারের বদলেই।
এই কন্ট্রাক্টে ব্যক্তি বা সমাজ , শাসক গোষ্ঠীকে কিছু টারমস ঠিক করে দেয়, যে এই এই ভিত্তিতে তুমি আমাকে বা দেশকে শাসন করবা।
তো আপনি বলতে পারেন, ধুর মিয়া, এইটা তো সংবিধান।

সংবিধান অনেক ইনফ্লেকজিবল একটা জিনিষ, এইটা আইনি জিনিষ।

কিন্ত সোশাল কন্ট্রাক্ট আইন না এবং এইটা অলিখিত এবং খুব ডাইনামিক। এইটা নিয়ত চেঞ্জ হয়। কিন্ত এই সোশাল কন্ট্রাক্ট টাই ক্ষমতার ভিত্তি।

সংবিধান হইলে কাগজের ক্ষমতা। আসল ক্ষমতা হইলো সশিয়াল কন্ট্রাক্ট।

৯০ পরবর্তী বাংলাদেশ তার পরের বিগত ২০ বছরে, একটা সোশাল কন্ট্রাক্টের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়েছিল। যেইটা নব্বই এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের ভ্যালুজ গুলো ধারণ করে, নির্ধারিত হয়েছিল। কিন্ত, সেইটা ধীরে ধীরে আরো পরিবরতিতে হয়ে একটা রুপ নিয়েছিল।
এই সোশাল কন্ট্রাক্টের কিছু টারমস ছিল। আমার হিসেবে সেই গুলা হইলো,

১। ঢাকা কেন্দ্রিক শহুরে মধ্যবিত্তের ভ্যালু সিস্টেম মেনে রাষ্ট্র চলবে। বাকি রাষ্ট্রের কথা স্বীকার করবে, কিন্ত তাদের ভাবনাকে ইগ্নর করবে।

২। রাষ্ট্র সেকুলার হবে। বা সেকুলার ভ্যালুজ ধারণ করবে। এই রাষ্ট্রকে ইস্লামাইজ করা চলবেনা।

৩। ৫ বছর পরে পরে, নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনকে সুষ্ঠু করার জন্যে, আর্মি ডাকা হবে। এবং সেই নির্বাচনকে মেনে চলতে হবে। শাসনকালিন সময়ে, ক্ষমতাসিন বিরোধী দলকে নির্যাতন করবে, কিন্ত পুরো ধ্বংস করে ফেলবেনা।

৪। তেমন দক্ষ না হইলেও, মোটামুটি ভাবে দক্ষ একটা প্রশাসন রক্ষা করা হবে, যে ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম পরিচালনা করবে। লুটপাট করবে, কিন্ত কিছু বেনেফিট গেলেই হবে।

৫। কুমকুম দুর্নীতি সহনীয়। ক্ষমতাসীনেদের কুম কুম দুর্নীতি সমাজ এবং ব্যক্তি উপেক্ষা করবে।

৬। সামন্ত প্রভুরা পালা ক্রমে পারিবারিক পালাবদলে ক্ষমতা ধরে রাখবে।

৭। কমপ্লিটলি চরম এনারকিক ক্যাপিটালিজম হইলেও, রাষ্ট্র মুখে মুখে এবং আচরনে একটা ডিস্ট্রবিউশানের ভাব দেখায় চলবে। এই জন্যে কাজের বিনিময়ে খাদ্য এবং দরিদ্র মুখী কিছু তোবারকি কর্মসুচি মেন্টেন করতে হবে।

৮। গারমেন্টস শিল্পকে যে কোন মুল্যে রক্ষা করতে হবে।

৯। মুক্তিযুদ্ধকে আমাদের সময়ের শুরু হিসেবে দেখে সেই সময়কার ভ্যলুজ গুলোর প্রতি একটা শ্রদ্ধা দেখায় চলতে হবে।

১০। ধীর গতি হইলেও দারিদ্র বিমোচনের একটা ধারা রক্ষা করতে হবে। এবং চালের দাম সহনশীল রাখতে হবে, যেন দরিদ্ররা মারা না যায়।

এই দশটা আমার নিজের ভাবনায় চিহ্নিত করা। কিন্ত আরো আছে।

এই সোশাল কন্ট্রাক্টের কয়েকটা উল্লেখযোগ্য বিশিষ্ট হইলো ,
১। সেকুলার ভ্যালুজ।
২। ৫ বছর পরে অল্টারনেশান অফ পাওয়ার।
৩। সামন্ততন্ত্র, দুর্নীতির প্রতি সহনশিলতা।

৯০ পরবর্তী বাংলাদেশ এই ভ্যালুজ গুলো মাথায় রেখে চলেছে। এই সোশ্যাল কন্ট্রাক্টের মূল রচয়িতা ছিল, আমাদের ঢাকা কেন্দ্রিক বাম সেকুলার,এলিট সমাজ।

সকল শাসককে, সোশাল কন্ট্রাক্টের মূলনীতি গুলোক মেনে চলতে হইছে। সোশাল কন্ট্রাক্টের প্রধান বিশিষ্ট হইলো, এইটা রিতিমত একটা অলিখিত সংবিধান। এই গুলো না মানলে ক্ষমতাসীন আর বৈধ থাকেনা।

এই সোশাল কন্ট্রাক্টাই বাংলাদশের শাসন ক্ষমতার ভিত্তি। এইটাই লিজিটিমিসি দেয় বা লিজিটিমিসি কেড়ে নেয়। এইটাকে বিগত ২০ বছরে আওয়ামী লীগ বিএনপি উভয়কে মেনে চলতে হয়েছে।

এই সোশাল কন্ট্রাক্টটা যেহেতু পাথরে খোদাই করা না। এবংখমতাসিনেরা এইটা সব সময়েই ভাঙ্গার চেষ্টা করেছে। কিন্ত যখনি করেছে, তখনি সে বৈধতা হারিয়েছে।

ইন্টেরেস্টিংলি, বাংলাদেশের আর্মিকে আমরা যতই গালি দেই, বাংলাদেশ আর্মি বিগত ২০ বছরে এই সোশাল কন্ট্রাক্টের পাহাড়াদার হিসেবে কাজ করেছে। ৯/১১ হয়েছে কারণ বিএনপি এই সোশাল কন্ট্রাক্টের অনেক গুলো মূলনীতি ভেঙ্গেছে।

১। তারা বিচারপ্রতির বয়স পরিবর্তন করে, তাদের নিজেদের লোককে বসিয়ে নিজেদেরকে ক্ষমতায় পুনঃ নির্বাচন করার একটা ডিজাইন করেছিল।

২। শেখ হাসিনার উপরে গ্রেনেড হামলা, যেইটা ঘটার পরে জজ মিয়া ইন্সিডেন্ট একটা সিগনাল দিয়েছে, সেই ঘটনায় বিএনপির হাত আছে।

এই দুইটা লাঠি, বইঠা ইন্সিডেন্টের পরে, আর্মিকে ক্ষমতা গ্রহনে একটা বৈধতা দেয়। যেইটার মূল ইস্যু কিন্ত ছিল, এই সোশাল কন্ট্রাক্টের বাত্তয় হওয়া।।
এমনকি, ২০১৪ সালে আর্মি বিএনপিকে ক্ষমতায় আসার জন্যে সহায়তা না করায় অনেকে আর্মিকে গালি দেয়। কারণ, তারা মনে মনে মনে করে, সোশাল কন্ট্রাক্ট রক্ষা করা আর্মির দায়িত্ব, যেইটা তারা একবার ২০০৬ সালে পালন করছে । তাই, এইটা তার ২০১৪ সালেও পালন করা উচিত ছিল।

কিন্ত কেন করে নাই, কারণ,

কিন্ত আর্মি বাহাদুরও তত্তাবধয়াকের আমলে সশিয়াল কন্ট্রাক্টটার বাত্যয় ঘটায় এবং তার লিজিটিমিসি হারায়। সোশাল কন্ট্রাক্টে যেই খানে আছে জনগণ কুমকুম দুর্নীতি সহনশীল, সেই খানে আর্মি বাহাদুর, প্রথম আলো এবং সুশিল সমাজকে সাথে নিয়ে, জিহাদে নামলো সামন্ত তন্ত্র সাইজ করতে এবং দুর্নীতি দমন করতে এবং রেলের বগিকে ট্রেনে তুলতে।

হোয়াট দা হেল ম্যান। সোশাল কন্ট্রাক্টে তো সামন্ত তন্ত্র এলাউড। এই খানে কম কুম দুর্নীতিতে পাব্লিকের আপত্তি নাই। পইড়া দেখেন নাই, মইন সাব ?

তো যাক, এরপরে ২০০৭ সালে সারা বিশ্বে চালের দাম বেড়ে যাওয়ার উল্লম্ফনে যখন প্রথম আলোর সিভিল মিলিটারি শাসন থেকে, সিভিল পার্টি চুপকে সরে পড়লো, তখন, আর্মি দেখলো তার নিজেরও বৈধতা নাই। কেন,?
ওই যে সোশাল কন্ট্রাক্ট ভাংছে। নির্বাচন দেয়ার প্রতিশ্রুতি ভাংছে। তো এখন কি করা, নির্বাচন দাও।

সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এসে। মোটামুটি পাঁচ বছরে সোশাল কন্ট্রাক্টের অনেক গুলো নিয়ম ভাংলো।
এক। পদ্মা সেতু, হলমারক শেয়ার বাজার সহ আরো বড় কিছু ইস্যুতে এমন দুর্নীতি করলো, এইটা অবভিয়াস হয়ে গেলো, কুম কুম দুর্নীতিকে সে অনেক স্ট্রেচ করে ফেলছে। সারা দেশের তাদের পান্ডারা মারপিট করে খুব অসহনিয় অবস্থা সৃষ্টি করে। তখনো আওয়ামী লীগ এই সোশাল কন্ট্রাক্টকে পুরো ভাঙ্গে নাই। জাস্ট স্ট্রেচ করেছে মাত্র।

কিন্ত, সিটি কর্পোরেশান নির্বাচনে যখন, আওয়ামী লীগ গো হারা হারলো তখন, সে একটা ড্রামাটিক ডিসিশান নেয়।

এই সোশাল কন্ট্রাক্টকে সে রিডিফাইন করবে।এই জন্যে সে কিছু কাজ করে।

১। এই জন্যে সে ঘাতক দালালদের বিচারের ইস্যুটা সামনে আনলো।
২। ভারতকে অনেক গুলো কমিটমেন্ট দিলো।
৩। আর্মিকে প্রজেক্ট দিলো। গাড়ি বাড়ি দিলো। করপরেটায়ন করলো।
৪। কালচারাল এলিটদেরকে বিভিন্ন ধরণের সুযোগ সুবিধা দিলো।
৫। গারমেন্টসদেরকেও ইন্সেন্টিভ বাড়ায় দিলো।

আহ জিন শার্পের ক্ষমতার তত্ত্বটা এখন বলে ফেলি। কারণ, এই খানে এইটা না বললে জিনিষটা বুঝবেন না।

জিন শার্প মুলত সোশাল কন্ট্রাক্টটা থেকে আসা কার হাতে থাকে সেই নিয়ে থিওরি দিয়েছে। এইটাই তার ক্ষমতার তত্ত। জিন শার্পের মতে, প্রতিটা রাষ্ট্রে ক্ষমতার অনেক গুলো পিলার থাকে। জনগণ ক্ষমতার মূল উৎস না। এই পিলার গুলোই ক্ষমতার মূল উৎস। এই গুলোকে সে বলেছে, পিলারস অফ পাওয়ার।

এই পিলারস অফ পাওয়ারে আছে,
১। প্রশাসন।
২। সিভিল সোসাইটি।
৩। কালচারাল, সোশাল এবং পুজিপতি এলিট।
৪। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গুলো
৫। আর্মি-পুলিশ-বিডিআর সহ অস্ত্রধারি গ্রুপ যারা রাষ্ট্রীয় বল প্রয়োগের শক্তি রাখে।
৬। সামাজিক প্রতিষ্ঠান গুলো
৭।ডেভেলপমেন্ট পারটনারস, প্রতিবেশি রাষ্ট্র ইত্যাদি ইত্যাদি।

তো জিন শার্প বলছে, জনগন নয়, এই গ্রুপ গুলোই ক্ষমতার উৎস। এবং এদের ভাবনাই আসলে রাষ্ট্রের লিজিটিমিসি দেয়। তো এদের ভাবনা কি ? সোশাল কন্ট্রাক্ট।

তো আওয়ামী লীগ তার এই বিগত টার্মে যখন সিদ্ধান্ত নিলো যে সে, এ লিখিত সোশাল কন্ট্রাক্টটা সম্পূর্ণ ভাবে ভেঙ্গে রিডিফাইন করবে। সে প্রথমে, পিলারস অফ পাওয়ারকে ঘুষ দিলো।
কাউকে ইন্টিমিডেট করলো। ইন্টিমিডেট করার জন্যে, সে তার কালচারাল পাওয়ারটা ব্যবহার করলো। এই জন্যেই আওয়ামী লীগ বাঙালী জাতীয়তাবাদকে সামনে ঠেলেছে। বেসিকালি দে গিভ আ শিট।

আওয়ামী লীগ এইটা জাস্টিফাই করলো, দুইটা জিনিষ দিয়ে,যে,

এক। সে এতো অন্যায় করেছে, সে যদি পাওয়ার ছাড়ে, তবে তাকে এনিহিলেট করা হবে, তাই সে পাওয়ার ছাড়তে পারবেনা।
দুই। সে আরো দেখালো বিএনপি তাকে আগে এনিহিলেট করার চেষ্টা করেছে। তাই একে ট্রাস্ট করা যাবেনা।
থার্ড। একটা আরগুমেন্ট তার ছিল, সেইটা হইলো, আর্মি ২০০৬ সালে সোশাল কন্ট্রাক্ট ভাংছে, সো তাকেও ট্রাস্ট করা যাবেনা।

এবং সে ঘুষ দিয়ে, পিলারস অফ পাওয়ার এবং সোশাল কন্ট্রাক্টের পাহারাদেরকে কন্টেন করলো।
কিন্ত, এই কন্টেন টা সে করতে পারতো না, যদি না সে, এইটা রিডিফাইন না করতো। সে দেখাইলো, দেখো, এদের গনতন্ত্র দরকার নাই।
সো, ইউ নিড আ নিউ সোশাল কন্ট্রাক্ট। ২০৪১ পর্যন্ত শাসন। গণতন্ত্র নয় উন্নয়ন।

এই পুরো গেমে ডেভেলপমেন্ট পার্টনাররা এগেন্সটে থাকলেও, ভারত ভুরাজনীতির নতুন বিন্যাসে তার নব্য সুপারপাওয়ার ভুমিকার সর্বোচ্চ ব্যবহার করলো যেন, আমেরিকা ই ইউ কেউ বেশী বিরোধিতা না করে।

যাক, সে অন্য আলাপ। আমাদের মূল এই খানে যে বিষয় সেইটা হচ্ছে, আওয়ামী লীগ ২০১৪ সালের প্রতিনিধিত্ব বিহীন নির্বাচনে, নব্বইয়ের গড়া সোশাল কন্ট্রাকটের কিছু ধারাকে সম্পূর্ণ অবসলিউট করে দেয়, যার প্রধান হচ্ছে, ৫ বছর পরে ক্ষমতার পরিবর্তন এবং রিপ্রেজেন্টেটিভ ডেমোক্রসি। সে বললো, তার অটোক্রেসিটাই ডেমোক্রসি।

সো আওয়ামী লীগ বেসিকালি, বিগত ২০ বছরের অলিখিত সোশাল কন্ট্রাক্ট টাকে ডেস্ট্রয় করে দিলো।

সো, এইটা হইলো, সোশাল কন্ট্রাক্ট থিওরি ।
তো এখন আমরা দেখবো গেম থিওরি। যেইটা আমাদেরকে দেখাবে আমাদের রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ ভুত।

থিওরিটা খুব ইন্টেরেস্টিং। এইটা আবিস্কার করেছিল, জন ন্যাশ বলে একটা লোক। এই লোকটাকে নিয়ে রাসেল ক্রো এর অভিনিত, এ বিউটিফুল মাইন্ড ছবিটা গেম থিওরি আবিস্কার নিয়েই লেখা। দেখে নিয়েন। অস্কার পাইছিল।

ন্যাশ দেখাইছিল, সমাজে বা রাষ্ট্রে বা কোন প্রতিষ্ঠানে আমরা সব সময় নিজের জন্যে সর্বোচ্চ সুবিধা আদায় এর জন্যে চেষ্টা করি। নিজের এই সুবিধা আদায় এর জন্যে আমরা আমাদের সামর্থ্য এবং পরিস্থিতির মধ্যে এমন সব ডিসিশান নেই যাতে আমাদের সর্বোচ্চ সুবিধা হয় এবং তাতে অন্যদের(প্রতিপক্ষের) সর্বোচ্চ অসুবিধা বা ক্ষতি হয়
এবং একই দিকে, আমাদের প্রতিপক্ষেরাও একই কাজ টা করে। তারা তাদের নিজের সুবিধার জন্যে, তাদের সামর্থ্য এবং পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে এমন সব কাজ করে, বা সিদ্ধান্ত নেয় যাতে আপনার সর্বোচ্চ ক্ষতি হতে পারে।

এখন সবাই মিলে সবার ক্ষতি করতাছে, তাইলে তো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কথ। কিন্তু তা, হয়না। কেন হয়না ?? এইখানে ন্যাশ এর কারিগরি।

ছোট কালে বীজগণিতে কি শিখছিলেন খেয়াল আছে? মাইনাস এ মাইনাসে প্লাস।

আপনার পাশের লোক তার নিজের সুবিধার জন্যে আপনার অসুবিধা করতেছে, আপনি আপনার সুবিধার জন্যে তার অসুবিধা করতেছেন। এখন এই গুলো সব মিলে,কাটাকুটি হয়। এবং সোসাইটিতে বা রাষ্ট্রে ইকুইলিব্রিয়াম বা সাম্যাবস্থা বজায় থাকে ।

এইটারে অঙ্ক কইরা, ন্যাশ প্রমাণ করে দিছে । এই অঙ্কের নাম হইলো , ন্যাশ ইকুইলিব্রিয়াম। যারে সহজ বাংলায় বলা যায় গেম থিওরি ।

এই সূত্র টা বানায়া ন্যাশ ১৯৯৪ সালেগেম থিউরি বা ন্যাশ ইকুইলিব্রিয়াম কে বর্তমানে কর্পোরেট স্ত্রেটেজি, যুদ্ধ বিদ্যা ,রাষ্ট্র বিদ্যা, সমাজ বিদ্যা হতে শুরু করে অসংখ্য দিকে এক্সপান্ড করা হইছে। অর্থনীতিতে নোবেল পাইছিলো।

এখন এই গেম থিওরিকে আওয়ামী লীগ আর বি এন পিতে ফালান।

তারা একজন আরেকজন এর সাথে মারামারি কাটাকুটি, জেল,গুম সব করে। এমন ভাবে করতাছে তাতে তাদের সাম্রাজ্য ধ্বসে পরার কথা। কিন্তু ধ্বসে পরে নাই। বরং, দুই পার্টি মিলে একটা ইকুইলিব্রিয়াম বা স্থিতাবস্থা হইয়া আছে। ২০ বছরে একটা চমৎকার স্থিতাবস্থা দুই পার্টি মিলে এস্টাব্লিশ করে রাখছে ।

তো এই বুঝার একটা বাংলা হইলো,
আওয়ামী লীগ এবং বি এন পি মূলত একে অপরের পরিপূরক শক্তি ।
আওয়ামী লীগ না থাকলে বি এন পি টিকেনা এবং বি এন পি না থাকলে আওয়ামী লীগ টিকেনা।

গেম থিউরি থেকে বের হওয়া আরেকটা স্বতঃসিদ্ধ হইলো – ইকুইলিব্রিয়াম ডিস্টার্ব হইলে গেম থিউরিতে, পক্ষ গুলো একটা ইকুইলিব্রিয়াম বা স্থিতাবস্থার দিকে ফিরে যেতে চায়, যেই অবস্থায় তারা একজন আরেক জন এর সাথে সম দক্ষতায় ক্ষতি কইরা- ন্যাশ ইকুইলিব্রিয়াম বজায় রাখতে পারে।
ইকুইলিব্রিয়ামে ইম্বলান্স পক্ষ গুলো বেশি দিন সাসটেইন করতে পারেনা। সেই খানে নতুন কোন শক্তি এসে ইকুলিব্রিউম এস্টাব্লিশ হয়। নইলে রাষ্ট্র , সমাজ, কোন কিছুই টেকেনা।

এর মানে কি।
এর মানে এখন যে বিএনপিকে ধ্বংস করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে। এবং আওয়ামী লীগ মোটামুটি শুধু বিএনপি না, রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতা এবং ফোরসকে তার এক মুখী আদর্শের নামে দখল করে নিচ্ছে, এইটা ন্যাশ ইকুইলিব্রিয়ামকে ডিস্টারব করছে।

এর মানে হইলো, কোন মতেই, আওয়মি লীগের ২০৪১ পর্যন্ত শাসনের সম্ভাবনা নাই। এইটা ম্যাথমেটিকালি ইম্পসিবল।
সো কে আসবে? বা কি হবে ?

গেম থিওরি বলে, সব চেয়ে বেশী শক্তি যার, সে এসে ইকুইলিব্রিয়াম ব্যাল্যান্স করবে। তো বাংলাদেশে আওয়ামি লিগ বাদে সব চেয়ে বেশী শক্তি কার ? ভাই, আমারে ৫৪ ধারায় ফালায়েন না। আমি জাস্ট অঙ্ক কষতাছি, ন্যাশ ইকুইলিব্রিয়াম দিয়া। বুইঝা নেন।

যাক। এখন তাহলে সব মিলায় কি দারায়লো এবং অবস্থা কি এতো হতাশাজনক ? কোন সলিউশান নাই। আমরা যারা দ্বিদলীয় চক্রের বাহিরে কিন্ত বাংলাদশে গনতন্ত্রের ধারাবাহিকটা দেখতে চাই, আমাদের কোন সলিউশান নাই ?
ভালো একটা রিপ্রেজেন্টেটিভ ডেমক্রেসি এবং সুশাশন পাওয়ার কোন চান্স নাই। এক আওয়ামী লীগ, দুই বিএনপি নয় তেনারা ?

ওয়েল নো।

আপনার হাতে দারুন একটা সলিউশান আছে, সেইটা আমাদের বাংলাদেশ থিওরি মতেই?
সেইটা কি।

সেইটা হচ্ছে, সোশাল কন্ট্রাক্ট।
আওয়ামী লীগ যে এখন সোশাল কন্ট্রাক্টটা ভেঙ্গে ফেলেছে, তাতে সমাজে একটা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এইটা আপনি যে কোন মানুষের সাথে আলাপেই টের পাবেন। এইটা এখন একটা দারুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে, নতুন একটা সোশাল কন্ট্রাক্ট ডিফাইনের।

সো, এখন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্টেক হোল্ডার যারা। যারা ৯০ এর সোশাল কন্ট্রাক্ট টা লিখছিলেন, তাদের মধ্যে এখনো সোশাল কন্ট্রাক্ট ডিফাইন করার লিজিটিমেসি কিছুটা রাখেন, সেই পাওয়ার এলিটস, সেই ধনিক গোষ্ঠী, সেই ঢাকা কেন্দ্রিক কন্ট্রাক্ট লেখকদের । (যদিও, সোশাল কন্ট্রাক্টে ভেঙ্গে ফেলার পরেও আওয়ামী দালালি করে, অনেকেই লিজিতিমিসি হারাইছেন)।

কিন্ত, সেই সেকুলার/বাম/আরবান/সসিয়াল/কালচারাল/ধনিকএলিটরা এখনো সেই ক্ষমতা রাখেন, পিলারস অফ পাওয়ার অনুসারে এ- একটা নতুন একটা সোশাল কন্ট্রাক্ট ডিফাইন করার।

আওয়ামী লীগ আগের সোশাল কন্ট্রাক্টটা ভেঙ্গে ফেলেছে, এইটা তাদের জন্যে সুযোগ।

সো, এখন অনেকে চিন্তা করেন, আওয়ামী লীগ গেলে কি হবে বিএনপি আসলে কি হবে, ইত্যাদি ইত্যাদি।
আসলে সেইটা আপনার ভাবার দরকার নাই।
আপনার ভাবার দরকার, একটা সম্পূর্ণ নতুন সোশাল কন্ট্রাক্টে কি থাকবে, সেইটা নিয়ে।

তাহলে যেইটা হবে, আপনি যদি সত্যি নতুন একটা সোশাল কন্ট্রাক্ট ডিফাইন করে, সেইটার সেইটার প্রতি জনগণের লিজিটিমিসি আনতে পারেন, তাহলে, ক্ষমতায় যেই থাকুক, তাকে সেইটা মেনে চলতে হবে।
নইলে সে বৈধতা হারাবে।
সো এখনো ইনিসিয়েটিভ আপনের হাতে।

এইটা আরো এক্সপান্ড করার দরকার, কিন্ত, লেখাটা অনেক বড় হইয়া যাইতেছে। আমি থামলাম।

আজকে হয়তো গুছায় বলতে পারি নাই। কিন্ত, আরেক দিন আরো শর্ট করে লিখবো।

লেখক : জিয়া হাসান

 

Facebook Comments
Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *