মুক্তিফোরামে লিখবেন কেন?

“যদি তুমি ভয় পাও, তবে তুমি শেষ / যদি তুমি রুখে দাঁড়াও, তবে তুমিই বাংলাদেশ।”

এই অসাধারণ পংক্তিগুচ্ছ যিনি লিখেছেন তাকে আমরা চিনিনা। কোন একজনের মগজ থেকে সময়ের প্রয়োজনে উৎসারিত এই বাক্য দুইটি উঠে দাঁড়িয়েছে মুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্নের দাস্তান হিসেবে। এর আগেও নানান মুক্তির স্বপ্ন নানান সময়ে উঠে এসেছে জনতার ভেতর থেকে। সুবোধের ছবি ভেসে উঠেছে শহরের রাস্তায়, জয় বাংলা ধ্বনিতে গমগম করে উঠেছে দেশ, মুক্তির মতন পবিত্র নামে ঘটে গিয়েছে যুদ্ধের মতন ভয়াল ঘটনা। সেইসব ইতিহাসের নিরিখে বলতে গেলে দেখা যায় যে বাংলাদেশের ইতিহাস লিখিত হয় সময়ের প্রয়োজনে, মুহুর্তের আবেগে, উচ্চকিত কন্ঠে। মুক্তি বলতে আমরা কি বুঝি, স্বাধীনতা বলতে আমরা কি বুঝি, এমনকি স্বৈরাচার বলতে আমরা কি বুঝি তা কোন বইয়ের পাতা পড়ে জানা যায়না এই দেশে। তা বুঝতে গেলে কান পাততে হয় সড়কে, চায়ের দোকানে, মহল্লার কিনারে কিনারে। সেইসব মনোযোগী আড়িপাতার থেকেই হয়তো আমরা বুঝতে পারি বাংলাদেশ কোথায় যাচ্ছে, কোথায় যাবে। বড়ো দালানে বসে থাকা বাবু-বিবিরা যতই মনে করুক না কেন যে ইতিহাস তাদের কব্জায়, ইতিহাস থাকে সময়ের দখলে। এই বাংলার বুকে সেই সময়কে কোন বড়োকর্তা কোনদিন দখল করতে পারেনাই, কোনদিন পারবেও না।

সেই সময়ের দাস্তান ধরে রাখবার একটি অন্তঃজালীয় উপায় বের হয় যখন আমাদের শহরে (এবং ধীরে ধীরে গাঁয়ে) ফেইসবুক নামের অচিন চিড়িয়া এসে পৌঁছায়। যেই বাংগালি দিনকে রাত করতো চায়ের কাপে, ফেইসবুক তাদের কাছে হয়ে ওঠে হামান-কামান। নিজের মতামত, নিজের বিশ্বাস, নিজের মুক্তি, নিজের স্বাধীনতা তারা জানিয়ে দিতে চায় সকলকে, সারা বিশ্বকে। আর দামাল বাংগালিকে প্রাতিষ্ঠানিক পত্রিকা ফত্রিকা সম্পাদকেরা আটকে রাখতে পারেনা। তারা ছুটে বেরিয়ে যেতে থাকে সকল সম্পাদকীয় পাগলাগারদ থেকে। শূণ্য সম্পাদনা আর অসীম পাঠকের সম্ভাবনায় তারা প্রত্যেকে হয়ে ওঠে একেকজন অগ্নিঝরা পন্ডিত। অনেক মূলধারার পন্ডিত যেমন উঠে আসে সেইখান থেকে, তেমনি কিন্তু গণ্ডমূর্খ পায় পান্ডিত্যের খেতাব। আমার মতন কিছু ভ্যা ভ্যা করা ছাগল হয়ে ওঠে তারকা আর মনে করতে শুরু করে যে মুক্তির, বা স্বাধীনতার, বা সামাজিক ন্যায়বিচারের তাদের দেয়া মাপকাঠিটাই আসলি আর বাকি সব মেকি। আর এইসব দেখে সময় আর সময়ের প্রয়োজনে গড়ে ওঠা মুক্তি, ন্যায়, শান্তি, স্বাধীনতা ইত্যাদি মুচকি হেসে ওঠে, আর শুষ্ক মুখে বলে “লল”।

এই টালমাটাল সময়ে আমাদের তাই প্রয়োজন এমন একটি প্রতিষ্ঠানের যেটি কিনা একই সাথে মনোযোগ দিয়ে আড়ি পাতবে, মানুষের কথাকে মুক্তভাবে প্রকাশের জন্যে একটি ময়দান দেবে আর তাদের কথার থেকে মুক্তি, ন্যায়, শান্তি, স্বাধীনতা ইত্যাদির মানে বের করবার চেষ্টা করবে। তবে একই সাথে এই প্রতিষ্ঠানকে নিতে হবে সম্পাদনার দায়িত্ব, যাতে করে রাজনৈতিক মিথ্যাচার ও স্বার্থান্ধ অপপ্রচার তার মানবিক ময়দানকে ব্যবহার করে দাবানলের হয়ে উঠতে না পারে। এই প্রতিষ্ঠানকে হতে হবে দ্বিতীয় জোড়া চোখ যেটি কিনা অসীম পাঠকের খাবলানোর জন্যে লেখা ছেড়ে দেবার আগে লেখাটিকে কিছুটা সম্পাদনার মাঝে আনবে যাতে করে লেখনীর মাধ্যমে গড়ে ওঠা জনসমাজ সংখ্যাগুরুবাদী, জনরঞ্জনবাদী অথবা অনুদার হয়ে না ওঠে।সেই প্রতিষ্ঠানটিকে হতে হবে একটি  ফোরাম আকারে যেখানে সকলে আলোচনা সমালোচনা করতে পারবে মুক্তভাবে আর সেখান থেকে গড়ে উঠবে আমাদের মুক্তির বোধ। সেটাই হতে চেষ্টা করে আমাদের মুক্তির নিমিত্তে ফোরাম অথবা মুক্তিফোরাম।

তবে যদি আপনারা, অর্থাৎ আমাদের পাঠকেরা প্রত্যেকে লেখার দায়িত্বটুকু না নেন, তবে আমাদের মুক্তিফোরামের উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয়ে যাবে। দেখা যাবে ভাষাজ্ঞানে দিক্ষিত মাত্র কয়েকজনের মতামতই ঘুরেফিরে ছাপছি আমরা আর জনতার পালস মিস করে গেছি বেখেয়ালে। তখন আমাদের আর প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাঝে কোন তফাতই থাকবে না। সেই কথা ভাবতেও গা শিউরে ওঠে আমার। নাহ, এমন মুক্তিফোরাম আমরা চাইনা।

কাজেই লিখুন। লিখুন এখনই। লেখনিতে বানান ভুল থাক, ইংরেজি হরফে বাংলা হোক, গালিগালাজ থাক, গুরুচন্ডালি থাক–কিচ্ছু এসে যায়না। তবু লিখুন। সময়ের ইতিহাসকে শব্দে বন্দি করবার চেষ্টা করুন। আপনার লেখাকে অসীম পাঠকের সামনে তুলে ধরবার জন্যে রয়েছে মুক্তিফোরাম ওয়েবসাইট (muktiforum.com) এবং পেইজ (www.facebook.com/Muktiforum/)। সরাসরি নিজের নামে বা নিজের ফেসবুক একাউন্ট থেকে লিখতে চাইলে লিখুন আমাদের গ্রুপে (www.facebook.com/groups/Muktiforum/), ছদ্মনামে লিখতে চাইলে লিখুন আমাদের ওয়েবসাইটের ফর্মে (muktiforum.com/write/)  অথবা ইমেইল করুন [email protected] এ।

আপনাদের লেখা প্রত্যেকটি বর্ণ হতে পারে ইতিহাস। সেই সম্ভাবনা এবং দায়িত্ব মাথায় রেখে লিখতে থাকুন। লিখতে লিখতে একদিন দেখবেন রাত পার হয়ে গেছে, সুর্য উঠেছে।

তার আগে পর্যন্ত আমাদের লিখতে হবে। যে যেখান থেকে পারি, যে যতটোটা পারি।

আপনাদের লেখা পড়বার জন্যে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করবো আমরা সকলে। আমাদের সাথে থাকার জন্যে ধন্যবাদ।

 

লেখকঃ অনুপম দেবাশীষ রায়।

Facebook Comments
Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *