দেশের সকল গনতান্ত্রিক শক্তির একটা ঐক্য প্রয়োজন

গত কয়েক দিনের গনফোরাম, নাগরিক ঐক্য, যুক্তফ্রন্ট , বিকল্পধারা , জেএসডির যে ঐক্য প্রক্রিয়া চলেছে, সেইটা নিয়ে বিভিন্ন টকশো নিউজ রিপোর্ট এবং আলোচনা গভীর ভাবে দেখলাম।

ফার্স্ট অফ অল আমি এই প্রক্রিয়া এবং কাজকে স্বাগত জানাই।

বাংলাদেশে বর্তমানে আওয়ামী লীগের নাম দিয়ে চলছে যে মাফিয়াতন্ত্র এবং গুন্ডামির রাজনীতি চলছে তা বিগত পাঁচ বছরে দেশের সকল প্রতিষ্ঠান , অর্থনৈতিক সক্ষমতা, সভ্রেইন ঋণের সক্ষমতা, ব্যাংক, খনি, ম্যানপাওয়ার শিক্ষাব্যবস্থা, স্বাস্থ্য, আমাদের বিশ্বাস, নিরাপত্তা, পুলিশ, প্রশাসন কোর্ট এবং স্বাধীনতার পরে এই জাতির যা কিছু অর্জন সব কিছু এমন ভাবে ধ্বংস করেছে যে এইটাকে জাস্ট পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে অন্তত ১৫ বছর লাগবে।

এইটা তারা করেছে,আমাদের বেছে নেয়ার অধিকারকে নষ্ট করে, ২০১৫ সালের নির্বাচনে ভারতের সহায়তায় একটা পুতুল সরকার বসিয়ে। এই পুতুল সরকার আরো পাঁচ বছর, ক্ষমতায় থাকার জন্যে নির্বাচনী, সরকার, কমিশন , কোর্ট , পুলিশ এমন ভাবে সাজিয়েছে, তাতে জনগণের ইচ্ছার কোন প্রতিফলন ঘটবে না এবং এই পুতুল সরকারই নিজেই নিজেকে নির্বাচিত করবে। এইটা শেখ হাসিনা থেকে শুরু করে, একটা মফস্বলের ১১ বছরর বাচ্চা ছেলের কাছেও পরিষ্কার।

এই অবস্থায় আবার জনগনের আঙ্গুলের অধিকারকে ফিরিয়ে আনতে হলে, এই দেশের সকল গনতান্ত্রিক শক্তির একটা ঐক্য প্রয়োজন।

ফলে, আজকে ডক্টর কামাল হোসেন, বি চৌধুরী, মাহমুদুর রহমান মান্না বা কাদের সিদ্দিকিরা যদি এই উদ্যোগের সামনে থাকে এবং তাদের চিন্তা যদি হনেস্ট হয়, তবে উনাদের কার পাস্টে কি আছে, সেইটা আমি দেখবো না।

যেইটা আমি দেখছি, সেইটা হচ্ছে আদর্শ এবং ভ্যালুর যে মিনিমাম যোগ্যতা থাকলে আমি কাউকে গ্রহন করতে, পারি, সেই টুকু উনাদের সবার আছে। এই জন্যেই উনাদের উপরে আস্থা রাখছি।

কয়েক দিনের টক শো, আলোচনা, পত্রিকার রিপোর্ট দেখে কিছু উপলব্ধি হয়েছে।

১। ডক্টর কামাল হোসেন। ওয়াও। এবসুলিউটলি নো নন্সেস এবং এবসলিউটলি হনেস্ট একটা ইন্টেন্ট নিয়ে আজকে উনি মাঠে নেমেছেন।

উনি জানেন, উনার জীবনের আর বেশী দিন নাই। এবং উনি বুঝেন এই দেশকে কোথায় নিয়ে আসা হয়েছে। এবং জীবনের শেষ ফাইটটা উনি দিয়ে যেতে চান।

ডিবিসি চ্যানেলে যখন, নবনিতা উনাকে বার বার বলতেছিল যে,তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং সংবিধানের কথা তখনি উনি যেভাবে বলেন, আমাকে সংবিধান দেখায়েন না। তখন নবনিতাও লজ্জা পায়(!!!)। কারন, এই দেশের সংবিধান যিনি প্রনয়ন করেছেন, তাকে অন্তত নবনিতাদের শেখানো অধিকার নাই, সবিধানের নামে যা ইচ্ছা তা করা চলেনা। নবনিতার লজ্জা দেখে ভালো লাগলো।

এই ঐক্যে যদিও, অনেক গুলো নাম এসেছে কিন্ত, সবাই মূলত ডক্টর কামাল হোসেনের দিকেই চেয়ে আছে।

,আজকে অনেকে বলতে পারেন, ডক্টর কামাল হোসেনের লেজিটিমিসি কি। উনি তো কখনো নিজে একটা সিট জিতেন নাই। এবং যত দূর জানি, উনার একবার জামানত বাজেআপ্ত হয়েছিল।

নাউ হেয়ার ইজ দা থিং। আশা করি আওয়ামী লিগের বিগত পাঁচ বছরের শাসন দেখে, আমরা শিখেছি, পলিটিকাল লেজিটিমিসি এবং ইলেকটরাল লেজিটিমিসি এক না। আজকে, বাংলাদেশে ইয়াবা সম্রাট বদি একটা সুষ্ঠু নির্বাচনে নির্বাচিত হওয়ার সক্ষমতা রাখে।

এবং ডক্টর কামাল হোসেনের জামানত বাজেয়াপ্ত হতে পারে।
কিন্ত, একটা দেশের রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করে যে কন্সাস পলিটিকাল ক্লাস, যেইটার মধ্যে আমি আপনি পড়ি সেই শ্রেণীর কাছে, ডক্টর কামাল হোসেনের সর্বোচ্চ লেজিটিমিসি আছে।

এবং আমি উনাকে যত দূর রিড করেছি, আমি উনার উপরে ব্লাইন্ডলি আমার আস্থা রাখতে পারি। এই দেশের সংকট মুহূর্তে পথ দেখানোর জন্যে হি ইজ দি ম্যান।

কারন উনার সেই সততা প্রজ্ঞা গ্রহনযোগ্যতা এবং কান্ডজ্ঞান আছে। আমি আশা করি তিনি আজকে রেজিস্টেন্স শক্তির ফ্রন্টমান হিসেবে দাড়াতে পারবেন।

শেখ হাসিনা চাইলেই তাকে গুম করতে পারবেনা কিন্ত বালির ট্রাক ? লেটস সি।

২। একটা টক শোতে মাহি বিকে দেখলাম এই ঐক্য নিয়ে কথা বলতে। সেখানে কিছু জিনিষ আমার আমার ভালো লাগে নাই। ঐ টক শোতে মাহি বিকে কয়েক বার বলতে শুনলাম,
আমরা বিএনপির কাছে যাই নাই—– বিএনপি আমাদের বাসায় এসেছে——————- , বিএনপি যখন আমাদের বাসায় আসলো———- আমার আব্বার সাথে যখন কথা বললো। এই শব্দ গুলো আমার ভালো লাগে নাই।

মাহি বি এর যে কথা গুলো আমার কাছে ইন্টেরেস্টিং লেগেছে এবং আমি এক মত সেইটা হইলো- উনি কয়েক বার বলেছেন-” আমরা চাই না বিএনপি আবার ক্ষমতায় গিয়ে আওয়ামী লীগের মত হোক বা আবার প্রধানমন্ত্রী একক ক্ষমতার অধিকারি হোক।

এবং এইটাকে নেগেট করার রাস্তা হিসেবে যে প্রস্তাব তিনি করেছেন যেইটা বিভিন্ন পেপারে দেখেছি সেইটা হচ্ছে ,ক্ষমতার ভারসাম্য আনার জন্যে “বিএনপিকে ১৫০ সিট ছেড়ে দিতে হবে।”

নাউ হেয়ার ইজ দা থিং। পারসনালি আমি কমপ্লিটলি মাহি বি এর সাথে, এক মত, যে, বিএনপি যদি আজকে একটা পলিটিকাল ইউনাইটি চায় তবে, তাকে ইলেক্টকরাল হিসেবে, ১০০/১৫০ সিট ছাড়তে হতে পারে বা বেশীও ছাড়তে হতে পারে।

কিন্ত সেইটা ছাড়তে হবে, অনেক বড় একটা পলিটিকাল এলায়েন্সকে শুধু ইনিসিয়েটিভ নেয়া এই চারটা দলকে নয়। এবং সেইটা ছাড়তে হবে প্রতিটা স্টেক হোল্ডারের আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে রেজিস্টেন্স তলার সক্ষমতার উপরে।

মাহি বি বা বিকল্পধারা একটা পলিটিকাল স্পেস তৈরি করেছেন, একটা ইনিসিয়েটিভ নিয়েছেন। কিন্ত এই ইনিসিয়িটিভের প্রাইস, ১৫০ সিট নয়। এইটা পলিটিকালি নাইভ এবং ঐক্য প্রক্রিয়াতে শুরুতেই খুব বাজে প্রিসিডেন্স তৈরি করবে।

৩। এই খানেই আমার থার্ড পয়েন্ট এখনো যে চারটা দল এক হচ্ছে, তারা বাদেও বাংলাদেশের পলিটিক্সে অনেক স্টেক হোল্ডার আছে।

আজকে যে সর্বদলীয় ঐক্য প্রক্রিয়া দেখা যাচ্ছে এই খানে এখনো সর্বদল যুক্ত হয় নাই। এই চারটা দল এগিয়ে এসেছে। কিন্ত, এই চারটা দল এবং বিএনপির ঐক্য কোন মতেই সর্বদলীয় ঐক্য নয়।

আজকে সর্ব দলীয় ঐক্য অনেক বড় কালচারাল এবং সোশাল কানেক্টিভিটিভি তৈরি করতে হবে। যেইটা এই দল গুলোর কেউ এখনো করে নাই।

এবং সেই প্রক্রিয়া যখন আসবে, তখন পলিটিক্সের রিয়েল যে স্টেক হোল্ডাররা আছে, যারা পলিটিকাল ক্লাসের কাছে লেজিটিমিসি রাখে, তারা যখন এক হবে একটা আন্দোলনে তখনই শুধু মাত্র একটা ইফেক্টিভ রেজিস্টেন্স তৈরি করা সম্ভব। এবং এদেরকে আনতে হলে, তাদেরকেও সিট দিতে হবে।

মাহি বিরা যদি একলাই, ১৫০ নিয়া ফেলেন, তাইলে ? বাকী রা পাবে কি?

৪। মাহি বিদের এই ১৫০ সিট চাওয়া এবং যে আলোচনা গুলো তিনি করেছেন তার মধ্যে আর একটা প্রবলেম আছে, সেইটা হচ্ছে, তারা ধরে নিচ্ছেন, এই কয়েকটা পার্টি মিলে বিএনপির সাথে যদি ঐক্য হয় তবে, তারা ক্ষমতায় জিতেই গ্যাছেন এবং বিএনপির থেকে কেউ প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন।

এবং সেই সরকারে তারা ইনু, মেননের রোল না নিয়ে আর মেজর রোল চান, যেই জন্যে তারা আর বেশী সিট চান। এইটা খুব নাইভ একটা চিন্তা।

কারন, লেট আস বি ভেরি ক্লিয়ার আওয়ামী লীগ কোন মতেই ক্ষমতা ছাড়বে না।

নির্বাচন সুষ্ঠু হক আর না হোক, বিএনপির সাথে এই দল গুলোর এলায়েন্স হোক বা না হোক , আওয়ামী লীগ ক্ষমতা ছাড়বেনা এবং তারা কোন তত্তাবধ্যায়ক সরকারও এলাউ করবেনা এবং তারা যেই ভাবেই হোক আগামী নির্বাচনে জিতে আসবে। সেই খানে কে কোন এলায়েন্স করছে, তার ধার তারা ধারবেনা। দে ঊইল জাস্ট ব্রুটলি গেট দে ইলেকশান ইন দেয়ার ফেভার। কোন ফরমেটে সেইটা এই আওয়ামী লীগ করবে, সেইটা আমরা খুলনা বরিশালে দেখেছি।

সো, এখন যে ঐক্যের চিন্তা, সেইটা নির্বাচনী এলায়েন্স হতে পারে, কিন্ত, সেইটা আলটিমেটলি একটা পলিটিকাল এলায়েন্স, যেইটা আগামী নির্বাচনের আগে এবং পূর্বে দর কষাকষি করবে, সরকারের সাথে এবং আগামীতে আবার যখন একটা অবৈধ নির্বাচন করে সরকার ক্রষমতায় যাবে তখন বাংলাদেশির রাজনীতির স্ট্যাটাস কো ভিন্ন ধরনের হবে, ফলে তখন সেই রিয়ালিটিতে এই জোট একটা পলিটিকাল রেজিস্টেন্স গড়ে তুলবে।

যেন আগামী নির্বাচনে যখন আওয়ামী লীগ কেন্দ্র দখল করে , মাস্তান দিয়ে, রাইতের বেড়া সিল দিয়ে, দল গুলোকে রেজিস্ট্রেসান দেয়া বন্ধ করে, বিভিন্ন ভাবে ক্ষমতায় যাবে- তার ফলে তার পরবর্তীতে একটা এজিটেশান হয়। যেই এজিটেশানটা থেকে স্লোলি, বাংলাদেশ রাষ্ট্র একটা পরিণতির দিকে যাবে।

সো এখন যেই ভাবে, সিট ভাগাভাগি করতেছেন, তাতে মনে হইতেছে, বিএনপির যে পপুলার সাপোর্ট আছে, সেইটার উপরে ভর করে উনারা ক্ষমতায় চলেই গ্যাছেন, কিন্ত ক্রিম কতদূর খাবেন, সেইটা আগে থেকে বলে রাখতেছেন।

সরি মেট দ্যাটস নট গনা হ্যাপেন, ইটস লং রোড টু ফ্রিডম ডিয়ার ।

৫। এই দল গুলো এখনো বাংলাদেশ রাষ্ট্র কিভাবে চলবে, তার কোন রোড ম্যাপ হাজির করে নাই। তাই মানুষ যেভাবে বিএনপির পক্ষে রাস্তায় নামে নাই, এদের পক্ষেও নাম্বেনা। ফলে, এই ধরনের কালচারাওল মুভমেন্টের জন্যে এই দল গুলো এবং বিএনপি আগামী তে বাংলাদেশ রাষ্ট্রে কি পরিবর্তন আনবে, সেইটার পরিষ্কার পরিকল্পনা দিতে হবে। এখনো বিএনপির যে ১০ দফা, এবং বিভিন্ন পার্টির ৬ দফা, ৭ দফা দেখতেছি সেই গুলোতে কোন কমিট্মেন্ট ফোকাস এবং এঙ্গেজমেন্ট দেখা যায় নাই। সো মানুষ সে গুলো পরেও দেখে নাই।

৬। আমি প্রথমে যেইটা বলেছিলাম, সেইটা আবার বলি, এই ঐক্য প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানাই।

কিন্ত আজকে এই চারটা দল মিলে যদি, মনে করে, আওয়ামী লীগের বিপক্ষে বিএনপিকে সাথে নিয়ে, ডক্টর কামাল হোসেনের ফেস ভ্যালু
এবং বিএনপির পপুলার সাপোর্টট ব্যবহার করে তারা কিছু একটা করে ফেলবে, তারা বোকার স্বর্গে বাস করবে।

আওয়ামী লীগের জন্যে স্টেক ইজ টু হাই। আজকে, এই দেশের অন্তত পক্ষে, কয়েক মিলিয়ন লোকের মুখের আধার, বাচ্চার দুধ এবং বউ কাপড় আজকে এই দেশকে লুট করে জোগাড় দেয়া আওয়ামী লীগ। এরা প্রতিটা জেলায় প্রতিটা ইউনিয়নে ছড়ানো। এরা জানে, আজকে যদি আওয়ামী লীগ চলে যায় তবে, তাদের সেই আধার বন্ধ হয়ে যাবে। এদের বড় একটা অংশকে আর্মস দেয়া হয়েছে। আজকে তারা যে কোন মুল্যে রেজিস্ট করবে, ক্ষমতার যে কোন পালাবাদল।

আজকে সেই পালাবদল যদি করতে হয়ে আরো অনেক বড় পলিটিকাল ইউনাইটি লাগবে, সোশাল কালচারাল মুভমেন্ট লাগবে, লাগবে লেখক ,কবি, গায়কদের। লাগবে, মাশরাফি এবং সাকিবকে। এইটা একটা বিশাল কালচারাল মুভমেন্টে যেইটা সুন্দরবোন মুভমেন্টে আমরা হাল্কা দেখেছি। দেখেছি কোটা মুভমেন্টে এবং নিরাপদ সড়কের দাবীতে মুভমেন্টে- যখন মানুষ সতপ্রনদিত হয়ে গান, কবিতা, কার্টুন লিখেছে একেছে।

সেই ধরনের কালচারাল জাগরণ তুলতে হলে আরো বড় এলায়েন্স লাগবে। তাতে জামাতে ইসলামকে বাদ দিয়ে ডান, বাম, মিডল , ইস্লামিস্ট সবাইকে এক হতে হবে একটা রেজিস্টেন্স মুভমেন্টে। কেন জামাতকে বাদ দিতে হবে, সেইটা অন্য আলোচনা।

এবং এই এলায়েন্সের জন্যে বিএনপিকে অনেক ছাড় দিতে হবে তাদের ইলেক্টরাল প্ল্যানে যেন এই এলায়েন্সের পলিটিকাল স্টেক হোল্ডারদের নিজস্ব বেনেফিট থাকে।

কিন্ত আজকে, শুধু এই চারদল এবং বিএনপি মিলে যদি একটা জোট আমার বিশ্বাস সেই জোট কেপেবল হবেনা সেই ধরনের কালচারল মুভমেন্ট গড়ে তুলতে এবং সেই ক্ষেত্রে তাদের এই এলায়েন্সর রেজাল্ট নিয়ে আমি আশাবাদ রাখবো না।

যেই হোক,আগামীতে কি হয় দেখতে অপেক্ষায় থাকলাম।

লেখক : জিয়া হাসান

Facebook Comments
Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *