তরুণদের মনে লোভের পোকা ঢোকালো কে ?

বিপথগামী হওায়ার অনুকুল পরিবেশ জিইয়ে রেখেছে কে?

তরুণদের মনন বৃদ্ধি ও বিকাশের নিরাপত্তার জন্য কয়টা সিসিটিভি ক্যামেরা আছে সমাজ ও রাষ্ট্রে ? নিখাদভাবে তরুণদের জন্য ভাবতে ভাবতে রাতের ঘুম হারাম করেছে এমন ব্যক্তি কে, কয়জন আছে ? বাংলাদেশ সৃষ্টির পর থেকে অদ্যবধি তরুণশক্তির পাড়া ডিমগুলো দিয়ে ওমলেট বানিয়ে কাটাঁচামচে কেঁটে গলায় নামিয়েছে কে?  তরুণদেরকে ক্ষমতার পাহাড়াদার বা লাঠিয়াল বাহিনী বানালো কে ?” জিন্স প্যান্ট,, টাইট গেন্জি,, কানে দুল,, হাতে চুরি সদৃশ রিং ও মোটরবাইককে তারুণ্য বলে বাজারে চালিয়ে দিচ্ছে কে ? উন্নত দেশ হওয়ার স্বপ্নে বিভোর দেশটিতে কোটি সংখ্যক যুবক বেকার কেন ?” তরুণদের সামনে সাম্য,, ন্যায়বিচার,, সুষম উন্নয়নের উদাহরণ বেশি,, না খুব কম ?” সরকারি বেসরকারি চাকরি বা কর্মসংস্হানপ্রত্যাশী বেকার শিক্ষিত তরুণদের বয়স কিংবা কোটার বিধিনিষেধে ডান্ডাবেড়ি পরিয়েছে কে ?”
এ প্রজন্মের একজন তরুণ হয়ে এমন অসংখ্য কে বা কারাযুক্ত প্রশ্নমালা মনে জাগে সারাক্ষণ। কিন্তুু প্রশ্নমালা উত্থাপন ও উত্তরমালা পাওয়ার মঞ্চ কোথায় ?” স্বাধীণ দেশ আমার ! স্বাধীন নাকি গণমাধ্যম ও বিভিন্ন মঞ্চ ! অথচ তরুণদের সর্বনাশের সমূহ কারণের শিকড় অনুসন্ধান ও উপড়ে ফেলার তাগিদ আছে কি কোথাও ?”  তাগিদ নেই একেবারে তাও নয়। তাগিদ আছে–” তরুণদের গ্লানি করার ,, সমালোচনা করার,, অতীতের তারুণ্যর গল্প শুনিয়ে বর্তমানকে বিদ্রুপ করার। তরুণদের মুল্যবোধের অবক্ষয়ের গল্প পাতায় পাতায় ছাপা হয়। কেন মা,, মাটি,, দেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া অনাচারের মহামারিতেও তরুণরা জাগে না তা নিয়ে আক্ষেপ হয়। তরুণরা কেন বারবার ডিম পাড়ছে না তা নিয়ে তিরষ্কার হয়। কিন্তুু তরুণদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত কোন প্রশ্ন বা জিজ্ঞাসা কারো কিংবা কোন মহলের কর্ণকূহরে পৌঁছে না। ষোল কোটি মানুষের দেশটিতে যদি বিরাট সম্ভাবনাময় অংশটির নাম হয়, “তরুণ ” তাহলে সে অনুপাতে কি এরা যত্ন পাচ্ছে ?  নাকি পাচ্ছে এতটুকু স্নেহের পরশ ? বৈজ্ঞানিক এমন কোন যন্ত্র যদি পরিমাপ করতে পারতো তরুণরা স্নেহের নামে কতটুকু অযত্ন অবহেলা পাচ্ছে বা ক্ষেত্রবিশেষ কারো স্বার্থের দাবার গুটি হচ্ছে, তাহলে সে যন্ত্রটিও বাংলাদেশের লম্বা গলাওয়ালাদের ধিক্কার জানাতো।
এই নিবন্ধকারও বয়সে তরুণ (৩৪)। নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার প্রত্যন্ত বন্দরখড়িবাড়ি গ্রামে বাস। পিঠে নেই কোন রাজনৈতিক দলের সিল ছাপ্পর। খুব অল্প বয়সে বাবাকে হারিয়ে দরিদ্রতার নির্মম কষাঘাতে জর্জরিত হতে হতে বেড়ে ওঠা। গার্মেন্টসে হেলপারি থেকে শুরু করে পানবিড়ির দোকানদারি,, রিক্সা চালানো,, মানুষের বাসায় লজিং থাকা,, পল্লী বিদ্যুতে ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্হা ব্র্যাকে চাকরি ইত্যাদি এমন কোন কায়িক বা মানসিক শ্রমের পথ নেই যেখানে সে চিহ্ন রাখেনি বা রাখছে না। কিন্তুু লোভ কিংবা মুল্যবোধের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছে এমন চিহ্নও নেই ৫৬০০০ বর্গমাইলে। শুধুমাত্র শ্রমের বিনিময়ে বেঁচে থাকার আপ্রাণ চেষ্টাটুকু সবকিছু ছাপিয়ে জয় পেয়েছে। হাতের কাছে, চোখের কাছে বিপথে যাওয়ার লকলকে অফার কিলবিল করছে। কই পারেনি তো জীবনের সত্যকার গান থেকে তাকে ফেরাতে !  আজকের বাংলাদেশে এমন তরুণ কি বিরল ? নিশ্চয় নয়।” চোখের ভিতরের চোখটা খুলুন না  ;; দেখুন বাংলাদেশের অগণিত ঘরে ঘরে এমন  তরুণ আছে ও কেউ কেউ কুঁকরে আছে। কিন্তুু না, আপনারা সে সব দেখবেন না, দেখতে চাবেন না। আপনারা দু-চার, দশটা ঘুনে ধরা ( যে ঘুনটাও কারো না কারো সৃষ্ট) তরুণের নাম প্রমাণ হিসেবে হাতে ও ঠোঁটে রেখে সমগ্র অংশকে মন্দ বলতে অভ্যস্ততা লাভ করেছেন। রাজনীতি থেকে শুরু করে সমাজের কোন অংশ, কোন পেশায় র্দুবৃত্তায়ন হয়নি ?” পারছেন কি সে সব আঙ্গুল উচিঁয়ে বলতে ?” পারছেন না !” পারছেন শুধু তরুণদের বেলায় পঁচে গেছে,, পঁচে গেছে রব তুলতে !” আজকাল
লড়াইয়ে-সংগ্রামে,, গঠনে-নির্মাণে তরুণদের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয় জরাগ্রস্হ,, বার্ধক্যওয়ালাদের কাছে। কিন্তুু ফলভোগের পুরো অধিকার বৃদ্ধদের। ক্রেডিট পকেটে তুলতে এক পা কবরে যাওয়া অশীতিপরও খাড়া।
তরুণরা দেশপ্রেমের সংজ্ঞা পাচ্ছে না। তাই দেশপ্রেম এখন যে প্রচার/বিজ্ঞাপণ চালাতে পারে তাঁর !” দেশপ্রেমিক তরুণরা নয়  ;; তরুণরা কাজের ছেলে বা শুধুমাত্র কর্মচারি।  ওদিকে দেশপ্রেমিকের পুরো দাবীদার বলে প্রচার চালাচ্ছে হোমরা–চোমরা পক্ষ। অথচ ঘোষণাবাজ দেশপ্রেমিক গোষ্ঠী নিজ দায়িত্বে একবারও জবাব দিবে না,, দিতে চাবে না, কিভাবে এত বিপুলসংখ্যক সম্ভাবনাময়,, সবুজ,, ভাবুক তরুণরা দেশপ্রেমিক খেতাব থেকে বঞ্চিত হওায়ার উপযুক্ত হলো ?”
তরুণদের মাঝে মা তুল্য দেশের প্রশ্নে বিভক্তি কোথা থেকে এলো ?” কেন বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বেড়ে ওঠা একজন সদ্য যৌবন পাওয়া তরুণকে “খামোশ” বলে থামিয়ে দেওয়া হচ্ছে পরদেশের প্রতি অনুরাগের ভিত্তিহীন অভিযোগে ?” এ সংস্কৃতি দিয়ে কি তরুণদের বিকাশের গালে কষে থাপ্পর মারা হচ্ছে না ! কালা–ধোলা, ডাঙ্গর–বেটে,, মুসলিম–হিন্দু সব তরুণের রক্ত কি এক নয় ;; সবার বুক,, পেট কি একই বৈশিষ্ট্য বহন করে না ?” তাহলে বিভেদ,,বঞ্চনা,, বৈষম্য ও তারুণ্যকে জুতা মেরে গরু দান করে,, কি করে তারুণ্যর ডিম পাড়া আমরা আশা করছি ?” বেশ কয়েকবছর আগে এই নিবন্ধকার একটি বাংলা সিনেমা দেখেছিল। সিনেমার নাম–” শান্ত কেন মাস্তান ?” সিনেমায় নায়ক ছিলেন প্রয়াত মান্না। সিনেমায় নায়ক মান্না আর দশটা  স্বাভাবিক পরিবারের স্বাভাবিক গুন ও মুল্যবোধসম্পন্নই ছিল। কিন্তুু ভিলেনের দল একটি অশুভ সিস্টেম দিয়ে তাঁকে মাস্তানই বানিয়ে ছেড়েছিল। আজ বাস্তবের বাংলাদেশে তারুণ্যর অভিজ্ঞতা থেকে আমরা তরুণরা কি বলতে পারছি–” আমরা কেন মাস্তান ?”
না।” কোন প্রশ্ন করা যাবে না কোথাও ।”
জবাব মুখস্হ রেখেছে উপর্যুক্ত কর্তৃপক্ষ ;; ব্যক্তিগত হতাশা,, বিচ্ছিন্ন ঘটনা,, উন্নয়নবিরোধী,, দেশবিরোধী প্রভৃতি।
এদেশের ভিতরে লক্ষ লক্ষ তরুণের বুকের আগ্নেয়গিরি অবলীলায় হয়ে যায় কারো কারো কাছে বিচ্ছিন্ন ঘটনা। কিভাবে তরুণরা তাহলে বোঝাবে–অবিচ্ছিন্ন ঘটনার রঙ কেমন ?” এতদসত্ত্বেও তো এক বুক বঞ্চনা, বৈষম্যে কাতর হয়ে, হাটুতে মুখ লাগিয়ে মাটি কামড়ে পড়ে আছে লক্ষ লক্ষ তরুণ একটি সুন্দর বাংলাদেশের স্বপ্নে।
সেখানেও হানা পড়েছে, চোখ পড়েছে। ভাল নেই।”
বুকে ভয় জারি রয়েছে কে,, কখন না জানি দেশবিরোধীর সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেয় পিঠে।
তাহলে কি দেশপ্রেমিক হতে গেলে রাজনৈতিক রোবট হওায়া ছাড়া উপায় মিলবে না তরুণদের কপালে ?”
তাহলে তাঁরা সামনে দু”পা এগোবে কেমন করে ?  হয়তো সামনে দু”পা এগোনোর জন্য কখনও কখনও এক পা পিছানো যেতে পারে। কিন্তুু আমাদেরকে ; তরুণদের কত সহস্র পা পিছিয়ে দিচ্ছেন ?

লেখকঃ সেলিম রানা

[email protected] ইমেইল এড্রেসে পাঠানো লেখা থেকে পাওয়া

Facebook Comments
Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *