কোন দিকে হাঁটবে বিএনপি?

উপস্থিত যে কোন লেখাই আমার জন্য খুব প্রতিকূল। অন্তত এতে কাউকে বুঝানোর সেই সক্ষমতা তৈরী হয় না বলেই আমার ধারনা। তবুও কিছু জিনিস লিখতে চাই একদম একজন সাধারণ নাগরিকের দৃষ্টিভঙি থেকে কোনরকম তথ্য-উপাত্ত ছাড়া। কোনরকম র‍্যাশনাল-কন্সট্রাকটিভ ন্যারেশান ছাড়া।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের উত্তান একটা পয়েন্ট অব ভিউ থেকে যদি দেখি তাহলে ধরে নেয়াই যায় যে জিয়াউর রহমান খুব ভালো করে বুঝেছেন এইভাবে অন্তত দেশ চালানোর লেজিটেমিসি বেশিদিন তিনি পাবেন না। কিংবা তার পরিণতি বঙবন্ধুর মতই হতে পারে। বিএনপি সেই সু-কৌশলের সৃষ্টি যেখানে জিয়া সবাইকে এক ছাতার নিচে আনতে চেয়েছেন। অনেকেই যারা জিয়ার সমালোচনা করেন ধর্মভিত্তিক থেকে শুরু করে সব দলের রাজনীতি করার সুযোগ করে দেয়ার, তাদের কাছে আমার প্রশ্ন, ৭৫ পরবর্তী কিংবা এর পূর্ববর্তী ঘটনাবলীর পর আপনারা কীভাবে রাজনীতি চর্চা করার সুযোগ পেয়েছেন?

অথচ জিয়াউর রহমান এর পলিটিকাল কারেকশানের কথা কেউ বলে না। এইটা ঠিক না। বঙবন্ধুর যেরকম চর্চা এখন হছে সেরকম চর্চার শৃঙ্খলা খোদ বিএনপি ক্ষমতায় থেকে করতে পারে নি। জাতির কিন্তু এই জিয়া সম্পর্কে জানা খুব দরকার। সে যাই হোক। বলছিলাম তার পলিটিকাল কারেকশানের কথা। যেহেতু সামরিক বাহিনীতে থেকে তিনি প্রত্যক্ষভাবে এইদেশের সকল বিষয় দেখেছেন বুঝেছেন সেখানে তিনি বাকশালের মত কোন ভুল করার সিদ্ধান্ত নিতেন না। তাই তো ক্ষমতায় এসেই গণভোট এর আয়োজন করেন। আমার জানা মতে কেউ এখনো সেই গণভোটকে প্রহসনের নির্বাচন বলেন নি। জিয়া শুধু নিজের ক্ষমতার বৈধতা নিলেননা বরংচ অন্য দলগুলোর সমান সুযোগ তৈরী করে দিলেন। জিয়া একটা প্ল্যাটফর্ম তৈরী করে দিলেন। হুটহাট করে বিদেশ সফর না করে আগে দেশে স্থিরতা আনতে চেষ্টা করেন। তবুও সবচেয়ে ক্যু হয়েছে তার সময়ে। সেনাবাহিনীতে যে একটা আলাদা ন্যারেটিভ তৈরী করার চেষ্টা কর্ণেল তাহেররা করতে চেয়েছে জিয়া সেসব কঠোরভাবেই দমন করেন। কারন উপায় নাই তো। তিনি তো বঙবন্ধুর পরিণতি দেখেছেনই। সামরিক আদালতের বিচারে কারো বিচার হলে সেখানে কিছুই বলার থাকে না আমরা সেটা কমবেশি সকলেই জানি। “আয়েশা” নামক টেলিফিল্ম যে অনাকাঙ্ক্ষিত প্রেক্ষাপট নিয়ে তৈরী সেটা নিয়ে কিছু বলে নাই শুধু জিয়াকে তুলোধুনা করেছে।

জিয়া হত্যা পরবর্তী সময়ে বিএনপি আরো জনপ্রিয় হয়। এইটা একদম সত্য যে খালেদা জিয়ার রূপ-সৌন্দর্য এর ক্যাটালিস্ট হিসেবে কাজ করেছে। এরশাদ এসে যখন ঝেঁকে বসলো তখন কিন্তু প্রথম বিরোধিতা করে বিএনপিই। বিএনপিকে সাথে নিয়েই আওয়ামীলীগ আন্দোলন করে। বিএনপিকে সাথে নিয়ে দেশের সাথে বেঈমানিও করতে চেয়েছিলো এই আওয়ামীলীগই। কিন্তু পারে নাই। পরে তারা একাকী এরশাদের সাথে বৈঠকে বসে। বিএনপির ক্ষমতায় আসার এইটাও একটা কারন যা অনেকেই বলেন না। ধর্মকে উছিলা করে রাজনীতি করার যে কলঙ্ক আওয়ামীলীগ বিএনপির উপর লাগয়ছে সেই উছিলা প্রথম কারা নিয়েছিলো?
জামাতকে প্রথমে কারা নৌকায় বসিয়েছিলো?
এখন তো মনে অমি রহমান পিয়াল যেমন বাকশালের গুরুত্ব তূলে ধরে যে আবেগঘন লেখা লিখেছে সেরকম জামাতের তৎকালীন  ঘনিষ্ঠতা নিয়েও লিখবে। জামাত ফ্যাক্টর আমার লেখার মূল বিষয় না কিন্তু এই নব্য বিএনপিই যেরকম জামাতের উপর ভর করে ক্ষমতায় যেতে চাচ্ছে তা হতাশাজনক এবং জামাতকেই টেনে আনতে হয়।
এরশাদ এর পর প্রথম ক্ষমতায় বসে বিএনপি ঠিক মতই চলেছে। শেষের দিকে এসে তারেক জিয়ার টাকার প্রতি লোভই সব শেষ করে দেয়। দেশের সকল বিজনেজ সেক্টরে যেয়ে ভাগ চেয়ে বারোটা বাজায় দলটার। খালেদার কন্ট্রোলে না থাকার ফলেই এই অবস্থা। বর্তমানে হাসিনাপুত্র কি কম টাকা কামাচ্ছে? বেশি হুলস্থুল করলে কপালে তো খারাবি থাকবেই।

এরপরে আওয়ামীলীগ আসলো। এরপর তারা গেলো আবার বিএনপি আসলো। এরপর এখন আবার আওয়ামীলীগ। মুটামুটি তত্তাবধায়ক সরকারের অধীনে থেকে কিছু ভালো নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু বিএনপির পতনের গোড়া যে লোভ তার সম্মুখ প্রমাণ হলো তত্তাবধায়ক ব্যাবস্থা বাতিল করা এবং যেমনটা হাসিনা এখন আছে তেমন তাদের সে সময় থেকে যাওয়া। কিন্তু আওয়ামীলীগ এর তুখোড় প্রতিবাদে কয়েকদিনের মাথায় তারা ক্ষমতা থেকে সরে দাড়ায়। বিএনপি এখন যেরকম অবরোধের মুখে পড়ে সেরকম তারা করতে চেয়েছে আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে।
প্রতিহিংসামূলক রাজনীতি কোন না কোনভাবেই বিএনপিই শুরু করেছে এখন তার ফল পাচ্ছে। এইসব রেট্রিবিউটিভ এক্ট এর অতীতে ঘাটলে অনেক পাওয়া যাবে। কিন্তু এই লেখার মূল বিষয় হলো বিএনপির সামনে করণীয় কি? তা নিয়ে একটু লেখা। গর্তে ঢুকতে ঢুকতে বিএনপি একদম তলানিতে চলে গেছে এইটা বলে তাদের প্রতিবার্ষীকীতে অপমান করতে চাই না কিন্তু সত্য হলো তারা আজ কোনঠাসা হয়ে পড়েছে। জামাতের ভার সইতে সইতে তারা আজ নাকাল। না পারছে ছাড়তে না পারছে বেধে রাখতে।
তাহলে করণীয় কি?
কিছু জিনিস আমি পয়েন্ট আকারে দিতে চাই সেসব হলো:
১. মাইন্ডসেট ঠিক করা। তারা আসলে কি চায়?
২. জামাত এর সঙ্গ পূনর্বিবেচনা করা। জামাতের যদি ০৮% ভোট থাকে তাহলে তাদের কি লাভ আবার যেসব ফ্লোটিং ভোট আছে(যারা এক বছর আওয়ামিলীগ কে আরেকবার বিএনপিকে ভোট দেয়) তাদের আকৃষ্ট করে তাদের সঙ্গ নেয়ায় কি লাভ তা বিবেচনা করা।
৩. সারা দেশে একযোগে তৃণমূলের সাথে আলোচনায় বসা।
৪. শুধু ক্ষমতা কেন্দ্রিক কিংবা রাজনৈতিক ইস্যুর বাইরে যেসব জাতীয় ইস্যু আছে সেসব নিয়ে জনগনকে প্রভাবিত করা।
৫. নির্বাচনে যাওয়া নিয়ে মাইন্ডসেট ঠিক রাখা। আমি জাতীয় নির্বাচনে যাব না কিন্তু স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যাব! এইটা খুবই বাচ্চামি।
৬. দেশে যেসব বুদ্ধিজীবি রয়েছেন তাদের কাছে যাওয়া। তাদের পরামর্শ নেওয়া এবং তাদেরও প্রভাবিত করা।
৭. যে যুক্তফ্রন্ট ঘটন করা হচ্ছে বলে শুনা যাচ্ছে তাতে বিচক্ষণতার সহিত লিড ফ্রন্টে থেকে লিড দেয়া।
৮. খালেদার মুক্তি যে কোন আইনী কৌশলেই নিশ্চিত করা। আর যদি তা না হয় তাহলে খালেদাকে যে কষ্ট দেয়া হচ্ছে তার সচিত্র প্রতিবেদন-পোস্টার সকল জগণের কাছে বিলিয়ে দেয়া। একপ্রকার খালেদার এবসেন্টিভ সেন্টিমেন্ট যেনো গায়ে লাগে জনগনের। এবং এর এডভান্টেজ নিতে পারা।
৯. একটা পরিপূর্ণ রেভ্যুলেশনের জন্য প্লট তৈরী করা বা রেডি থাকা।
১০. সকল ভয় ভীতি কাটিয়ে রাস্তায় নেমে পড়া যেটাই হোক।
বেশি জ্ঞানগর্ভমূলক কিছু লিখতে চাইনি এবং হয়নিও আমি নিশ্চিত। তবুও এই দশটা পয়েন্ট যদি এনশিউর করা যায় তাহলে বিএনপির হালে পানি আসবে আমি শিউর।
ইন এ নাট শেল, গোটা দলকেই একটিভ থাকতে হবে। শুধুমাত্র রিজবী সাহেবের সংবাদ সম্মেলনে কাজ হবে না।

লেখকঃ নাঈমুম সাকিব

Facebook Comments
Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *