জিগাতলাতে আজকে রবিবার যা হল তার একটুকরো অংশ: প্রত্যক্ষদর্শীর জবান

সকালে শাহবাগে প্রায় তিন হাজার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী জড়ো হয়েছিল অনুজদের উপর গতকাল সাইন্সল্যাব ও জিগাতলায় পুলিশি হামলার প্রতিবাদে। কিছুক্ষণ পর সেই জমায়েত যখন সাইন্সল্যাবের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার ডাক দেয় তখন কিছুক্ষণের মাঝেই স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা যোগ দিলে সাইন্সল্যাবের মুখে সেটি ৫ থেকে ৬ হাজারের অধিক শিক্ষার্থীর এক বিশাল মিছিলে পরিণত হয়। পুরো মিছিল খুবই শান্তিপূর্ণভাবে এগুচ্ছিল জিগাতলা বাসস্ট্যান্ডের দিকে।

জিগাতলা বাসস্ট্যান্ডের কাছে পুলিশ ব্যারিকেড দেয়। কিছু ছাত্র তখন এগুতে চাইলেও বাকিরা তখন তাদের বুঝিয়ে পুরো মিছিল ইউটার্ন করে পিছনের দিকে ঘুরিয়ে দেয় ও সাইন্সল্যাবের আবার ফিরে যেতে থাকে। ঠিক তখন পুলিশ বিনা উস্কানিতে মিছিলের ভেতরে টিয়ারগ্যাস ও ঢিল মেরে ছাত্রদের ছত্রভঙ্গ করে ও উত্তেজনা সৃষ্টি করে। এবং সেটাকে ছুতা বানিয়ে বেদম পেটাতে থাকে। ছাত্ররা ছত্রভঙ্গ হয়ে এক গ্রুপ জিগাতলার দিকে আরেকগ্রুপ সাইন্সল্যাবের দিকে চলে যায়। প্রচুর আটকা পড়ে লেকের পাশের কানা গলিতে।

যারা জিগাতলার দিকে চলে যায় সেদিকে আমি ছিলাম। ছাত্র-ছাত্রীরা আশেপাশের গলির ভেতর বিভিন্ন বাড়ির গেটের ভেতরে অবস্থান নেয়। ঠিক তখন পুলিশ গলিতে গলিতে বাড়ির ভেতর ঢুকে তাদের পেটাতে থাকে। একে তো টিয়ারগ্যাসে সবার চোখ মুখ জ্বলছে কেউ নিঃশ্বাস নিতে পারছে না ঠিক মতো, দেখতে পারছে না ঠিকমতো তার উপর রাস্তা থেকে সরে গেলেও এই পুলিশি হামলা।

আমি যে গেটের ভেতর ছিলাম সেখানে ৭-৮জন ছাত্র-ছাত্রী ছিল। সেখানেও পেটাতে এলে আমি সাংবাদিকের আইডি কার্ড দেখিয়ে বার বার বললাম যে আমি সাংবাদিক। দয়া করে এদের অযথা পেটাবেন না। এদের যেতে দিন। আমি এদের এখান থেকে সরিয়ে দেব। তখন পুলিশ আমাকে উত্তর দেয় বালের সাংবাদিক! সাংবাদিক ভইরা দিমু। পিডা সবডিরে বলে আমাকে সহ উপস্থিত সকলকেই এলোপাতাড়ি বেদম লাঠিপেটা করতে থাকে। বন্দুকের বাট দিয়েও পেটায়। লাঠিপেটায় আমার পরিচিত ছোটবোন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া অরনী সেমন্তী খানের মাথা ফেটে যায়। সে উঠে দাড়াতেই পারছিলো না। বাকিরাও কম বেশি আহত হয়।

সেখান থেকে কিছুক্ষন পর বের হয়ে যখন জিগাতলা বাসস্ট্যান্ডের কাছে লেকের পাড়ে যে কানাগলি আছে সেখানে গিয়ে দেখি অনেক ছাত্র-ছাত্রী আটকা পড়েছে। কিছুক্ষণ পর পুলিশ আটকেপড়াদের বের হওয়ার কোন রাস্তা না রেখে সেই গলিতে এগিয়ে আসতে থাকে ও টিয়ার গ্যাস মারে। লেকের পাড়ে কয়েক শিক্ষার্থী হাতমুখ ধুচ্ছিল পুলিশ তাদের লাথি মেরে পানিতে ফেলে দেয়। তখন উপস্থিত আরেক সাংবাদিক তাকে দায়িত্ব নিয়ে সেভ করে। এবং সেখান থেকে বের করে দেয়। কিছুক্ষণ পর বাকি আরো কিছু সাংবাদিক মিলে যারা আটকা পড়েছিল তাদের উদ্ধার করে বের হওয়ার সুযোগটা করে দেয়। শিক্ষার্থীরা ফিরে যাওয়ার পথেও তাদের উপর হামলা হয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে।

লেখকঃ মাহতাব উদ্দীন আহমেদ

ছবিঃ ঢাকা ট্রিবিউন (রেপ্রেজেন্টেটিভ ছবি, ঘটনার নাও হতে পারে)

Facebook Comments
Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *