আহতের সংখ্যা লুকানোর চেষ্টা?

আহতের আসল সংখ্যা কত?
নেটের বাইরে ছিলাম। একটা খবর জানানো খুব জরুরী মনে করছি। কয়েকজন সাংবাদিক সহ আমরা যখন সন্ধ্যা ৬টার দিকে পপুলারের গেটে যাই তখন আমাদের ঢুকতে দেয়া হয়নি। কোন সাংবাদিককেই ঢুকতে দেয়া হচ্ছিল না। গেটের বাইরে ফুটপাতে আমাদের পপুলারের কাস্টমার ডিলিংয়ে যিনি বসা থাকেন তেমন এক কর্তাব্যক্তি জানালেন যে তখন পর্যন্ত থেকে অন্তত দুইশ থেকে আড়াইশো আহত ছাত্র-ছাত্রীকে চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে বা বিভিন্ন হাসপাতালে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। যার মধ্যে গুরুতর আহত কিংবা নরমালের চেয়ে কিছু বেশি আহত ছিল ৮০-১০০ জন। তার কিছুক্ষণ পরেই দ্বিতীয় দফায় যখন তাকে জিজ্ঞেস করা হল তখন তিনি বললেন যে দুইশ থেকে আড়াইশো আহত ছাত্র-ছাত্রীকে চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে তবে গুরুতর আহত ১৫ জনের মতো হবে।

এরপর রাত প্রায় ৮টার দিকে যখন পপুলার হাসপাতাল অফিসিয়াল ব্রিফিং দেয় সাংবাদিকদের সামনে তখন হাসপাতালের ম্যানেজার ও একজন ডাক্তার বললেন যে মাত্র ৩৫ জন নাকি আহত হয়েছে। তাকে যখন জিজ্ঞাসা করা হল যে একটু আগেই তো আপনারা আড়াইশো আহতর কথা বলেছিলেন এখন কেন মাত্র ৩৫ জনের কথা বলছেন তখন তারা জবাব দেন উনি তো ডাক্তার নন। কারা আহত কারা আহত না সেটা তো আমরা বুঝবো।

সাংবাদিকেরা বার বার ভেতরে ঢুকতে চাইলেও তারা কাউকেই ভেতরে ঢুকতে দেন নি। তারা বলছিলেন যে ভেতরে নাকি আর কেউ নাই। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই খবর এল যে একজন ছাত্র ভেতরে আছে। মাথা ফেটে গেছে। সাংবাদিকেরা রাস্তা থেকে ইমারজেন্সির যে দরজা আছে সেখানে ক্যামেরা তাক করলে পর্দা টেনে দেয়া হয়। এরই মধ্যে ভেতর থেকে খবর পাওয়া গেল যে ওই ছাত্রকে নাকি হাসপাতাল থেকে বলা হয়েছে যে সে যেন বাইরে গিয়ে সাংবাদিকদের বলে যে সে ছাত্র নয়। আন্দোলনে আসেনি। এমনিতেই রিকশা থেকে পড়ে তার মাথা ফেটেছে।

ছাত্রটির নিরাপত্তার স্বার্থে তার নাম পরিচয় কিছুই দিলাম না। ছাত্রটিকে বাইরে বের করা নিয়েও লুকোচুরি চলে। মেইন গেট দিয়ে বের না করে আন্ডারগ্রাউন্ড দিয়ে বের করার চেষ্টা চলে। সেখানে সাংবাদিকেরা দৌড়ে গেলে সেখানেও শাটার নামিয়ে দেয়া হয়। পরে তাকে আরেক গেট দিয়ে বের করে। সেখানে সাংবাদিকদের সামনে ছাত্রটি সম্ভবত নিজ নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে হাসপাতালের শেখানো কথাটিই বলে। কিন্তু সে একটা কথাই বলছিলো শুধু বারে বারে। আমি আমার মায়ের কাছে যাব।

লেখকঃ মাহতাব উদ্দীন আহমেদ, মুক্তিফোরামের বন্ধু

Facebook Comments
Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *