বাসের প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থী মৃত: উন্নয়নের মহাসড়ক লাশের ওপরে তৈরি

খবর: বিমানবন্দর সড়কের কুর্মিটোলা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বাসের চাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের ২ শিক্ষার্থী নিহত হন। দুপুর ১টার দিকে উত্তরাগামী জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাস মিরপুর ফ্লাইওভার থেকে নেমে অন্য আরেকটি বাসের সাথে পাল্লা দিলে কুর্মিটোলা এমন দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন দুই শিক্ষার্থী। নিহত ২ জনই শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর ফ্লাইওভার থেকে নামার পর উত্তরাগামী আরেকটি বাসের সাথে প্রতিযোগিতায় পাল্লা দেয় জাবালে নূর বাসটি। এ সময় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল শিক্ষার্থীরা। বেপরোয়া গতির কারণে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের ওপর তুলে দেন চালক। ঘটনার পরপরই আশপাশের এলাকায় গাড়ি ভাঙচুর করেন ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। এই ঘটনার খবর পাবার সাথেসাথেই ফেসবুকে প্রকাশ হওয়া কিছু মতামত এখানে একত্রে তুলে ধরা হল।

মতামত: এরকম আরো মরবে। থেঁতলায়ে মরবে, পিষে মরবে, মাথার ঘিলু আর রক্ত কালো পিচে রঙ ছড়াবে। আপনি আমি কিছুই করতে পারব না। আপনি আমি এইসব বাস মালিক শ্রমিক সমিতির হাতের পুতুল মাত্র। এক্সিডেন্টের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চাওয়ার পর যেদিন উনাদের নেতা বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সম্রাট উনাদের পিছনে ছাতা নিয়ে দাঁড়ায়া উনাদের হেফাজত করছিলেন সেইদিন থেকেই মায়ের বুক খালি হওয়ার আয়োজন জমজমাট!

বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব তাদের নেতা “সম্রাট নাম বললে চাকরি থাকবে না” যতদিন থাকবেন সর্ষের ভিতরে, ভূত আর বাইরে থেকে এক্সপোর্ট করা লাগবে না। উন্নয়ন এর মহাসড়ক লাশের উপর দিয়া তৈরী হয়। আরো অনেক লাশ পড়বে কালো পিচে। আরো অনেক মায়ের বুক খালি হবে। এক সম্রাট তাজমহল বানাইছিলেন, আরেক সম্রাট লাশের তাজমহল বানাবেন। আপনি আমি বইসা আঙুল চুষতে থাকব আর বিরতিতে আঙুলটা বাইর কইরা রুহের মাগফেরত কামনা করে যাব। ভরসা রাখেন

আশফাক নিপুন

মতামত:

এ জাতি যখন বিশ্বকাপ খেলায় মগ্ন ছিল তখন ঈদযাত্রায় কয়েক সপ্তাহে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে পুরো দেশে ৪০০ জন নিহত হয়েছিল। একদিনেই ৫০ জনের মত। কারও খবর ছিল না, পত্রিকার কোনায় অল্প সংবাদ হয়েছে শুধু নেইমার মেসি এম্বাপোর ছবির আড়ালে। আজকের উত্তরায় তিন স্কুল শিক্ষার্থীদের পিষে ফেলেছে জাবালে নূর বাস। ফ্লাইওভার থেকে নেমে আরেক বাসকে উল্টা পাশ দিয়ে ওভারটেক করতে গিয়ে এ হত্যাকাণ্ড চালায় তারা৷

শিক্ষার্থীরা কোন রাস্তা পার হচ্ছিল না, গাড়িতে ওঠার জন্য রাস্তার পাশেই দাঁড়িয়েছিল তারা। একটা রাষ্ট্র দুর্বৃত্তায়ণের দিকে ধাবিত হলে কীভাবে ঘর থেকে বের হয়ে সন্তান নিরাপদে মায়ের কোলে ফিরে আসে না, এটা তারই খণ্ড চিত্র শুধু। কিছু বলার নাই, শুধু শাজাহান খান নামক ‘মহান নেতা’রা যাদের আদরে আশ্রয়ে আরও মহান হয়ে ওঠেন তাদের প্রতি স্যালুট!

গালিব রাফসান

মতামত:

পায়েল গেলো, পায়েলের আগে হাজেরখানেক পিষে গেছে এই আধা বছরেই। আজকে স্কুলের তিনটা বাচ্চা পিষে গেলো। জঙ্গি, পলিটিকাল হেজার্ড, ইভেন ন্যাচারাল ডিসাসস্টার থেকেও বড় হুমকি এই পরিবহন-মালিক সমিতি। কেউ কিচ্ছু করবেনা, দেশে কোনো ট্রাফিক আইন থাকবেনা। How to get away with murder এর রিয়েল লাইফ ভার্সন হবে এরা, যারা রোড রাশ খেলতে গিয়ে আপনাকে মেরে ফেললে সাজা হবে নূন্যতম।  শুয়োরের বাচ্চাতে ভরে যাওয়া দেশে এইসব বর্বরতা সম্ভব। সবাই ক্ষমতাধর, সবাই অসহায়।

হাসনাত রবি

মতামত:

সড়কে এইসব হত্যাযজ্ঞ বন্ধ হবে কবে? জবাব দাও রাষ্ট্র!!

তারেক মাসুদ,মিশুক মুনীরের পর প্রচুর সংখ্যক মানুষ সড়কে প্রাণ হারিয়েছে,বাস চালকদের বেপরোয়া ভাব থামেনি। এদের থামানোর দায়িত্ব যাদের তারা কি নাকে তেল দিয়ে বসে থাকে? নইলে কেন থামানো যাচ্ছে না বদমাস চালকদের?

আজ রাজধানীর এয়ারপোর্ট সড়কে যে মানুষগুলোকে পিষে মেরে ফেলা হলো রাষ্ট্র তাদের অভিভাবকদের কি জবাব দেবে? এই দেশে তো ওদের এমন মৃত্যু কখনোই কাম্য ছিল না। ঢাকায় বাস করা এখন অপরাধে পরিণত হচ্ছে। এই শহরের পাবলিক পরিবহনের মান দিন দিন নিচের দিকেই নামছে। কেন? অন্যসব দুর্ভোগের কথা নাই বললাম। পরিবহন শ্রমিকদের আজকাল কিছু বলা যায় না। তাদের পেছনে হোমরা চোমরা ব্যক্তিরা আছে৷তারা ওদেরকে প্রটেকশন দেয়। ওইসব হোমরা চোমরা ব্যক্তিরা কি রাষ্ট্রের চেয়েও বেশি শক্তিশালী?

দু-তিনদিন আগে হানিফ পরিবহনের দুর্বৃত্তরা একটা ছেলেকে বাস থেকে নদীতে ফেলে দেয়। কতটা দু :সাহস হলে ওরা এমন কাজ করতে পারে। ওদের এই অসৎ সাহসের উৎস কোথায়?  জবাব দাও রাষ্ট্র!

সড়কে প্রাণ হারানো মানুষদের আত্মা এইসব দুর্বৃত্তদের অভিশাপ দেবে। এই অভিশাপে ওরা একদিন পুড়ে ছারখার হয়ে যাবে। সত্যিই ছারখার হয়ে যাবে।

মামুন রনবির

Facebook Comments
Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *