‘উন্নয়ন’ এর ভারে মৃত প্রায় পূর্ব জুরাইন: বিশেষ রিপোর্ট

১৯৭৮ সাল থেকে পূর্ব জুরাইন ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের আওতায় (৪৭,৮৯ বর্তমানে ৫৩ নং ওয়ার্ড )। ১৯৭৮ থেকে ২০১৮ এই ৪০ বছরে এই ওয়ার্ডে উন্নয়নের নামে কতো টাকা ব্যয় হয়েছে এবং তার ফলাফল কি, সে প্রশ্ন কি আমাদের মগজে একটু হলেও কাজ করবে।

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই হবে বিশেষ করে যারা এই এলাকায় ভবিষ্যতে থাকতে চান।

এসব ছবি বৃষ্টির একদিন পর গতকালকের (জুলাই ২৫, ২০১৮) তোলা, ভারী বৃষ্টির পর অবস্থা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে।

বৃষ্টির পর এলাকার অবস্থা কেমন হয় মূলত সেটাই দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

পুরো এলাকার ভেতর বাহিরের ধ্বংসযজ্ঞ তুলে আনতে পারলে খুব ভালো লাগতো। চেষ্টা থাকবে..

এলাকার প্রধান প্রবেশ পথ
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে জনম জনম ধরে এভাবে ময়লা-আবর্জনা পরে থাকতে দেখা যায়।
তিতাস খাল

নতুন রাস্তা (এখনও উদ্বোধন হয় নাই)। রাস্তার উপরের পানি নিষ্কাশন হতে পারছেনা

মহল্লার এক গলিপথ।
রাস্তা ভাঙ্গা ইট পাথর এভাবেই পড়ে আছে মাসের পর মাস।
এই রাস্তা দিয়ে শুধু মানুষ চলাচল করে তাতেই রাস্তার এই হাল। এখান দিয়ে কোন গাড়ি চললে কি হতো?
নতুন তৈরী হওয়া বক্স ড্রেন। মানুষের আশঙ্কা ড্রেনের ভেতর ময়লা রেখেই কাজ শেষ করা হবে।

এলাকার বেশীরভাগ রাস্তায় তরল বর্জ্য থাকার ফলে কুকুর বিড়াল শুকনা রাস্তার যেখানে সেখানে মল ত্যাগ করছে।

বছর ২-৩ আগের রাস্তা। এমন নয় যে এই অবস্থা আজ তৈরী হয়েছে। রাস্তা করার সপ্তাহখানেক পর থেকেই রাস্তা ক্ষতবিক্ষত হতে থাকে।

 

প্রতিদিনের অবস্থা
পরিত্যক্ত হতে যাওয়া এক বাড়ির গেট
শ্যামপুর শিল্পাঞ্চলের শিল্পের বিষাক্ত পানিতে এলাকার রাস্তাঘাট, বাড়িঘর তলিয়ে আছে। উন্নয়নের নতুন সংযোজন

 

মিষ্টির দোকান
মেডিকেল রোড

মধুমিতা স্টুডিওর উল্টা দিকের গলি
বিক্রমপুর প্লাজার সামনে।

 

বাড়ির ভেতরের অবস্থা
কলেজ রোড
ড্রেনের নোংরা বিষাক্ত পানি এক পাশে অপর পাশে বৃষ্টির পরিষ্কার পানি। এই পানিতে কতো লক্ষ কোটি মশা জন্মায় তার হিসাব কে রাখবে।

নিশ্চয় বহু কষ্ট করে এলাকার বিভিন্ন কষ্টদায়ক পথের নোংরা পানি পায়ে না লাগিয়ে আসতে পারলেও বাসার সামনে এসে অনেকক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে আছেন পানি না পাড়িয়ে বাসায় ঢুকবেন বলে। পেরেছেন কিনা তা দেখার সময় ছিলো না।
আমার দেখা এলাকার কয়েকটা পরিপাটি সুন্দর বাড়ির মধ্যে এই বাড়িটাও ছিলো। আজ কি অবস্থা দেখুন।

এখনও আছে
নিঃশ্বাস ফেলার একখন্ড ..

প্রায় বছর হতে চললো রাস্তার ‘কাজ’ চলছে।
সবুজবাগ খাল কি হলো জানতে ইচ্ছে করে।
কয়েকমাস ধরে এভাবেই রাস্তার ‘কাজ’ ফেলে রেখেছে। মানুষের চলাচল দুর্ভোগের কথা শুনার কোন ‘মানুষ’ নাই
নোংরা বিষাক্ত পানির মধ্যেই শিশুরা খেলছে। পৃথিবীতে এমন ওয়ার্ড আছে কিনা জানা নেই যেখানে ১ ইঞ্চিও মানুষের জন্য খোলা জায়গা নাই ?
রওশন কমিশনার সাহেবের বাড়ির অবস্থা (এরশাদের আমলের ওয়ার্ড কমিশনার)
এই এলাকায় মূলতো নিম্নবিত্তরা এসেছিলো (অবশ্য অনেকেই মধ্যবিত্ত এবং উচ্চ, উচ্চবিত্ত হয়ে কেউ এলাকায় আছেন কেউ নাই)। বাড়িটার দেয়াল দেখুন। নিশ্চয় অনেক ভালোবেসে বাড়িটা করেছিলো, দেয়ালটা তার চিহ্ন বহন করছে।

এলাকার ভেতর একটি বাজারের অবস্থা
এই পথ দিয়ে ওয়ার্ডের হাজার হাজার মানুষ পারাপার হয়..

বাড়ীর আঙ্গিনা
বক্স কালভাটের উপর দিয়ে নতুন করে ড্রের নির্মাণ করা হয়েছে। বক্স কালভাট অকেজো হয়ে ড্রেনের নীচে পরে আছে।

১ কিলোমিটার রাস্তা কেটে গ্যাস লাইন নেয়ার পরে কাটা অবস্থায় এভাবেই ফেলে রাখা হয়েছে। ঠিক করার কারো দায় নেই। প্রতিদিন মানুষ আহত হচ্ছে ভাঙ্গাচোরা রাস্তার কারণে। রিক্সা আটো উল্টিয়ে অনেকেই মারাত্মক আহত হয়েছেন এবং হচ্ছেন..
এলাকায় ঢোকার রাস্তার অবস্থা

কাকলী সংসদ পাঠাগার ভবনের নীচের অবস্থা।
নতুন তৈরী হওয়া বক্স ড্রেন (এখনও উদ্বোধন হয় নাই)। ভোগান্তি শুরু হয়ে গেছে মানুষের

ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের কাদা এভাবেই ড্রেন দিয়ে এলাকায় প্রবেশ করছে।
রাস্তার কোন কিছু ভেঙ্গে গেলে তার কি অবস্থা হয় তার উদাহরণ এই ক্রসড্রেন এবং ড্রেনের উপর স্লাব।

এ অবস্থায় একটা এলাকায় মানুষ কি করে বসবাস করে ?

রাস্তা অলিগলি ছাড়া ছোট বড় সব মানুষের কোনরকম নিশ্বাস ফেলার জায়গা নাই। এখানে হাজার হাজার শিশু কিশোররা বড় হচ্ছে কোন রকম ঘরের বাহিরের খেলাধুলা বিহীন।

এর ভবিষ্যৎ প্রভাব কি ?

লেখা ও ছবিঃ মিজানুর রহমান

Facebook Comments
Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *