ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে চাহিয়া আবেদন: আখতারুজ্জামান আজাদ

বরাবর
উপাচার্য
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ঢাকা—১০০০

বিষয় : বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে প্রবেশের জন্য আবেদন

জনাব,
সবিনয় নিবেদন এই যে, গত ৯ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালকের স্বাক্ষরিত একটি সংবাদবিজ্ঞপ্তি মারফত অবগত হয়েছি— ‘এখানে বহিরাগতরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ/প্রক্টরের পূর্বানুমতি ছাড়া ক্যাম্পাসে অবস্থান ও ঘোরাফেরা এবং কোনো ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না।’ আমি ২০০৬-০৭ শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের একজন শিক্ষার্থী ছিলাম এবং হাজি মুহম্মদ মুহসিন হলে অনাবাসিক ছাত্র হিশেবে সংযুক্ত ছিলাম। প্রাক্তন হয়ে যাওয়ায় আইন অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি বহিরাগত। তবুও ভিতরে-বাহিরে অন্তরে-অন্তরে আছি আমি হৃদয়জুড়ে।

সম্প্রতি আমার এক দূরসম্পর্কের প্রাক্তন প্রেমিকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলের বাংকার থেকে আল-কায়েদা আল-শাবাব স্টাইলে আমার বিরুদ্ধে জঙ্গিদের মতো উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন এবং আমার নামে গুজব ছড়াচ্ছেন। আমি যখনই ওনার বক্তব্যের পালটা জবাব দিতে গিয়েছি, উনি বারবারই একটি কথাই বলছেন, ‘সব সাজানো, সবই ওর সাজানো গল্প, কেউ আখতারুজ্জামান আজাদের ‘উসকানিমূলক গল্প’ বিশ্বাস করবেন না।’ আমার ধারণা আমার প্রতি ওনার পুরোনো প্রেম মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে এবং আমাকে ফিরে পাওয়ার অসৎ উদ্দেশ্য নিয়েই তিনি এ ধরনের রাষ্ট্রবিরোধী অস্থিতিশীল আচরণ করছেন। আমি গিয়ে ওনার থুতনি ধরে দুটো মৃদু ঝাঁকি দিলেই উনি পরাজিত শক্তির মতো আমার সামনে নতজানু হবেন, মোমের মতো গলে পড়বেন, লাউয়ের ডগার মতো ঢলে পড়বেন এবং ডিনের পথে ফিরে আসবেন।

পরক্ষণেই যদি তিনি আমাকে আকূল আলিঙ্গনে আবদ্ধ করতে চান, মাতোয়ারা হতে চান অধরসঙ্গমে; আমি তাকে আইনের হাতে সোপর্দ করার জন্য থানায় নিয়ে যাব। থানার নেওয়ার পথেই রিকশার হুড আটকে যা করার, করব এবং কানের কাছে মুখ নিয়ে ফুঁ দিয়ে চুল সরিয়ে কোমল কণ্ঠে বলব— ফের যদি পাই তোমার দেখা ভিন্ন কোনো গ্রহে, সেথাও আমি চাইব তোমায় চুম্বন এবং দ্রোহে; জগৎজুড়ে আঁধার যখন, জগৎ যখন ঘুমোয়; জলের তোপে জ্বালব আগুন চারদলীয় চুমোয়। উনি আমাকে ‘যাহ্ দুষ্টু’ বলে প্রতিহত করতে চাইলে আমিও ওনাকে ‘যাহ্ জঙ্গি’ বলে সমুচিত জবাব দেবো এবং ‘বিয়ের আগে এসব কী’ বলার আগেই ওনার সবকিছু আমি বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধন করব। উল্লেখ্য যে, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আমরা কিছুই করব না। ক্যাম্পাসে আমি বেশি সময়ও নেব না। যাব আর আসব।

আবেদনটি প্রক্টর বরাবরও করতে পারতাম। আপনি-আমি একই গ্রামের বিধায় প্রক্টরকে না পুঁছে আমি আপনারই শরণাপন্ন হলাম। উপরন্তু নামঘটিত সাদৃশ্যহেতু আপনি আমার মিতাও বটে। নামে-নামে যমে টানে বলে শুনেছি। আপনি আমাকে নামে-নামে ও গ্রামে-গ্রামে ক্যাম্পাসে টানবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছি।

অতএব, হৃদয়ঘটিত টানাপোড়েন বিবেচনাপূর্ব পাঁচ মিনিটের জন্য আপনি আমাকে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে অবস্থানের অনুমতি দিলে যারপরনাই কৃতজ্ঞ থাকব এবং আপনাকে বিশ্বের তৃতীয় শ্রেষ্ঠ উপাচার্য হিশেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য বিদেশী পত্রিকাগুলোর কাছে তদবির করব।

নিবেদক
আপনার একান্ত বহিরাগত
আখতারুজ্জামান আজাদ

সংযুক্তি :
১. জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি
২. কাউন্সিলর ও স্থানীয় ছাত্রলিগ সভাপতি প্রদত্ত চারিত্রিক সনদপত্র
৩. চার কপি ছবি (পাসপোর্ট সাইজ)
৪. তিন কপি ছবি (স্ট্যাম্প সাইজ)
৫. পাঁচশো টাকার ব্যাংক ড্রাফট
৬. বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিপরীক্ষার প্রবেশপত্র ও পে-ইন স্লিপ
৭. লাইব্রেরি কার্ড ও মেডিকেল কার্ড
৮. পিতা-মাতার কাবিননামা, আয়ের সনদপত্র ও ডিএনএ রিপোর্ট
৯. কাতলমাছ পাঁচ কেজি (সম্পূর্ণ নিজস্ব পুকুরের)
১০. আম বিশ কেজি (সম্পূর্ণ নিজস্ব গাছের)
১১. পাঞ্জাবি দুইটি (স্মল সাইজ)
১২. গাভীবিত্তান্ত (এক কপি)

Facebook Comments
Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *